Abhishek Banerjee: তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট-পরবর্তী হিংসার শিকার পরিবারদের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। ৩০ মে থেকে তাঁর এই সফর শুরু হচ্ছে। ভোটের এই প্রথম কোনও কর্মসূচিতে যাচ্ছেন অভিষেক 

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সঙ্গে দেখা করবেন। তৃণমূলের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে ভোটের পর হিংসার ঘটনা এখনও থামেনি, বরং বেড়েই চলেছে। অভিষেক তার এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে দাবি করেছে যে, গত ১৬ মে সুন্দরবন সাংগঠনিক জেলায় বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীরা তৃণমূলের জেলা পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালিয়েছে। অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং হার্ডডিস্ক নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো প্রমাণ না থাকে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

তৃণমূলের অভিযোগ

তৃণমূল আরও অভিযোগ করেছে যে, বিধায়কদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে তাঁরা যেন পুলিশের কাছে না যান। এমনকী তাঁদের বাড়িও আক্রমণ করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দলের কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে ভয় দেখিয়ে বাড়িতে একপ্রকার আটকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ।

অভিষেকের কর্মসূচি

তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রের খবর, ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে এই কর্মসূচি। শনিবার অভিষেক যাবেন সোনারপুর দক্ষিণ ও বেলাঘাটা বিধানসভা এলাকায়। সোনারপুরে আক্রান্ত সঞ্জু কর্মকার ও বেলেঘায় আক্রান্ত বিশ্বজিৎ পট্টনায়কের সঙ্গে দেখা করবেন। বিধানসভায় ভোট বিপর্যয়ের পর তেমনভাবে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি অভিষেককে। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন অফিসের কর্মসূচিতেই তিনি উপস্থিত থাকতেন। এবার তিনি বাইরের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন বলেও তৃণমূল সূত্রের খবর।

হিংসা নিয়ে সরব অভিষেক

ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগের রেশ ধরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এক্স হ্যান্ডেলের একটি পোস্টে জানান, দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি এলাকায় সাঁওতাল বিদ্রোহের কিংবদন্তী নায়ক সিধু ও কানহু মুর্মুর মূর্তি ভাঙা হয়েছে। এই ঘটনাকে "লজ্জাজনক ও অত্যন্ত উস্কানিমূলক" বলে উল্লেখ করে অভিষেক অভিযোগ করেন, এটি সরাসরি আদিবাসীদের গর্ব, ইতিহাস এবং বাংলার জনজাতি সম্প্রদায়ের পরিচয়ের উপর আক্রমণ। তিনি আরও দাবি করেন, যারা আদিবাসীদের কল্যাণের নামে ভোট চাইতে আসে, তারাই আদিবাসী সমাজের পূজিত প্রতীকদের বারবার অপমান করা হলে চুপ করে থাকে। অভিষেক আরও বলেন, বাংলা এই ধরনের হিংসা ও অপমান সহ্য করবে না। যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিতেই হবে।

অভিষেক এক্স পোস্টে লেখা হয়েছে, "লজ্জাজনক ও অত্যন্ত উস্কানিমূলক। দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি এলাকায় সাঁওতাল বিদ্রোহের কিংবদন্তী নায়ক সিধু ও কানহু মুর্মুর মূর্তি ভাঙা হয়েছে। এটা শুধু ভাঙচুর নয়। এটা সরাসরি আদিবাসী গর্ব, ইতিহাস এবং বাংলার জনজাতি সম্প্রদায়ের পরিচয়ের উপর আক্রমণ। যারা আদিবাসীদের কল্যাণের নামে ভোট চাইতে আসে, তারাই আদিবাসী সমাজের পূজিত প্রতীকদের বারবার অপমান করা হলে চুপ করে থাকে। বাংলা ঘৃণা ও অপমানের এই রাজনীতি সহ্য করবে না। এই লজ্জাজনক কাজের জন্য যারা দায়ী, তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে!"

পুলিশের পদক্ষেপ

এদিকে, রাজ্যের পুলিশ ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) সিদ্ধনাথ গুপ্ত জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি শান্ত করতে ৩০০ জনেরও বেশি লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৩ জনকে নির্দিষ্ট মামলায় এবং ১১০০ জনের বেশিকে প্রতিরোধমূলক ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলে নিয়ে আইনশৃঙ্খলার কাজে লাগানো হয়েছে। তবে, ইয়েলো বুক প্রোটোকল অনুযায়ী একজন সাংসদের জন্য প্রয়োজনীয় জেড+ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা আগের মতোই রয়েছে।

ডিজি বলেন, "৩০০-র বেশি গ্রেপ্তারের ফলে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৩টি নির্দিষ্ট মামলা এবং ১১০০-র বেশি প্রতিরোধমূলক ধারায় গ্রেপ্তার রয়েছে। একজন সাংসদের জেড+ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা প্রত্যাহারের যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়েও স্পষ্ট করা হয়েছে। অতিরিক্ত, অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা তুলে নিয়ে আইনশৃঙ্খলার কাজে লাগানো হলেও, ইয়েলো বুক অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জেড+ নিরাপত্তা বহাল রয়েছে।"