সোনার দামে ফের বড় উত্থানের সম্ভাবনা। আন্তর্জাতিক বাজারে আগামী দিনে হলুদ ধাতুর দাম আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন আর্থিক সংস্থা JP Morgan। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫,০০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
সোনার দামে ফের বড় উত্থানের সম্ভাবনা। আন্তর্জাতিক বাজারে আগামী দিনে হলুদ ধাতুর দাম আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন আর্থিক সংস্থা JP Morgan। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫,০০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা কেনার প্রবণতা—এই সবকটি কারণই সোনার দামের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সোনার বর্তমান দর কত?
আগস্ট মাসে আন্তর্জাতিক ও ভারতীয়—উভয় বাজারেই সোনার দামে বড় ধরনের উত্থান দেখা গিয়েছিল, তবে সেপ্টেম্বর মাসে তা কিছুটা কমেছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (WGC) তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ৩.৯% এবং ভারতে ৪.৬% কমেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কমেক্স (Comex)-এ সোনার দর প্রতি আউন্স ৪,৪০০ ডলারের কাছাকাছি ওঠানামা করছে। এদিকে, মাল্টি-কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) গত শুক্রবার লেনদেন শেষে ৫ অক্টোবর ২৪-ক্যারেট সোনার ১০ গ্রামের দাম ছিল ১,৫৪,২৬৩ টাকা।
কেন বাড়তে পারে সোনার দাম?
বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝোঁকেন। ফলে সোনার চাহিদা বাড়ে এবং তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দামও বাড়তে থাকে। এর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি নিজেদের রিজার্ভে সোনার পরিমাণ বাড়াচ্ছে। এই প্রবণতা আগামী দিনেও বজায় থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে তার প্রভাব পড়তে পারে।
৫,০০০ ডলারে পৌঁছবে সোনা?
JP Morgan-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫,০০০ ডলার পর্যন্ত যেতে পারে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সোনার দাম প্রতি আউন্স ৪,৫০০ ডলারে এবং আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তা ৫,০০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ বর্তমান স্তর থেকে সোনার দামে উল্লেখযোগ্য উত্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটি একটি বাজার-ভিত্তিক পূর্বাভাস, নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। সুদের হার, ডলারের দরের ওঠানামা, মূল্যবৃদ্ধির হার, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির নীতির মতো একাধিক বিষয়ের উপর ভবিষ্যতে সোনার দাম নির্ভর করবে।
বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু কারণ
বিশেষজ্ঞরা সোনার দামের দীর্ঘমেয়াদী বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করছেন, যার মধ্যে রয়েছে মার্কিন ডলারের মান কমে যাওয়া, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলোর ক্রমাগত সোনা কেনা এবং ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগ। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ডলারে নির্ধারিত হয়। ডলারের মান কমলে অনেক দেশের ক্রেতাদের সোনা কেনার সক্ষমতা বাড়ে এবং চাহিদা বাড়ার ফলে দামও বাড়তে শুরু করে। এছাড়া, চিনের মতো বড় বড় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ক্রমাগত সোনা কেনার বিষয়টিও দামের উপর প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত উত্তেজনার মতো পরিস্থিতিতে 'নিরাপদ বিনিয়োগ' বা 'সেফ হ্যাভেন' হিসেবে বিবেচিত সোনার চাহিদা ও দাম—উভয়ই বৃদ্ধি পায়।
জেপি মরগানের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলোর দ্রুত হারে সোনা কেনা, আমেরিকার শ্রম বাজারের দুর্বল তথ্য এবং নতুন মুদ্রা-সংক্রান্ত উদ্বেগ সোনার দাম ৪,৪০০ ডলারের উপরে নিয়ে যেতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোনার দাম ৫,০০০ ডলারে পৌঁছনোর পথটি সহজ নয়। এটি ডলারের ওঠানামা, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলোর কেনাকাটা এবং বিনিয়োগের ধরনের পরিবর্তনের উপর নির্ভর করবে। তাছাড়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ দীর্ঘমেয়াদী স্বর্ণে বিনিয়োগের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।
জেফারিসের (Jefferies) পূর্বাভাস—স্বর্ণের দাম দ্বিগুণ হবে
জেপি মরগানের (JP Morgan) পর এবার জেফারিসও সোনার দাম নিয়ে একটি বড় লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছে। গত ট্রেডিং বা লেনদেনের দিনে, জেফারিসের ‘গ্লোবাল হেড অফ ইকুইটি স্ট্র্যাটেজি’ ক্রিস উড সোনার দাম প্রসঙ্গে বলেন যে, বর্তমান দর থেকে এর দাম দ্বিগুণ হতে পারে। উডের মতে, সোনার দাম প্রতি আউন্স ১০,০০০ ডলারে পৌঁছতে পারে, যা বর্তমান দর থেকে ১৩০ শতাংশ বেশি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডের ইল্ড (bond yield) বা আয় নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টায় ডলারের মান কমে যেতে পারে, যা স্বর্ণের দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতীয় বাজারে কী প্রভাব পড়তে পারে?
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়লে তার প্রভাব ভারতীয় বাজারেও পড়ে। তবে ভারতে সোনার দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক দামের পাশাপাশি ডলারের তুলনায় টাকার দর, আমদানি শুল্ক এবং স্থানীয় বাজারের চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ৫,০০০ ডলারে পৌঁছলে ভারতের বাজারেও সোনার দাম আরও উঁচু স্তরে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে বিনিয়োগের আগে শুধুমাত্র কোনও একটি সংস্থার পূর্বাভাসের উপর নির্ভর না করে বাজারের ঝুঁকি এবং নিজের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি।
