Mamata Banerjee In London: মঙ্গলবার ব্রিটেনে এক উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নীরবে এক দৃঢ় বার্তা দিলেন। যখন তিনি বিনয়ের সঙ্গে তাঁর জন্য নির্দিষ্ট রাখা বিশেষ চেয়ার প্রত্যাখ্যান করলেন। বিস্তারিত জানুন…
Mamata Banerjee In London: তিনি যে সবার থেকে আলাদা, বিলেত সফরে গিয়ে ফের তার প্রমাণ দিলেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহানুভবতা ও উদারতা নজর কাড়ল সকলের। ব্রিটেনে বাণিজ্য সম্মেলনে সকলের সঙ্গে একই চেয়ারে আসন গ্রহণ করলেন তিনি।
মঙ্গলবার ব্রিটেনে বাণিজ্য সম্মেলনে কী করলেন মুখ্যমন্ত্রী?
মঙ্গলবার ব্রিটেনে এক উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নীরবে এক দৃঢ় বার্তা দিলেন। যখন তিনি বিনয়ের সঙ্গে তাঁর জন্য নির্দিষ্ট রাখা বিশেষ চেয়ার প্রত্যাখ্যান করলেন। "একই চেয়ারে বসব," বলে তিনি নিজেই নিজের বসার ব্যবস্থা করলেন। অন্যদের মতো সাধারণ একটি চেয়ার বেছে নিলেন। তাঁর এই স্বভাবসিদ্ধ অভিব্যক্তি আসলে রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণের সঙ্গে তাঁর জনসংযোগ স্থাপনের ক্ষমতাকেই ফুটিয়ে তুলল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
“She stands with the people, humble and known! A leader who shuns the glittering throne,"— সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস এক্স হ্যান্ডলে একটি ২২ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, বাংলার তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাঝে নিজেই চেয়ার সাজিয়ে নিচ্ছেন। ছোট মুহূর্ত হলেও এটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, এই মহানুভবতাই তাঁকে এমন এক নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন, সিংহাসনে বসে নয়।
মুখ্যমন্ত্রীর এই উদারতা সকলের নজর কেড়েছে এবং তাঁর সমর্থকরা তাঁকে বিনয়ের প্রতীক ও সহকর্মীদের তিনি যে সম্মান দিয়েছেন, তার প্রশংসা করেছেন। এটাই তাঁর নেতৃত্বের ধরণ, যা আরও একবার প্রতিফলিত হল। তিনি সকলের সঙ্গে মিশে যেতে পারেন ও সমানাধিকারকে সবসময় মূল্য দেন এবং অনাড়ম্বর জীবনে বিশ্বাস করেন।
ব্রিটেনে বাণিজ্য সম্মেলনে আর কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
যে ব্রিটিশরা ২০০ বছর ভারত শাসন করে গিয়েছেন। সেই ব্রিটিশ দরবারে গিয়ে বাংলায় বিনিয়োগের জন্য পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-বাণিজ্যের পরিকাঠামোর কথা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ''আপনারা কেন বিনিয়োগের জন্য বাংলাকে বেছে নেবেন জানেন? বাংলা হল বিনিয়োগের আদর্শ জায়গা। কারণ, বাংলায় কোনও অশান্তি-টেনশন, স্ট্রেস নেই। সারা ভারতে যেখানে GDP-র হার ৬.৩৭ শতাংশ সেখানে শুধুমাত্র বাংলার GDP-৬.৮০ শতাংশ। বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে সারা দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বেকারত্বের সংখ্যা সেখানে পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের সংখ্যা অনেক কম।''
শুধু তাই নয়, বাংলায় জ্বালানির অভাব নেই। বীরভূমে দেউচা পাচামি হচ্ছে। এর ফলে আরও বিনিয়োগের উৎসাহ বাড়বে। জঙ্গলমহলে কর্মসুন্দরি প্রকল্প থেকে বাংলায় ২৮০০ IT কোম্পানি এসেছে সে কথাও শিল্প সম্মেলনে জানাতে ভোলেননি মমতা। তিনি আরও জানান, বাংলায় আসল শিল্পের গেটওয়ে। সিনার্জি শুরুর বিষয়েও জানান মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যের যে চাল আর তেঁতুলের সম্পর্ক তা ভুলে সবকিছুর উর্ধ্বে উঠে, লন্ডনে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী যেভাবে ভারতের একটি অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছেন। বিদেশ বিভুঁইয়ে মমতা যে সবার থেকে আলাদা তা আরও একবার উঠে এলো।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে