MAMATA BANERJEE: রবিবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির গাড়িতে পাথর ছোড়ার অভিযোগ ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূল এই ঘটনার জন্য বিজেপিকে দায়ী করলেও, গেরুয়া শিবির সব অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার নিন্দা করেছে।

রবিবার দুপুর থেকেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে পাথর ও অন্যান্য জিনিস ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে জোরদার অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায়, সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি লক্ষ্য করে বারবার পাথর ছোড়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা ছিল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, "এমন একটা সেকেন্ডও ছিল না যখন পাথর ছোড়া হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করার জন্যই প্রতি মুহূর্তে পাথর ছোড়া হচ্ছিল।" কল্যাণবাবু এই ঘটনাকে "খুনের চেষ্টা" বলে বর্ণনা করেন এবং অভিযোগ করেন যে, ঘটনাস্থলে শয়ে শয়ে বিজেপি কর্মী উপস্থিত থাকলেও পুলিশ "নীরব দর্শকের ভূমিকা" পালন করেছে। তিনি বলেন, "শয়ে শয়ে বিজেপি কর্মী সেখানে ছিল, আর পুলিশ একেবারে নীরব দর্শকের মতো দাঁড়িয়েছিল।" এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেত্রী দোলা সেন বলেন, পুলিশি হেফাজতে মৃত এক দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মমতা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "আমাদের এক কর্মী পুলিশি হেফাজতে মারা গিয়েছেন, যা একপ্রকার লকআপ ডেথ। তাঁর স্ত্রী একজন কাউন্সিলর। আপনারাই বলুন, সাধারণ মানবিকতার খাতিরে আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন না?"

দোলা সেন

দোলা সেনের অভিযোগ, এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিরই প্রতিফলন। তাঁর দাবি, প্রশাসনই এই ধরনের ঘটনা ঘটতে দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, "ওরা পরিকল্পিতভাবে দিদির উপর হামলা চালিয়েছে... বিজেপির গুন্ডা আর পুলিশ সামনে দাঁড়িয়ে আধলা ইট, পাথর ছুড়ছিল। দিদির গাড়ির কাচ ভেঙে গিয়েছে।" তিনি আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সফর কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, তিনি শুধু মৃত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। দোলা সেনের মতে, এই ঘটনার পর রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের ভাবা উচিত।

শমীক ভট্টাচার্য

অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই ঘটনায় দলের জড়িত থাকার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি মমতার গাড়িতে পাথর ছোড়ার ঘটনার নিন্দাও করেছেন। শমীকবাবু বলেন, "আমি স্পষ্ট করে বলছি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে কাদা, পাথর বা চটি ছোড়ার ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। মুখ্যমন্ত্রী হোন বা অন্য কোনও মহিলা নেত্রী, কারও গাড়িতে পাথর ছোড়াকে বিজেপি সমর্থন করে না; আমরা এই ধরনের ঘটনার নিন্দা করি।" তিনি বলেন, যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তবে পুলিশ উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল জনগণের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। শমীক ভট্টাচার্য আরও বলেন, "এখানে যা হচ্ছে তা তৃণমূলের সঙ্গে জনগণের সংঘাত। মুখ্যমন্ত্রী হোন বা অন্য কোনও মহিলা নেত্রী, কারও গাড়িতে পাথর ছোড়াকে বিজেপি সমর্থন করে না; আমরা এই ধরনের ঘটনার নিন্দা করি।"

অগ্নিমিত্রা পল

রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও এই হামলার নিন্দা করে বলেছেন, তিনি বা বিজেপি বা রাজ্য সরকার কেউই এই ধরনের কাজ সমর্থন করে না। তিনি বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক ভুল করতে পারেন বা অনেক অন্যায় করতে পারেন, কিন্তু বিশেষ করে একজন মহিলা, এবং একজন বয়স্ক মহিলার বিরুদ্ধে এই ধরনের আচরণ আমরা কখনওই সমর্থন করতে পারি না। যদি কেউ বিজেপির নাম করে এই কাজ করে থাকে, তবে তারা ভুল করছে।" প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উত্তর ২৪ পরগনায় এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে। তাঁর সঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দোলা সেনও ছিলেন। ভিড়ের মধ্যে থেকে "চোর ভাগাও" স্লোগানও শোনা যায়।