Sisir Adhikari News: ভোটের বঙ্গে এবার বিজেপির ভরা সভা থেকে জনগণের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারী? কী কারণে ক্ষমা চাইলেন বর্ষীয়ান এই সাংসদ? বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…

Sisir Adhikari News: বঙ্গ বিধানসভা ভোটের আর মাত্র মাস চারেক বাকি। তার আগেই এবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুর ২ ব্লকের ইঁটাবেড়িয়া এলাকায় বিজেপির তরফ থেকে একটি যোগদান সভা থেকে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারী। শুধু তাই নয়। জনসমক্ষে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমাও চাইলেন তিনি। 

কী বলেছেন শিশির অধিকারী? 

‘’আমি নিজেও ভুল করেছিলাম আপনাদেরও ভুল পথে চালিত করেছিলাম। আজ করজোড়ে স্বীকার করে মঞ্চের ভূমিষ্ঠকে স্পর্শ করে আপনাদের কাছে সেই ভুল স্বীকার করে নিলাম। আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী আমি।'' শুধু তাই নয়, আর এই ক্ষমা স্বীকার করেই তৃণমূলকে বেনোজির আক্রমণ করেন তিনি।

শিশির অধিকারী বলেন, ‘’কাঁথির রেললাইন সম্প্রসারণ, এনএইচ ১১৬ এর বি ওড়িশা অব্দি সম্প্রসারণ, গঙ্গাসাগর অবধি যাওয়ার জন্য সেতু তৈরি সহ একাধিক প্রজেক্ট এর কথা তুলে ধরে বলেন, কেন্দ্র সরকারের কাছ থেকে সমস্ত প্রজেক্ট এর জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রচেষ্টায় কোথাও ২০০ কোটি, কোথাও বারোশো কোটি, কোথাও ২২ কোটি টাকা এনে দিয়েছি। কিন্তু সেই সব প্রজেক্ট পর্যন্ত বাস্তবায়িত না করার ফলে তার টাকা ফেরত গেছে। কিন্তু সেই সমস্ত টাকা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় রেখে ওনারা তার ইন্টারেস্ট খেয়েছেন।'' এমনই বেনোজির আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলের প্রতি বর্ষিয়ান সাংসদ ও প্রাক্তন গ্রাম উন্নয়ন মন্ত্রী শিশির অধিকারী।

উল্লেখ্য, ভগবানপুর বিধানসভার, ইটাবেড়িয়া এলাকায় বিজেপির তরফ থেকে একটি যোগদান সভার আয়োজন করা হয় সেখানে শিশির অধিকারী হাত থেকে বিজেপির দলীয় পতাকা নিয়ে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন পটাশপুর নম্বর ব্লকের প্রাক্তন শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ ও মথুরা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান অমিত মন্ডল সহ প্রায় ৭০ জন তৃণমূল কর্মীরা। আর এই সভা মঞ্চে তিনি যোগদান পর্ব শেষ করার পরেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে জনসমক্ষে নিজের ভুল নিয়ে সবার কাছে ক্ষমা চান এবং সঠিক পথে চলার আবেদন জানিয়ে বিজেপির হাতে শক্ত সমর্থ্য করার আহ্বান জানান।

আর শিশির অধিকারীর এই বক্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক। এই ব্যাপারে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মানব পড়ুয়া বলেন, উনি বলেন, ‘’রাজনীতিবিদ উনার প্রতি সম্মান জানিয়েই বলি আসল কথা ওনার বয়স হয়েছে বয়সের ভারে উনি উল্টোপাল্টা বলছেন । কারণ ওনারা যখন তৃণমূলের ছিলেন তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবথেকে বেশি পদ, ক্ষমতা ওনাদের দিয়েছিলেন। আজ ওনারা ভুলে গিয়েছেন।'' কার্যত শিশির অধিকারীর এই বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু মেদিনীপুর জুড়ে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।