Murshidabad News: গত কয়েক বছরে বারবার নেতিবাচক ঘটনার কারণে আলোচনায় উঠে এসেছে মুর্শিদাবাদ। তবে এবার বিধানসভা নির্বাচনের (2026 West Bengal Legislative Assembly election) মুখে এই জেলায় এক ইতিবাচক খবর পাওয়া গেল। এমন এক ঘটনা ঘটল, তাতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের (West Bengal Police) নাম উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
KNOW
West Bengal Police: জঙ্গিপুরে এক লক্ষ টাকা কুড়িয়ে পাওয়ার পর ফেরত দিয়ে সততার পরিচয় দিলেন এক ট্রাফিক ওয়ার্ডেন। এই পুলিশকর্মীর নাম সাবির শেখ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জঙ্গিপুরে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীর প্রশংসার ঝড় উঠেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এক ব্যবসায়ী তাঁর মহাজনের কাছে টাকা দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে প্রায় এক লক্ষ টাকা নিয়ে বেরিয়েছিলেন। সেই টাকা একটি কালো ক্যারিব্যাগে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু জঙ্গিপুরের একটি ব্রিজ পার হওয়ার সময় অসাবধানতাবশত তাঁর পকেট থেকে ক্যারিব্যাগটি পড়ে যায়। বিষয়টি তিনি তখন বুঝতেই পারেননি এবং নিজের কাজে চলে যান। ঠিক সেই সময় ব্রিজের উপর দিয়ে ডিউটি করতে যাচ্ছিলেন এক ট্রাফিক ওয়ার্ডেন। হঠাৎ তাঁর চোখে পড়ে ব্রিজের মাঝখানে পড়ে থাকা একটি কালো ক্যারিব্যাগ। সন্দেহ হওয়ায় তিনি গাড়ি থামিয়ে ব্যাগটি তুলে নেন এবং খুলে দেখতেই অবাক হয়ে যান। ব্যাগের ভিতরে ছিল ৫০০ টাকার নোটে ভর্তি প্রায় এক লক্ষ টাকা।
কীভাবে ফেরত দেওয়া গেল টাকা?
ওই ব্যবসায়ীর টাকা হারানোর ঘটনাটি বুঝতে পেরে ট্র্যাফিক ওয়ার্ডেন এক মুহূর্ত দেরি না করে বিষয়টি জঙ্গিপুর ট্র্যাফিক পুলিশের অফিসারকে জানান। এরপর ট্র্যাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু হয়। ডিউটিতে থাকা অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয় প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার জন্য। পুলিশের অনুসন্ধানে কিছু সময়ের মধ্যেই সেই ব্যবসায়ীর খোঁজ মেলে। পরে তিনি থানায় এসে যথাযথ প্রমাণ দেখিয়ে তাঁর হারিয়ে যাওয়া এক লক্ষ টাকা ফেরত পান। নিজের হারানো টাকা ফিরে পেয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ট্র্যাফিক ওয়ার্ডেন এবং ট্র্যাফিক পুলিশের প্রতি।
ট্র্যাফিক ওয়ার্ডেনের প্রশংসা
এই ঘটনার পর ট্র্যাফিক পুলিশের সততা ও মানবিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন রঘুনাথগঞ্জ ব্যবসায়িক সমিতির সদস্য জনি শেখ। তিনি বলেন, পুলিশের এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজের কাছে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। স্থানীয় বাসিন্দারাও ট্র্যাফিক ওয়ার্ডেনের এই সততা ও দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেছেন। অনেকেই বলেছেন, পুলিশের এমন মানবিক কাজ প্রমাণ করে যে সততা ও কর্তব্যবোধ এখনও সমাজে বেঁচে আছে। এই ঘটনা আবারও মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


