West Bengal Education News: এবার থেকে কমতে চলেছে বাচ্চাদের উপর পিঠের বোঝার চাপ। কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় শিক্ষানীতির গাইডলাইন মেনে এবার স্কুল ব্যাগের ওজন নির্দিষ্ট করল রাজ্য শিক্ষা দফতর। কতটা ব্যাগের ভার বইতে পারবে পড়ুয়ারা জানিয়ে দিলো বিকাশ ভবন। বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।

West Bengal Education News: দিন দিন পড়াশোনার তুলনায়ব্যাগের ওজন যেভাবে বাড়ছে তাতে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না বহু শিশু। নুইয়ে পড়ছে সামনের দিকে। চিকিৎসকদের মতে, এই ভারী ব্যাগের চক্করেই খুব অল্প বয়সে পিঠ, ঘাড় ও কোমরের ব্যথায় ভুগছে স্কুলপড়ুয়ারা। শৈশবের এই শারীরিক ধকল রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি স্কুলগুলোর জন্য স্কুল ব্যাগের ওজন সংক্রান্ত একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করল বিকাশ ভবন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

পশ্চিমবঙ্গ স্কুল শিক্ষা দফতরের অধীনস্থ 'পশ্চিমবঙ্গ সামগ্রিক শিক্ষা মিশন' (PBSSM) থেকে সমস্ত জেলার শিক্ষা আধিকারিক ও স্কুল পরিদর্শকদের কাছে এই সংক্রান্ত নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের 'স্কুল ব্যাগ পলিসি ২০২০' এবং জাতীয় শিক্ষানীতির (NEP) ওপর ভিত্তি করেই এই নতুন গাইডলাইন তৈরি করেছে রাজ্য। যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনও পড়ুয়ার স্কুল ব্যাগের ওজন তার শরীরের মোট ওজনের ১০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। নিয়ম যাতে ঠিকঠাক পালন করা হয়, তার জন্য প্রতিটি স্কুল চত্বরে একটি করে ওজন মাপার মেশিন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে ক্লাস অনুযায়ী স্কুল ব্যাগের একটি নির্দিষ্ট ওজনের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী:

প্রাক-প্রাথমিক (Pre-Primary): এই স্তরের শিশুদের জন্য কোনও স্কুল ব্যাগের প্রয়োজনই নেই।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী: ব্যাগের সর্বোচ্চ ওজন হবে ১.৬ থেকে ২.২ কেজি।

তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী: ব্যাগের ওজন থাকবে ১.৭ থেকে ২.৫ কেজির মধ্যে।

ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণী: সর্বোচ্চ ব্যাগের ওজন হতে পারবে ২ থেকে ৩ কেজি।

অষ্টম শ্রেণী: ওজনের সীমা আড়াই থেকে ৪ কেজি।

নবম ও দশম শ্রেণী: ব্যাগের ওজন আড়াই থেকে ৪.৫ কেজির বেশি হওয়া যাবে না।

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী: সর্বোচ্চ ওজন হতে পারবে ৩.৫ থেকে ৫ কেজি।

বিকাশ ভবনের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এই নিয়ম শুধু খাতা-কলমে রাখলে চলবে না, ক্লাসরুমের নোটিস বোর্ডেও এই ওজনের চার্ট টাঙিয়ে রাখতে হবে। তবে শুধু ওজন বেঁধে দিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি শিক্ষা দফতর, ব্যাগের বোঝা কমানোর বাস্তবসম্মত উপায়ও বলে দেওয়া হয়েছে ওই নির্দেশিকায়। যার মধ্যে অন্যতম হলো স্কুলে পানীয় জল ও মিড-ডে মিলের সঠিক ব্যবস্থা করা। স্কুলে যদি পরিষ্কার ও পর্যাপ্ত পানীয় জল এবং পুষ্টিকর মিড-ডে মিলের সুব্যবস্থা থাকে, তবে পড়ুয়াদের বাড়ি থেকে ভারী জলের বোতল বা টিফিন বক্স বয়ে নিয়ে যেতে হবে না। এতে অনেকটাই ওজন কমবে।

Food Tips: গরম ভাতে এক থালা স্বর্গ! মা-ঠাকুমার হাতের সেই সজনে ডাঁটা দিয়ে ছোলার ডাল রেসিপি, জানুন এক ক্লিকে

পাশাপাশি খাতা এবং রুটিন ম্যানেজমেন্টেও বড়সড় বদল আনার কথা বলা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর বাচ্চাদের জন্য কেবল একটিই খাতা থাকবে ক্লাসের কাজের জন্য। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর জন্য থাকবে দুটি খাতা— একটি ক্লাসের এবং অন্যটি বাড়ির কাজের জন্য। ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে মোটা খাতার বদলে পাতলা খাতা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্কুলগুলোকে এমনভাবে রুটিন তৈরি করতে বলা হয়েছে যাতে প্রতিদিন সব বই নিয়ে আসতে না হয়। প্রয়োজনে একই বিষয়ের জন্য পরপর দুটি পিরিয়ড বা 'ব্লক পিরিয়ড'-এর ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। কোনও ভাবেই চাকা লাগানো বা 'হুইল্ড ব্যাগ' ব্যবহার করা যাবে না, কারণ তা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় বাচ্চাদের বিপদে ফেলতে পারে।

ভারী ব্যাগের পাশাপাশি শিশুদের মানসিক চাপ কমাতেও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পড়ুয়াদের জন্য সমস্ত রকমের হোমওয়ার্ক বা বাড়ির কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর জন্য সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণীর জন্য দিনে ১ ঘণ্টা (সপ্তাহে ৫-৬ ঘণ্টা) এবং নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর জন্য দিনে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা হোমওয়ার্কের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বাড়ির কাজ যেন মুখস্থ বা যান্ত্রিক না হয়ে সৃজনশীল হয়।

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের (CWSN) জন্য বিশেষ সুবিধার কথা বলা হয়েছে এই গাইডলাইনে। তাদের জন্য স্কুলের বুক ব্যাংকের মাধ্যমে দু-সেট বইয়ের ব্যবস্থা করা বা স্কুলে লকার বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের ভারী ব্যাগ বইতে না হয়।

এছাড়াও নতুন শিক্ষানীতি মেনে স্কুলগুলোতে বছরে ১০ দিন 'ব্যাগহীন দিন' বা Bagless Days পালন করতে হবে। বিশেষ করে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণীর পড়ুয়ারা এই ১০ দিন কোনও ব্যাগ ছাড়াই স্কুলে যাবে এবং স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে ছুতোরের কাজ, মাটির কাজ, বাগান তৈরি বা বিভিন্ন ধরণের হাতের কাজের মতো বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ নেবে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।