Aroop Biswas News: সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে এবার বিস্ফোরক দাবি প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের। চিঠিও দিলেন ব্যাঙ্ককে। কী বলছেন তিনি? বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।
Aroop Biswas News: সময় যত গড়াচ্ছে ততই একের পর এক প্রকাশ্যে আসছে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতি, অপরাধের খবর। বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ বিধাননগর থানায় হাজিরা দিয়েছেন মেসিকাণ্ডে তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (aroop biswas)। আর তারই মধ্যে প্রকাশ্যে এলো আরও বড় একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্রের খবর, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা সবধরনের লেনদেন বন্ধ করার জন্য HDFC ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় চিঠি পাঠিয়েছেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। সূত্রের খবর, চলতি মাসের গত ১২ জুন এই চিঠি পাঠানো হয়। ব্যাঙ্কের তরফে তা ১৬ জুন গ্রহন করা হয়।

চিঠিতে কী লিখেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস?
সূত্র মারফত খবরে জানা গিয়েছে যে- HDFC ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে পাঠানো ওই চিঠিতে অরূপ বিশ্বাস লিখেছেন তার আশঙ্কার কথা। তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, বিধানসভা ভোটে শোচনীয় ভাবে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যান্তরীণ বিবাদ প্রকট হয়ে উঠেছে। দলের ভিতরে ও বাইরে সাংসদ-বিধায়ক থেকে শুরু করে নেতা প্রাক্তন মন্ত্রীরা বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন। তৃণমূলের এই অরাজকতা পরিস্থিতিতে দলের রাশ নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের যে কোষাগার তা দেখভালে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দলের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আপাতত কিছুদিন লেনদেন বন্ধ রাখার জন্য এইচডিএফসি ব্যাঙ্ককে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। কারণ, দলের কর্তৃত্ব-পরিচালনার দায়িত্ব ও সম্পদ কার হাতে থাকবে তা নিয়েও শুরু হয়েছে তীব্র বিবাদ। আর এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে অরূপের এই চিঠি বলে মনে করা হচ্ছে।
সই করা চিঠির অপব্যবহার রুখতে দ্রুত পদক্ষেপের আর্জি অরূপের
দলের কাজকর্ম ও টাকাপয়সা ব্যবহারের জন্য কিছু চেকে অগ্রিম সই করা থাকে। সেইগুলি অন্য কারও হাতে চলে গেলে বেআইনি ভাবে টাকা তুলে নেওয়া হতে পারে। বা অবৈধ লেনদেন হতে পারে। সেই শঙ্কায় অতিদ্রুত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। তৃণমূল সূত্রে খবর, দলের ভিতরের এই বিবাদের কোনও আইনি বা উপযুক্ত সমাধান হচ্ছে, ততক্ষণ যেন এই অ্যাকাউন্টের সমস্ত রকম ডেবিট লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়। সেটাও উল্লেখ করা হয়েছে অরূপের ওই চিঠিতে।
এদিকে খোদ দলেরই কোষাধ্যক্ষের তরফে এই চিঠি পাঠানো ঘিরে শুরু হয়েছে দলীয় কোন্দল। অরূপের এই চিঠিতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজকর্ম এবং তাদের ভূমিকা যে প্রশ্নের মুখে তা বলাই বাহুল্য। কারণ, অরূপের চিঠি পাঠানোতে দলের ভিতরেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন মমতা-অভিষেক। এই অবস্থায় তিলে তিলে গড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্টির ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। দলের ভিতরে ও বাইরে চলছে জোর জল্পনা-কল্পনা এবং রাজনৈতিক তরজা।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


