ফের বিনা চিকিৎসায় মারা গেল এক রোগী। বেলুড়ের লালা বাবু সায়ার রোডের ঘটনা। মৃতের নাম মনোরঞ্জন রায়। বয়স হয়েছিল ৪২। তিনি জুটমিলের অস্থায়ী কর্মী ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতা কারণে তিনি বেশ কিছু মাস নিয়মিত কাজে যেতে পারতেন না। তিনি স্নায়ু ঘটিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ঘুরে হল না চিকিৎসা। শেষ অবধি বাড়িতে থেকে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়লেন রোগী।

আরও পড়ুন, সংক্রমণের শীর্ষে কলকাতা, রাজ্য়ের ৫৮ জনের মধ্য়ে কলকাতাতেই মৃত ২১

গত সোমবার তিনি গুরুতর ভাবে অসুস্থ হলে পড়েন। সোমবারই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় উত্তরপাড়া রাজবাড়ী হাসপাতালে। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে বলা হয় সেখানে নার্ভের চিকিৎসার মতো পরিকাঠামো নেই, চিকিৎসক নেই।সেখান থেকে রোগীকে নিয়ে যাওয়া হয় হাওড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে তাঁকে ভর্তি করে নিওয়া হয়। তাঁর সি টি স্ক্যান করা হয়। মঙ্গলবার হাওড়া জেলা হাসপাতাল থেকে আরজিকর হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়। বলা হয় রোগীর সাবডুরাল হেমারেজ আছে। হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স করে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় আরজিকর। সেখানে যাওয়ার পর তাঁকে ভর্তি করে নেওয়া হয় ঠিকই। কিন্তু ঘণ্টা খানেকের মধ্যে তাঁকে রোগীর পরিবারের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয় রোগীকে। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে বলা হয় সেখানে অপারেশনের জন্য উপযুক্ত যন্ত্র বিকল রয়েছে। 

আরও পড়ুন, শহরের আদ্রতা বেড়ে অস্বস্তি চরমে, রবিবার দুই বঙ্গেই ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

রোগীর পরিবারের লোক নিজ দায়িত্বে রোগীকে নিয়ে ঘুরতে শুরু করেন চিকিৎসার জন্য। আরজিকর থেকে মঙ্গলবার রাতে নিয়ে যান নীলরতন হাসপাতালে। সেখানেও ভর্তি করতে পারেননি রোগীকে। অগত্যা রোগীকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে আসেন পরিবারের লোক। বুধবার রোগীকে নিয়ে যান পিজি হাসপাতালে। সেখানে জরূরী বিভাগে রোগীকে দেখার পর বলা হয় বেড খালি নেই। তাই ভর্তি করা যাবে না। পরেরদিন সেখানে নিয়ে যেতে বলা হয়। সেদিন রোগীকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন পরিবারের লোক।হাসপাতালের কথা মতো বৃহস্পতিবার পুনরায় রোগীকে নিয়ে পিজি হাসপাতালে পৌঁছন পরিবারের লোক। সেখানে চলে টানাপোড়েন। বাকবিতণ্ডা। সেখানে পরিবারের লোককে ঘাড় ধাক্কা ও দেওয়া দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের লোকেদের।বৃহস্পতিবার আবার মরণাপন্ন রোগীকে নিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে আসেন তাঁর পরিবারের লোকেরা।

আরও পড়ুন, রাজ্য়ে একদিনে ফের রেকর্ড সংখ্যক আক্রান্ত,কোভিড পজিটিভ নিয়ে মৃত ৫৮

সেদিন থেকে বাড়িতে থেকেই বিনা চিকিৎসায় দিন কাটে রোগীর। শনিবার দুপুরে পরিবারের চোখের সামনে রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। নিঃসন্তান পরিবার।  শারীরিক অসুস্থতার কারণে দৈনন্দিন কাজে যেতে পারতেন না স্বামী। তাই পরিচারিকার কাজ করে সংসার সামলান স্ত্রী সোমা। করোনা আবহে ও লকডাউন এর জেরে সে কাজও কমে গেছে। পরিবারের বিপর্যয়ের সময় পাশে দাঁড়ান তার দুই দেওর ও অন্যান্যরা।  পরিবারে আর্থিক অনটন। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সামর্থ নেই পরিবারের।

 

    

 

কোভিড রোগী ভর্তিতে ৫০ হাজার টাকার বেশি নেওয়া যাবে না, নয়া নির্দেশিকা জারি রাজ্যের

ভয় নেই করোনায়, মেডিক্য়ালের ৪ তলার কার্নিশে পা দোলাচ্ছে রোগী

ভুয়ো টেস্টের ফাঁদে পড়ে করোনায় মৃত্যু এক ব্য়াক্তির, গ্রেফতার প্রতারণা চক্রের ৩ জন

করোনায় ফের ১ এসবিআই কর্মীর মৃত্য়ু, মৃতের পরিবারকে চাকরি দেওযার দাবিতে ব্যাঙ্ক কর্মীরা

   পূর্ব ভারতের প্রথম সরকারি প্লাজমা ব্যাঙ্ক-কলকাতা মেডিকেল, করোনা রুখতে প্রস্তুতি তুঙ্গে