- Home
- West Bengal
- Kolkata
- বাংলার সরকারি কর্মীদের মুখে হাসি! মার্চেই আসছে বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি: কার পকেটে কত ঢুকবে?
বাংলার সরকারি কর্মীদের মুখে হাসি! মার্চেই আসছে বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি: কার পকেটে কত ঢুকবে?
পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মীদের জন্য বড় খবর! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মার্চ ২০২৬-এই মিলছে বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি। কার বেতনে কত টাকা বাড়বে এবং কীভাবে মিলবে বকেয়া, বিস্তারিত জানুন এই প্রতিবেদনে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) পেতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ ও রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তির পর, চলতি মার্চ মাসেই বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার পর নবান্নের অর্থ দফতর ইতিমধ্যেই এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছে, যার ফলে রাজ্যের প্রায় ১২ লক্ষ বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মী উপকৃত হবেন।
বকেয়া মেটানোর সময়সীমা ও কিস্তি: সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী, মোট বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে। রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি (No. 996-F(P2)) অনুসারে, প্রথম পর্যায়ে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ হিসাব করা হয়েছে।
এই চার বছরের বকেয়া দুই কিস্তিতে দেওয়া হবে— যার প্রথম কিস্তি মিলবে এই মার্চ মাসেই এবং দ্বিতীয় কিস্তি দেওয়া হবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে।
কার প্রাপ্য কত? হিসাবের খতিয়ান: বকেয়া টাকার পরিমাণ নির্ভর করছে কর্মীর তৎকালীন মূল বেতনের (Basic Pay) ওপর। নবান্ন সূত্রে প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী:
যাঁদের মূল বেতন ৭,০০০ টাকা (দুটি ইনক্রিমেন্ট সহ), তাঁদের ২০১৬-২০১৯ পর্বের মোট বকেয়া প্রায় ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৪০০ টাকা। এর অর্ধেক অর্থাৎ প্রায় ৭৪,৭০০ টাকা তাঁরা মার্চ মাসেই পেতে পারেন। ২০০৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তাঁদের মোট বকেয়া হতে পারে প্রায় ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৮৯০ টাকা।
১০,০০০ টাকা মূল বেতনের কর্মীদের মোট বকেয়া প্রায় ৪ লক্ষ ৫৭ হাজার ১৪০ টাকা হতে পারে।
যাঁদের মূল বেতন ১৫,০০০ টাকা, তাঁদের মোট বকেয়া ৬ লক্ষ ৮৫ হাজার ৭২০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
প্রাথমিক শিক্ষকদের ক্ষেত্রে, ২০০৮ সালে যাঁদের মূল বেতন ২৫,০০০ টাকা ছিল, তাঁদের মোট বকেয়া ৩ থেকে ৫ লক্ষ টাকার মধ্যে হতে পারে, যার ২৫ শতাংশ কিস্তি হিসেবে তাঁরা ৭৫,০০০ থেকে ১.২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন।
টাকা পাওয়ার পদ্ধতি: টাকা প্রদানের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার 'ইন্টিগ্রেটেড ফিনান্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম' (IFMS)-এর তথ্য ব্যবহার করছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী: ১. গ্রুপ এ, বি এবং সি কর্মীদের বকেয়া টাকা তাঁদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (GPF) অ্যাকাউন্টে জমা হবে। ২. গ্রুপ ডি কর্মী এবং পেনশনভোগীদের টাকা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদ হিসেবে দেওয়া হবে। ৩. সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরাও এই সুবিধার আওতাভুক্ত।
রাজ্য সরকার সম্প্রতি আর্থিক সংকটের দোহাই দিয়ে সুপ্রিম কোর্টে সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানালেও, আদালতের নির্দেশ মেনে এই প্রাথমিক কিস্তি প্রদানের কাজ জোরকদমে চলছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের পর সরকারি কর্মীদের হাতে মোটা অঙ্কের টাকা আসার পথ প্রশস্ত হলো।

