- Home
- West Bengal
- Kolkata
- ককপিটে তীব্র আলোর ঝলকানি! দিকভ্রান্ত পাইলট...বিরাট দুর্ঘটনা থেকে বাঁচল কলকাতা বিমানবন্দর, ঠিক কী হয়েছিল?
ককপিটে তীব্র আলোর ঝলকানি! দিকভ্রান্ত পাইলট...বিরাট দুর্ঘটনা থেকে বাঁচল কলকাতা বিমানবন্দর, ঠিক কী হয়েছিল?
অল্পের জন্য এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেল কলকাতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। অবতরণের মুখেই অন্ধকার! লেজার আলোয় দিকভ্রান্ত পাইলট, অলৌকিকভাবে বাঁচলেন ১৫৯ জন যাত্রী। ঠিক কী ঘটেছিল তখন?

রাতের আকাশে রানওয়ের কাছাকাছি পৌঁছাতেই ককপিটে আছড়ে পড়ল তীব্র আলোর ঝলকানি! নিমেষের জন্য দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়লেন পাইলট। অল্পের জন্য এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেল কলকাতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

১৬৬ জন যাত্রী ও কেবিন ক্রু নিয়ে এয়ারপোর্টের আকাশে একাধিকবার চক্কর কাটার পর শেষমেশ নিরাপদে নামতে সক্ষম হয় মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান।
এই বিপজ্জনক ঘটনার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে অবিলম্বে এনএসসিবিআই (NSCBI) থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে কুয়ালালামপুর থেকে ১৬৯ জন যাত্রী ও ৭ জন ক্রু মেম্বার নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের (Malaysia Airlines) ‘এমএইচ-১৮৪’ (MH-184) বিমানটি। রাত ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ কলকাতার রানওয়েতে নামার কথা ছিল বিমানটির।
রানওয়ে থেকে মাত্র আট নটিক্যাল মাইল দূরে থাকতে বিপত্তি ঘটে। মধ্যমগ্রাম ও বারাসত এলাকা থেকে একটি তীব্র লেজার আলোর রশ্নি সরাসরি আছড়ে পড়ে বিমানের ককপিটে।
চোখের পলকে আলোর তীব্রতায় পাইলটের পথ দেখতে সমস্যা হয়। ঝুঁকি না নিয়ে অভিজ্ঞ পাইলট দ্রুত সিদ্ধান্ত বদলে বিমানটিকে রানওয়েতে না নামিয়ে আকাশের দিকে তুলে নিয়ে চক্কর কাটতে থাকেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে রাত ১১টা ২৫ মিনিটে বিমানটি নিশ্চিতভাবে অবতরণ করে ৫৭এল নম্বর পার্কিং বে-তে দাঁড়ায়। এতে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন বিমানবন্দরে উপস্থিত কর্মকর্তা ও যাত্রীরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লেজার রশ্মির তীব্র আলো পাইলটের চোখে পড়লে তিনি সাময়িক অন্ধত্ব (Flash Blindness)-এর শিকার হতে পারেন, যা বিশেষ করে অবতরণের মুহূর্তে অত্যন্ত মরণঘাতী প্রমাণিত হতে পারে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বিমানবন্দরের আশেপাশের এলাকায় লেজার আলোর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ও কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও, নজরদারির ফাঁক গলে কীভাবে ফের মধ্যমগ্রাম-বারাসত এলাকায় এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

