তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং অমিত শাহকে 'বাংলা-বিরোধী জমিদার' বলে আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এঁরা শুধু ভোটের জন্য বাংলায় আসেন, কিন্তু রাজ্যের বিপদের সময় তাঁদের দেখা পাওয়া যায় না। এর বিপরীতে তৃণমূলের 'মা-মাটি-মানুষের সরকার' কোনও দাবি ছাড়াই মানুষের পাশে থাকে বলে তিনি জানান।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে একহাত নিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মোদী-শাহকে 'বাংলা-বিরোধী জমিদার' বলে কটাক্ষ করে বলেন, এঁরা মানুষের কাছে ভোট চাইতে আসেন, কিন্তু তার বদলে কিছুই দেন না।

বিজেপি বাংলার অবহেলা করছে, অভিযোগ অভিষেকের

কোচবিহারের নির্বাচনী প্রচারের একটি ভিডিও নিজের 'X' হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন অভিষেক। সেখানে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তৃণমূলের 'মা-মাটি-মানুষের সরকার' কোনও দাবি ছাড়াই মানুষের জন্য কাজ করে। তিনি লিখেছেন, "কোথায় ছিলেন তাঁরা? কোথাও না। কারণ তাঁরা মানুষের জন্য আসেননি, এসেছিলেন ভোটের জন্য। একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসই সব পরিস্থিতিতে, সব সময়ে, কোনও শর্ত বা হিসাব ছাড়াই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ওই বাংলা-বিরোধী জমিদাররা কিছু না দিয়েই আপনার ভোট চায়। আর আমাদের মা-মাটি-মানুষের সরকার কোনও দাবি ছাড়াই মানুষের জন্য কাজ করে।"

অভিষেক আরও বলেন, এটা খুবই অদ্ভুত যে নরেন্দ্র মোদী আর অমিত শাহ শুধু ভোটের আগেই ভারতের ম্যাপে পশ্চিমবঙ্গকে খুঁজে পান। তিনি বলেন, "তাঁরা মিথ্যের সুটকেস, ক্যামেরা আর টেলপ্রম্পটার নিয়ে বাংলায় হাজির হন, বড় বড় ভাষণ দেন, দারুণ সব প্রতিশ্রুতি দেন। তারপরই উধাও হয়ে যান। কিন্তু উত্তরবঙ্গের বন্যার সময় তাঁরা কোথায় থাকেন? যখন এখানকার নাগরিকদের NRC নোটিশ ধরানো হয়? যখন আসল ভোটারদের হেনস্থা করা হয়? যখন কেন্দ্রীয় সরকার চা বাগানের শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা দেয় না? বা যখন কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে সাধারণ মানুষ মারা যায়?"

তৃণমূলকে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি মোদীর

প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল কোচবিহারের এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ৪ মে ভোটের ফল বেরোনোর পর তৃণমূলকে তাদের 'পাপের' হিসাব দিতে হবে। তিনি আশ্বাস দেন যে বিজেপি সরকার রাজ্যে উন্নয়ন করবে এবং অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াবে। ওই সভায় মোদী বলেন, "কোচবিহারের এই বিশাল জনসমাগম বুঝিয়ে দিচ্ছে যে তৃণমূল কংগ্রেসের দিন শেষ হয়ে গিয়েছে।" পশ্চিমবঙ্গে ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে এবং ৪ মে ভোট গণনা করা হবে।