করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন আরও এক এসবিআই ব্য়াঙ্ক কর্মী। মৃত ওই স্টেট ব্য়াঙ্কের স্পেশাল অ্য়াসোসিয়েট কর্মীর নাম পূর্ণেন্দু বিকাশ দাশ। এদিকে তাঁর মৃত্যুর পরও করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট এসে এখনও পৌছায়নি।অপরদিকে,  করোনা সংক্রমণে মৃত ব্যাঙ্ক কর্মী ও আধিকারিকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য একটি আবেদন পাঠিয়েছেন, সমাজ কর্মী সহ  প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্মী ও ব্যাঙ্কের গ্রাহকরা। 


আরও পড়ুন, কোভিড চিকিত্‍সায় এগিয়ে এল এসবিআই, বেলেঘাটা আইডিকে দিল পিপিই কিট-ভেন্টিলেটর উপহার

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন আরও এক এসবিআই ব্য়াঙ্ক কর্মী। মৃত ওই স্টেট ব্য়াঙ্কের স্পেশাল অ্য়াসোসিয়েট কর্মীর নাম পূর্ণেন্দু বিকাশ দাশ। করোনা উপসর্গ দেখা দেওয়ায় ১৪ জুলাই মঙ্গলবার নাগাত পূর্ণেন্দু বিকাশ দাশকে ভর্তি করা হয় ক্য়ানিং স্টেট হাসপাতালে।  যদিও এসবিআই ব্য়াঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফে  ক্য়ানিং স্টেট হাসপাতালে থেকে কলকাতার বড় কোনও নার্সিংহোমে ভাল চিকিৎসা করার জন্য পরামর্শ দেয়। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতিতে পূর্ণেন্দু বিকাশ দাশের পরিবারে পক্ষে সেসব ঝক্কি সামলানো আর সম্ভব হয়নি। এরপর তাঁর  ক্য়ানিং স্টেট হাসপাতালেই নমুনা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থা অবনতি হয়ে ওই ব্যাঙ্ক কর্মী মারা যান। এদিকে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট এসে এখনও পৌছায়নি। এখানেই শেষ নয়, এই মুহূর্তে অসুস্থ  পূর্ণেন্দু বিকাশ দাশের বছর পনেরোর ছেলে ময়ুখ দাশ। তবে ছেলের ক্ষেত্রে আর কোনও ঝুঁকি নিতে চাননা পরিবার ও ব্য়াঙ্ক কর্তৃপক্ষ। তাঁকে ভর্তি করা হবে শহরেরই  ভালও কোনও নার্সিংহোমে।

আরও পড়ুন, করোনা যুদ্ধে পরাজিত আরও ১ এসবিআই কর্মী, আতঙ্কে মমতাকে চিঠি ব্য়াঙ্ক কর্মীদের


অপরদিকে,  করোনা সংক্রমণে মৃত ব্যাঙ্ক কর্মী ও আধিকারিকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য একটি আবেদন পাঠিয়েছেন, সমাজ কর্মী ও ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের গ্রাহক বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়, প্রাক্তন ব্যাঙ্ক আধিকারিক এবং পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের গ্রাহক শংকর কুশারী, প্রবীণ শিক্ষক ও স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার গ্রাহক কুনাল সেন, প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্মী এবং পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের গ্রাহক কিষেণলাল সেনগুপ্ত। তাঁরা জানিয়েছেন,  'করোনা সংক্রমণ জনিত লকডাউনের প্রথম দিন থেকেই এই সংকট মোকাবিলায় দেশের অন্যান্য প্রথম সারির সৈনিকদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে চলেছেন বিভিন্ন ব্যাঙ্কের কর্মী এবং আধিকারিকরা । যখন গোটা দেশের প্রায় সব কাজকর্মই স্তব্ধ, নিজের জীবন বাজি রেখে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার গুরু দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে এঁরাই চালু রেখেছেন অর্থনীতির এই লাইফ লাইনটিকে । যে কোন ব্যাঙ্কে একবার গেলেই যে কেউই বুঝবেন ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করাটা সেখানে কতোখানি অসম্ভব । এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বহু ব্যাঙ্ক কর্মী এবং আধিকারিকই করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন । সরকারি তথ্য বলছে, ইতিমধ্যেই এই সংখ্যাটি ছাড়িয়ে গেছে দেড়শোর গন্ডী । এতকিছু সত্বেও কোনও হেলদোল নেই সরকারের অর্থ দপ্তর অথবা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের । দুঃখজনক হলেও সত্যি যে এমনকি বহু সাধারণ মানুষও বিষয়টি নিয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন । ' তাঁরা যে যে দাবি গুলি জানিয়েছেন জেনে নিন, 

 

(১) অভূতপূর্ব কঠিন এই লড়াইয়ে যে সকল ব্যাঙ্ককর্মী ও আধিকারিক জীবন খুইয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে সেবা শহীদ হিসাবে ঘোষণা করা হোক । 

(২) প্রত্যেক শহীদ ব্যাঙ্ককর্মীর পরিবারকে ন্যূনতম ৫০ লক্ষ টাকার একটি এককালীন সাহায্য দেওয়া হোক । বিশেষতঃ যখন ইতিমধ্যেই নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে নৌবন্দরের কোন কর্মী মারা গেলে তাঁর পরিবারকে ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের এককালীন সাহায্য করা হবে । ডাক ও তার বিভাগের কর্মীদের ক্ষেত্রেও কর্মরত অবস্থায় করোনার কারণে কোন ব্যক্তির মৃত্যু হলে, তাঁর পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা দেয়ার কথা ঘোষিত হয়েছে । পশ্চিমবঙ্গ সহ আরও কয়েকটি রাজ্য সরকারও তাঁদের কর্মীদের জন্য একই ধরনের সহায়তার কথা ঘোষণা করেছেন । 

(৩) সকল শহীদ ব্যাঙ্ককর্মীর পরিবারকে মৃত ব্যক্তির শেষ বেতনের সমমূল্যের পেনশন দিতে হবে।

(৪) শহীদ ব্যাঙ্ক কর্মী এবং আধিকারিকদের পরিবারের একজনকে অবিলম্বে যথাযোগ্য চাকরি দিতে হবে।

'কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, অবিলম্বে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সহ প্রত্যেকটি সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ জারি করা হোক। প্রত্যেক ব্যাঙ্ক কর্মী এবং আধিকারিকের কাছেও আমাদের সনির্বন্ধ অনুরোধ, এই বিষয়ে আপনারাও নিজ নিজ ফোরামের মাধ্যমে যথাযথ স্থানে এই আবেদন রাখুন।' বলে আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।

 

  করোনা আক্রান্ত আরও ১৯ ব্য়াঙ্ক কর্মী, ট্রেনিং সেন্টারকে কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র করার প্রস্তাব

   পূর্ব ভারতের প্রথম সরকারি প্লাজমা ব্যাঙ্ক-কলকাতা মেডিকেল, করোনা রুখতে প্রস্তুতি তুঙ্গে

  মৃত্যুর পর ২ দিন বাড়ির ফ্রিজে করোনা দেহ, অভিযোগ 'সাহায্য মেলেনি স্বাস্থ্য দফতর-পুরসভার'

 করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু এক সেনা কর্তার, ফোর্ট উইলিয়ামের শোকের ছায়া

  অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকলের পরও কোভিড জয়ী ৫৪-র দুধ ব্যবসায়ী, শহরকে দিলেন এক সমুদ্র আত্মবিশ্বাস

কোভিড রোগী ফেরালেই লাইসেন্স বাতিল, হাসপাতালগুলিকে হুঁশিয়ারি রাজ্য়ের