মন্দিরে গিয়ে দেবদর্শন করলেন, মনে শান্তি নিয়ে বেরোলেন। কিন্তু বেরিয়েই যদি সিঁড়িতে বসে পড়েন, তাহলে পুণ্যের বদলে ক্ষতি হচ্ছে। বাস্তুশাস্ত্র বলছে, দর্শনের পর শরীরে যে পজিটিভ এনার্জি তৈরি হয়, সিঁড়িতে বসলে তা মাটিতে নেমে যায়। 

মন্দির থেকে বেরিয়েই অনেকে সিঁড়িতে ধপ করে বসে পড়েন। কেউ জুতো পরেন, কেউ জল খান, কেউ ফোন ঘাঁটেন, কেউ প্রসাদ খান। ক্লান্ত লাগলে এটাই স্বাভাবিক মনে হয়। কিন্তু বাস্তুশাস্ত্র আর মেডিকেল সায়েন্স দুটোই বলছে, এই ছোট্ট অভ্যাসটা আপনার অজান্তেই ক্ষতি করছে। পুণ্য করতে গিয়ে নিজের এনার্জি আর শরীরের বারোটা বাজাচ্ছেন। কেন বসতে নেই আর কী করা উচিত, পুরোটা একবার জেনে নিন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

১: বাস্তুশাস্ত্র কী বলছে? এনার্জি ডিসচার্জের থিয়োরি ১. শক্তি-স্থানান্তর জোন: বাস্তু মতে, মন্দিরের গর্ভগৃহ হল ‘হাই পজিটিভ এনার্জি’ জোন। সিঁড়ি হল ট্রানজিশন জোন। দর্শন করে বেরোনোর সময় আপনার শরীরের চারপাশে পজিটিভ চার্জ সবচেয়ে বেশি থাকে। ২. মাটি এনার্জি টানে: খালি পায়ে বা পা ঝুলিয়ে সিঁড়িতে বসলে শরীর গ্রাউন্ডেড হয়ে যায়। ফলে পজিটিভ এনার্জি সরাসরি মাটিতে ডিসচার্জ হয়ে যায়। পুরাণে আছে, ‘দেবস্থানং পরিত্যজ্য উপবেশনং ন কারয়েৎ’। মানে দেবস্থান ত্যাগ করে বসবে না। ৩. প্রসাদ হাতে বসা নিষেধ: প্রসাদ হল দেবতার আশীর্বাদ। সেটা হাতে নিয়ে সিঁড়িতে বসা মানে আশীর্বাদকে অবজ্ঞা করা। শাস্ত্র বলে, প্রসাদ দাঁড়িয়ে বা মন্দির চত্বরের বাইরে বসে গ্রহণ করুন।

২: মেডিকেল সায়েন্স কী বলছে? ইনফেকশনের আখড়া ১. ব্যাকটেরিয়া লোড: AIIMS-এর স্টাডিতে দেখা গেছে, মন্দিরের মেঝের তুলনায় সিঁড়িতে Staphylococcus-এর মতো ব্যাকটেরিয়া ৪ গুণ বেশি। কারণ হাজার হাজার ভক্তের পায়ের ধুলো, ঘাম সব সিঁড়িতেই পড়ে। ২. স্কিন ইনফেকশন: খালি পায়ে সিঁড়িতে বসলে প্লান্টার ওয়ার্ট, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, স্ক্যাবিস হওয়ার ঝুঁকি ৭০% বেড়ে যায়। বর্ষায় এই রিস্ক আরও বেশি। ৩. ঠান্ডা লেগে সায়াটিকা: পুরোনো মন্দিরের সিঁড়ি মার্বেল বা পাথরের হয়। দর্শনের পর শরীর গরম থাকে। তখন ঠান্ডা পাথরে বসলে লোয়ার ব্যাকের নার্ভে চাপ পড়ে। এতে সায়াটিকা, পায়ে ঝিনঝিন, কোমর ব্যথা হতে পারে। ৪০+ বয়সীদের জন্য এটা বড় রিস্ক।

৩: তাহলে করবেনটা কী? শাস্ত্রীয় ও বৈজ্ঞানিক সমাধান ১. বিশ্রাম স্থান খুঁজুন: ক্লান্ত লাগলে মন্দিরের সিঁড়িতে নয়, চত্বরের বাইরে বেঞ্চ বা যাত্রী-শেডে বসুন। বেশিরভাগ বড় মন্দিরে এই ব্যবস্থা থাকে। ২. জুতো পরুন বাইরে: জুতো সবসময় মন্দির চত্বরের একদম বাইরে পরুন। সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে জুতো পরলে পবিত্রতা নষ্ট হয়। ৩. ২ মিনিটের নিয়ম: দর্শন শেষে মন্দির চত্বরে ২ মিনিট চোখ বন্ধ করে দাঁড়ান। এতে পজিটিভ এনার্জি শরীরে সেট হয়ে যায়। তারপর বাইরে বেরোন। ৪. হাইজিন মেনে চলুন: মন্দির থেকে বেরিয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ইউজ করুন। বাড়ি ফিরে পা ভালো করে ধুয়ে নিন। ডায়াবেটিক রোগীরা অবশ্যই পা চেক করবেন।

৪: কোনটা কুসংস্কার, কোনটা নয়? ১. কুসংস্কার: ‘সিঁড়িতে বসলে গরিব হয়ে যাবে’—এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আসল কারণ এনার্জি লস আর হাইজিন। ২. বিজ্ঞান: পাথরের সিঁড়ি দ্রুত গরম বা ঠান্ডা হয়। খালি শরীরে বসলে টেম্পারেচার শক লাগে। এটা প্রমাণিত। ৩. কমন সেন্স: সিঁড়ি হল হাজার লোকের যাতায়াতের রাস্তা। আপনি বসে থাকলে ভিড়, ধাক্কাধাক্কি, এমনকি পদপিষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

মন্দিরে যান মন শান্ত করতে। অজান্তে সেই শান্তি আর সুস্থতা নষ্ট করবেন না। দর্শন শেষ, প্রণাম করে সোজা বাইরে আসুন। নিয়ম মানলে ভক্তিও বাঁচবে, স্বাস্থ্যও বাঁচবে। এই তথ্যটা বাড়ির বয়স্কদের শেয়ার করুন। তাদের এই অভ্যাসটা সবচেয়ে বেশি।