Nepal Flash Flood Uopdate: ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক রোষের মুখে নেপাল। নেপালে বিপর্যয়ে নিখোঁজ কলকাতা সহ বাংলার একাধিক জেলার মোট ৩২ জন পর্যটক। কী বলছে প্রশাসন? বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।

Nepal Flash Flood Uopdate: বুধবার সকাল পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও দুপুরের পর থেকে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ কাটল আচমকা হড়পা বানে। বিধ্বস্ত ভারতের প্রতিবেশী দেশ নেপাল। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছুঁয়েছে ১৫৭। তার মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় নিখোঁজ নেপালে গিয়ে। মানস সরোবরের উদ্দেশে রওনা দিয়ে কলকাতা থেকে নিখোঁজ পর্যটন সংস্থার ২ কর্মী সহ মোট ৩২ জন। সূত্রের খবর, নেপালের হড়পা বানে নিখোঁজ বাংলার বহু পর্যটক।

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের জেরে এবার উদ্বেগে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পরিবার:-

জানা গিয়েছে, মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে কলকাতার একটি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে নেপালে গিয়েছিলেন বাংলার বেশ কয়েকজন পর্যটক। জানা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে বর্ধমান, হাওড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দারাও রয়েছেন। নেপালের রসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বান ও বন্যার পর থেকেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা। কলকাতা থেকে যাওয়া একটি দলে ছিলেন ৩০ জন পর্যটক। এবং দু’জন ভ্রমণ সংস্থার কর্মী। মানস সরোবর যাওয়ার পথে তাঁদের তিব্বত সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে গোটা এলাকা। এই বিষয়ে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পর্যটন সংস্থার মাধ্যমে যাওয়া শতাধিক ভারতীয়-সহ কয়েকশো পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। চলছে উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধানের কাজ। শুধু তাই নয়, দুর্গম এলাকায় উদ্ধার কাজে বেগ পেতে হচ্ছে ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় প্রশাসন।

কীভাবে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়?

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থা (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে একটি শক্তিশালী ভূমিধসের জেরে এমন কম্পন তৈরি হয়, যার মাত্রা ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ওই ভূমিধসের সঙ্গে হিমবাহ ধসের ঘটনাও জড়িত ছিল। ভূমিধসের ফলে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর, কাদা এবং জল নেমে আসে নদীতে। এটি ভোতে কোশি নদীর একটি শাখা। মুহূর্তের মধ্যে নদীর জলস্তর বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। রসুয়া এবং ধাদিং জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরে নদীপথ ধরে বন্যার জল আরও কয়েকটি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। এই বিপর্যয়ের জেরে নেপালের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিক রাস্তা ও সেতু ভেঙে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিও। ফলে দুর্গত এলাকাগুলিতে যোগাযোগ ও উদ্ধারকাজ চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

Scroll to load tweet…

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।