এই উদ্যোগ উপত্যকার সঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে পুনরুজ্জীবিত করবে এবং আন্তর্জাতিক নির্মাতাদের আকৃষ্ট করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শ্রীনগর: ২০২৩ সালে কাশ্মীরে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনের পর ফের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড়সড় আয়োজনের প্রস্তুতি জম্মু ও কাশ্মীরে। উপত্যকায় এবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। ৪১টি দেশের মোট ১৩৫টি চলচ্চিত্র এই উৎসবে প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের মানচিত্রে কাশ্মীরের নাম আরও জোরালোভাবে উঠে আসবে বলেই মনে করছেন আয়োজকরা।

তথ্য দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ১,১০০টি চলচ্চিত্র উৎসবের জন্য জমা পড়েছিল। সেগুলির মধ্যে থেকে বাছাই করে ৪১টি দেশের ১৩৫টি চলচ্চিত্রকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্বাচিত ছবির তালিকায় রয়েছে ভারতের ৬৪টি চলচ্চিত্র। এছাড়াও ফ্রান্সের ১৩টি এবং ইরানের ৮টি চলচ্চিত্র রয়েছে।

আয়োজকদের মতে, এই উৎসব শুধুমাত্র চলচ্চিত্র প্রদর্শনের একটি মঞ্চ নয়, বরং কাশ্মীরের সঙ্গে ভারতের চলচ্চিত্র শিল্পের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও একবার নতুন করে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিল্পীদের সঙ্গে উপত্যকার যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলির আদলে প্রতি বছর এই অনুষ্ঠান আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের। তাঁদের লক্ষ্য, কাশ্মীরকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক, প্রতিনিধি এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে উপত্যকার পরিচিতি আরও বাড়ানোই অন্যতম উদ্দেশ্য।

আয়োজকদের দাবি, ভারতের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার এবং নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে এই উদ্যোগের। সেই সঙ্গে কাশ্মীরকেও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং চলচ্চিত্র উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে আশাবাদী তাঁরা।

উৎসবকে ঘিরে লাইন প্রযোজক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের জন্য গুলমার্গে একদিনের বিশেষ সফরেরও আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে কাশ্মীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ি ভূদৃশ্য এবং চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের উপযোগী বিভিন্ন স্থানকে আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

কাশ্মীর দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম আকর্ষণীয় শুটিং লোকেশন হিসেবে পরিচিত। বরফে ঢাকা পাহাড়, সবুজ উপত্যকা, হ্রদ এবং মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ বহু চলচ্চিত্র নির্মাতাকে আকৃষ্ট করেছে। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই পুরনো সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রযোজনা সংস্থাগুলিকেও কাশ্মীরে শুটিংয়ের জন্য উৎসাহিত করা হতে পারে।

২০২৩ সালের জি-২০ সম্মেলনের পর কাশ্মীরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক স্তরের অনুষ্ঠানগুলির মধ্যে এই চলচ্চিত্র উৎসবকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক দেশের চলচ্চিত্রের অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি উপত্যকার সাংস্কৃতিক পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

৪১টি দেশের ১৩৫টি চলচ্চিত্রের প্রদর্শন ঘিরে ইতিমধ্যেই উৎসাহ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হলে কাশ্মীর শুধু পর্যটনের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাণ ও চলচ্চিত্র উৎসবের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে—এমনটাই আশা আয়োজকদের।