Sharadwat Mukherjee News: এ বছর মেডিক্যাল কলেজগুলির শিক্ষক, অধ্যক্ষ, মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট কাম ভাইস প্রিন্সিপাল (এমএসভিপি), নন-মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট এবং সাফাইকর্মীরা কাজে ফিরেছেন। অন্যান্য সরকারি দফতরের কর্মীদের মতো তাঁরাও দায়িত্ব পালন করছেন। বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।
Sharadwat Mukherjee News: আগামী বছর থেকে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি হাসপাতালগুলিতে দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী থেকে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত টানা ছুটির প্রচলিত রীতি বন্ধ হতে চলেছে। এমনই ঘোষণা করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, স্বাস্থ্যকর্মীরা জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত। তাই অন্যান্য সরকারি দফতরের মতো দীর্ঘ ছুটি তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে না।
স্বাস্থ্য মন্ত্রীর দাবি, স্বাধীনতার পর থেকেই রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত কার্যত ছুটির পরিবেশ চলে আসছে। তবে আগামী বছর থেকে এই প্রথা বন্ধ করা হবে। তিনি বলেন, “আগামী বছর থেকে ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটি বন্ধ হওয়া উচিত। ১৯৪৭ সাল থেকে এই প্রথা চলে আসছে।”
মন্ত্রী আরও জানান, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী—এই চার দিন বিশেষ ডিউটি রোস্টার চালু থাকবে। চলতি বছরেও যেসব কর্মী ছুটিতে রয়েছেন, তাঁদের কাজে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তাঁর বক্তব্য, এ বছর মেডিক্যাল কলেজগুলির শিক্ষক, অধ্যক্ষ, মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট কাম ভাইস প্রিন্সিপাল (এমএসভিপি), নন-মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট এবং সাফাইকর্মীরা কাজে ফিরেছেন। অন্যান্য সরকারি দফতরের কর্মীদের মতো তাঁরাও দায়িত্ব পালন করছেন।
নন-মেডিক্যাল কর্মীদের জন্য বিশেষ ডিউটি রোস্টার
স্বাস্থ্য মন্ত্রী জানান, চলতি বছর থেকে চার দিনের বিশেষ ডিউটি রোস্টার চালু করা হয়েছে, যা আগামী বছরও কার্যকর থাকবে। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমীতে নন-মেডিক্যাল কর্মীদের প্রায় ৫০ শতাংশকে কাজে রাখা হবে। তবে চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য নির্দিষ্ট কোনও উৎসবকালীন রোস্টার থাকবে না। হাসপাতালের প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের ডিউটি করতে হবে।
স্বাস্থ্য ভবনে মেডিক্যাল কলেজগুলির অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী। সেখানে নিজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কর্তাদের দৃঢ় থাকার বার্তাও দেন তিনি। সূত্রের খবর, তিনি বলেন, যাঁরা ‘মেরুদণ্ড সোজা রেখে’ কাজ করতে পারবেন না, তাঁদের পদে থাকার প্রয়োজন নেই।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে চিকিৎসক মহলের একাংশে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ‘মেরুদণ্ড সোজা রেখে’ কাজ করার অর্থ কি সরকারের নির্দেশ মেনে চলা, নাকি প্রশাসনিক ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
পাশাপাশি, সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে কথিত ভয় দেখানোর সংস্কৃতি এখনও রয়েছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকদের একাংশ। ফলে পুজোর ছুটি নিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের নতুন সিদ্ধান্তের পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বাধীনতা ও হাসপাতালের কর্মপরিবেশের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে।


