২০২৬ সালে রাধা অষ্টমী পালিত হবে ১৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার। এই প্রবন্ধে রাধারানীর আবির্ভাব তিথির নির্ঘণ্ট, মধ্যাহ্ন পুজোর শুভ সময় এবং ব্রত পালনের নিয়মাবলী বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও, বরসানার রাজা বৃষভানুর পদ্মফুলে রাধারানীকে খুঁজে পাওয়ার অলৌকিক কাহিনিটিও বর্ণিত হয়েছে।

কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর ১৫ দিন পরেই পালিত হয় রাধা অষ্টমী। ২০২৬ সালে রাধারানীর আবির্ভাব তিথি কবে, মধ্যাহ্ন পুজোর শুভ সময় কখন এবং কেন এই দিনটি এত গুরুত্বপূর্ণ, জানুন বিস্তারিত।

ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথি বৈষ্ণব সমাজের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি দিন, কারণ এই দিনেই আবির্ভূত হয়েছিলেন প্রেম ও ভক্তির প্রতীক শ্রীমতী রাধারানী। শাস্ত্রমতে, রাধা ছাড়া কৃষ্ণের পুজো অসম্পূর্ণ এবং কৃষ্ণ ছাড়া রাধার আরাধনাও অসম্পূর্ণ। তাই জন্মাষ্টমীর মতোই নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয় রাধা অষ্টমী। এই দিনে রাধা-কৃষ্ণের যুগল পুজো করলে দাম্পত্য জীবনে সুখ, প্রেমে সাফল্য এবং সংসারে সমৃদ্ধি আসে বলে বিশ্বাস করা হয়।

দৃক পঞ্জিকার তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের রাধা অষ্টমীর নির্ঘণ্ট একটু বিস্তারিতভাবে দেখে নেওয়া যাক। ২০২৬ সালে রাধা অষ্টমী পড়েছে ১৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার। বাংলা পঞ্জিকা মতে দিনটি হল ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। অষ্টমী তিথির সূচনা হবে তার আগের দিন, অর্থাৎ ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার দুপুর ১টা ১ মিনিট থেকে। এবং তিথি সমাপ্ত হবে পরের দিন, ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টে ২৭ মিনিটে। উদয়া তিথির নিয়ম অনুযায়ী উৎসবটি পালিত হবে ১৯ সেপ্টেম্বরই।

এই দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হল মধ্যাহ্ন পুজোর মুহূর্ত। বলা হয়, রাধারানীর জন্ম হয়েছিল মধ্যাহ্ন কালে, যখন সূর্য ঠিক মাথার ওপর থাকে। তাই এই সময়েই তাঁর আবির্ভাব পুজো করা সবচেয়ে শুভ। ২০২৬ সালে মধ্যাহ্ন পুজোর শুভ সময় থাকবে সকাল ১১টা ১৯ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত। এই আড়াই ঘণ্টা সময়ের মধ্যেই ভক্তরা রাধারানীকে পঞ্চামৃত দিয়ে অভিষেক করান, নতুন বস্ত্র, পদ্মফুলের মালা এবং তাঁর প্রিয় ভোগ নিবেদন করেন।

উপবাস ও ব্রত পালনের নিয়ম:

সাধারণত ভক্তরা ভোর থেকে শুরু করে মধ্যাহ্ন পূজা পর্যন্ত উপবাস পালন করেন এবং পুজো শেষে প্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে ব্রত ভঙ্গ করেন।

উপবাসের ধরন: অনেকেই সারাদিন নির্জলা উপবাস রাখেন। তবে শারীরিক অসুস্থতা থাকলে হালকা ফলাহার করে ব্রত রাখা যায়। অনুমোদিত খাবার: ব্রতের দিনে তাজা ও শুকনো ফল, দুধ, দই, সাবুদানার খিচুড়ি, আলু, মিষ্টি আলু, সৈন্ধব লবণ এবং দুগ্ধজাত মিষ্টি গ্রহণ করা যেতে পারে। বিশেষ নৈবেদ্য: পদ্ম বা গোলাপ ফুল, পঞ্চামৃত, গোলাপি বা গেরুয়া রঙের বস্ত্র এবং মাখন-মিছরি এই পূজার বিশেষ উপাচার।

রাধারানীর আবির্ভাবের অলৌকিক কাহিনি:

রাধারানীর জন্ম নিয়ে এক অলৌকিক কাহিনি প্রচলিত আছে। পৌরাণিক কথন অনুযায়ী, মথুরার নিকটবর্তী বরসানা গ্রামের রাজা ছিলেন বৃষভানু এবং রানী কীর্তি। তাঁরা ছিলেন নিঃসন্তান। একদিন রাজা বৃষভানু যমুনা নদীর তীরে যজ্ঞ করছিলেন, তখন হঠাৎ তিনি দেখতে পান যমুনার জলে একটি বিশাল, আলোকিত পদ্মফুল ভেসে আসছে। কৌতূহলবশত কাছে গিয়ে তিনি অবাক হয়ে যান। তিনি দেখেন, সেই প্রস্ফুটিত পদ্মের ওপর এক অপরূপ সুন্দরী শিশুকন্যা শুয়ে আছে, যার অঙ্গ থেকে দিব্য জ্যোতি বেরোচ্ছে।

রাজা সেই শিশুটিকে অত্যন্ত যত্নে ঘরে নিয়ে আসেন। কিন্তু আরও আশ্চর্যের বিষয় ছিল, শিশুটি চোখ খুলছিল না। রাজা-রানী চিন্তিত হয়ে পড়েন। কথিত আছে, নারদ মুনির পরামর্শে যখন শিশু কৃষ্ণকে সেই শিশুকন্যার সামনে আনা হয়, তখনই প্রথমবার শিশু রাধা চোখ মেলে তাকান। সেই থেকেই রাধা ও কৃষ্ণের দিব্য প্রেমের সূচনা। মনে করা হয়, স্বয়ং মা লক্ষ্মীই রাধা রূপে মর্ত্যে আবির্ভূত হয়েছিলেন কৃষ্ণের প্রেমলীলা সম্পূর্ণ করতে। আর পদ্মফুলে তাঁর আবির্ভাব হয়েছিল বলেই আজও রাধা অষ্টমীর পুজোয় পদ্মফুল অপরিহার্য। পদ্ম ছাড়া রাধারানীর পুজো সম্পূর্ণ হয় না বলেই বিশ্বাস।