পুলিশ আর সাধারণ মানুষের সম্পর্ক আরও মজবুত করতে কলকাতা পুলিশের বিজয়া সম্মিলনীর উদ্যোগকে সমর্থন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি মাদক ও বাল্যবিবাহ রুখতে জোরদার প্রচারের কথাও বলেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বৃহস্পতিবার পুলিশ আর সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত করতে কলকাতা পুলিশের 'বিজয়া সম্মিলনী' উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মাদকাসক্তি এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে এই ধরনের জনসংযোগ কর্মসূচি খুবই জরুরি।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা

শুভেন্দু অধিকারী জানান, এই ধরনের অনুষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গের একটা পুরনো ঐতিহ্য। পুলিশ আর জনতার মধ্যে বোঝাপড়া বাড়াতে গোটা রাজ্যেই এমন কর্মসূচির আয়োজন করা উচিত। তিনি বলেন, "পুলিশ-জনতা সম্পর্ক আরও মজবুত করতে কলকাতা পুলিশ একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। এটা পশ্চিমবঙ্গের একটা ঐতিহ্য। গোটা রাজ্যেই এমনটা হচ্ছে। আর এটা হওয়াও উচিত। পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক যত ভালো হবে, ততই সবার জন্য মঙ্গল।"

পুলিশের উদ্যোগের প্রশংসা

মুখ্যমন্ত্রী মাদক ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সচেতনতা প্রচারের কথাও তুলে ধরেন। তিনি এই বিষয়গুলো নিয়ে সাধারণ মানুষকে জানানো যে কতটা দরকার, সেই বিষয়েও জোর দেন। তাঁর কথায়, "এখন 'নেশামুক্তি' অভিযান চলছে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ বিরোধী প্রচারও চলছে। সাধারণ মানুষকে এই বিষয়ে সচেতন করতে হবে।" মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ-জনতা অনুপাতের কথা মাথায় রেখে বলেন, সাধারণ মানুষের সচেতনতা আর সহযোগিতা ছাড়া পুলিশের পক্ষে সব দায়িত্ব সামলানো বেশ কঠিন।

শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, "জনতা আর পুলিশের অনুপাত হলো ১ লাখ:১০৫। এভাবে একা পুলিশের পক্ষে সব সামলানো সম্ভব নয়। তাই সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে হবে, আর এই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে।"

মুখ্যমন্ত্রী এদিন সকালেই উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে দেবীর সাজে সজ্জিত শিশুদের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর তিনি কর্ণজোড়া অডিটোরিয়ামে একটি প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন।

ওই বৈঠকে জেলার সার্বিক উন্নয়ন, সরকারের নানা প্রকল্পের অগ্রগতি এবং প্রশাসনের কাজকর্ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় (সিএমও) সূত্রে খবর, শুভেন্দু অধিকারী এদিন উত্তর দিনাজপুরের কর্ণজোড়ার তিস্তা ময়দানে রাজ্য সরকারের বিশেষ জনকল্যাণমূলক পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানেও যোগ দেন। সরকারি সুবিধাগুলো যাতে আরও ভালোভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিষেবা যাতে আরও কার্যকরভাবে দেওয়া যায়, সেটাই ছিল এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।