প্রবীণ আইনজীবী তথা সিপিআই(এম) নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য মানব গুহর মামলা লড়তে অসম্মতি জানান। মূল সমালোচনা: বামপন্থী নেতা হওয়া সত্ত্বেও কেন তিনি শাসকদলের ঘনিষ্ঠদের পক্ষে আইনি লড়াই লড়ছেন, তা নিয়ে নেটিজেনরা তাঁর নীতি ও সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। 

অদিতি মুন্সী আর তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীকে আদালতে সাময়িক স্বস্তি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমত কটাক্ষের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন সিপিএম-এর আইনজীবী প্রাক্তন সাংসদ বিকাশ ভট্টাচার্য। আয় বহির্ভূত সম্পত্তি মামলায় যে কোনও সময়ই গ্রেফতার হতে পারেন প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সী ও তাঁর স্বামী দেবরাজ। তাঁদের সম্পত্তির পাহাড় কী করে হলে তা যদিও তৃণমূল জমানা থেকেই চর্চায় ছিল। কিন্তু 'তৃণমূলী' এই দম্পতির পাশে দাঁড়িয়ে ঘরে বাইরে (পড়ুন দলে আর দলের বাইরে) রীতিমত কটাক্ষ শুনতে হচ্ছে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বিকাশ ভট্টাচার্যঃ

রাজ্যের সফল আইনজীবীদের মধ্যে অন্যতম। হারতে হারতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বাম- সমর্থকদের অন্যতম ভরসার স্থল বিকাশরঞ্জন। রাজ্যের আন্দোলনরত শিক্ষক শিক্ষিকাদের ত্রাতা বিকাশ ভট্টাচার্য। কিন্তু তিনি অদিতি-দেবরাজের পাশে দাঁড়িয়ে দলের আন্দোলন, দলের কর্মীদের ভরসা ভেঙে দিলেন। তেমনই দাবি বাম সমর্থক কর্মীদের একাংশের।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন সিপিএম সমর্থক সৌরভ পালোধি। তিনিও প্রশ্ন করেছেন বিকাশ ভট্টাচার্যকে। বিকাশবাবুর 'কমরেডশিপ' নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও অনেকেই বলেছেন, আইনজীবী হিসেবে ঠিক কাজই করেছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। কিন্তু তাতেও উঠছে প্রশ্ন। আইনজীবী হলে তৃণমূল বা বিজেপি যে কোনও মানুষের হয়েই মামলা লড়াই উচিৎ। কিন্তু অতীত বলছে তা তিনি করেননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিতাস বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের পোস্ট তেমনই বলছে।

তিতাস বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টঃ

https://www.facebook.com/share/1NPyzF6Nh8/

২০২২ সালের ঘটনা। সেই সময়েই কোনও আয় বহির্ভূত সম্পত্তির মামলা নিয়ে মানব গুহ, তিতাস বন্দ্যোপাধ্য়ায় বা তপন নন্দী যাননি আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যের কাছে। তারা গিয়েছিলেন সেই সময় কলকাতা পুলিশের ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতারের বিরুদ্ধে। তিয়াস বন্দ্যোপাধ্য়ায় স্পষ্ট করে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে লিখেছেন, 'কি জানেন তো, যদি আপনি বাকি উকিলদের মত শুধু নিজের পেশা নিয়েই থাকতেন, তাহলে এই লেখাটা আজ লিখতাম না। কিন্তু আজ আপনার কাজ, আপনার ইন্টারভিউ দেখে বুঝলাম আপনারা সত্যিই ধান্দাবাজ ছাড়া আর কিছুই নয়। উকিল হিসাবে সিন্ডিকেটের তোলাবাজের পক্ষে কোর্টে দাঁড়াবো, আর যাদবপুরের রাস্তায় রাজনীতির ময়দানে নেমে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, কোরাপশান নিয়ে ক্যাম্পেইন করবো... বলছি বিকাশ বাবু, এগুলো এক সঙ্গে যায়...? ভোট চেয়েছেন তৃণমূলের বিপক্ষে এক কথা বলে, আবার উকিলের জার্সি গায়ে নিয়ে সেই তৃণমূলের তোলাবাজদের গার্ড দিচ্ছেন...!!!' তিনি আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন সেই সময় যে সাংবাদিকের মামলা নিতে অস্বীকার করেছিলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সেই মানব গুহ বর্তমানে মানুষের ভোটে জিতে বিধায়ক হয়েছেন। কিন্তু বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে এবারও মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাতঃ

তিতিস বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের লেখায়, ' লক্ষ্মীপুজোর সময় মোমিনপুর আর একবালপুরে টানা দুদিন ধরে বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষজন ওখানকার সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর তাণ্ডব চালায়। বাড়ি , দোকানপত্র, বাইক ভাঙচুর করে, লুঠ করে , আগুন লাগিয়ে দেয়। একবালপুর থানা দখল হয় কয়েক ঘন্টার জন্য।

অভিষেক ব্যানার্জি লালবাজার থেকে বলেছিল বিজেপি কর্মীদের কপালে গুলি করার জন্য। বিজেপির নবান্ন অভিযানে পুলিশের গায়ে হাত দেওয়াতে।

সেটা খবরে মানব দেখিয়ে বলেছিল থানা দখল হল এখন কোথায় পুলিশ?

উল্লেখ্য, হাইকোর্টের নির্দেশে মোমিনপুরের গন্ডগোলের তদন্তে সিট গঠন করে কলকাতা পুলিশ। তদন্তে নেমে ৫টি এফআইআর দায়ের করে কলকাতা পুলিশ। অশান্তির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৬১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।'