সরিয়ে দেওয়া হল বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুরলিধরকে। তাঁর জায়গায় আইপিএস আধিকারিক ত্রিপুরারি অথর্বাকে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মুরলীধরকে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার পদে নিয়োগ করেছিল রাজ্য।
বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার পদে রদবদল। সরিয়ে দেওয়া হল বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুরলিধরকে। তাঁর জায়গায় আইপিএস আধিকারিক ত্রিপুরারি অথর্বাকে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৮ এপ্রিল অর্থাৎ শনিবার সকাল ১১টার মধ্যে মুখ্যসচিবকে নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মুরলীধরকে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার পদে নিয়োগ করেছিল রাজ্য। ১৫ মার্চ ভোট ঘোষণার পরে রাজ্যে একঝাঁক পুলিশ আধিকারিককে বদলি করে নির্বাচন কমিশন। যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলার সময় বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার (সিপি) ছিলেন মুকেশ। ঘটনার পর পরই তাঁকে শো কজ় করেছিলেন রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। ফেব্রুয়ারি মাসে বিধাননগর থেকে তাঁকে সরিয়ে মুর্শিদাবাদ-জঙ্গিপুর রেঞ্জের আইজি করা হয়। তার পরেই ওই পদে বসানো হয়েছিল মুরলীকে।
এর আগে মুরলীধরকে ভোটের পর্যবেক্ষক হিসাবে তামিলনাড়ুতে পাঠানোর কথা বলেছিল কমিশন। পরে সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয় তারা। বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার পদেই থেকে যান মুরলী। যদিও অপসারিত ১৩ জন আইপিএস আধিকারিকের জন্য পুরনো নির্দেশই বহাল রেখে দেওয়া হয়। তাঁদের কেরল এবং তামিলনাড়ুতে ভোটের পর্যবেক্ষক হিসাবে পাঠানো হয়।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। এই বিষয় নিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল। সেই মামলা খারিজ হয়ে যায় হাই কোর্টে। আদালত জানায়, সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন পদক্ষেপ করেছে। তৃণমূল সু্প্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি সুপ্রিম কোর্ট।


