অভিনেত্রী রসিকা দুগল মহিলাদের চেহারা ও শরীর নিয়ে সমাজের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। তাঁর মতে, এই ধরনের মন্তব্য করার আগে মানুষের আরও সচেতন হওয়া উচিত। রসিকা এই চাপের সঙ্গে তাঁর জনপ্রিয় 'মির্জাপুর' সিরিজের চরিত্র বীণা ত্রিপাঠীর মিল খুঁজে পেয়েছেন।

অভিনেত্রী রসিকা দুগল সম্প্রতি মহিলাদের চেহারা নিয়ে সমাজের অতিরিক্ত কৌতূহল এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। তাঁর মতে, মহিলাদের শরীর বা দেখতে কেমন লাগছে, তা নিয়ে মন্তব্য করার আগে সমাজের আরেকটু সংবেদনশীল হওয়া দরকার। সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর সঙ্গে এক খোলামেলা আড্ডায় রসিকা বলেন, “মানুষ প্রায়ই মহিলাদের শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করে। আমার মনে হয়, এই অভ্যাসটা একটু বদলানো দরকার। আমাদের সকলেরই এই বিষয়ে একটু সচেতন হওয়া উচিত।”

এই ধরনের মন্তব্য কীভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে, সে বিষয়ে রসিকা বলেন, “জীবনে কতবার আমরা শুনেছি যে কোনও মহিলার কথা উঠলেই প্রথমে তাঁর চেহারা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। যেমন, ‘তুমি তো খুব রোগা হয়ে গেছ’ বা ‘আমি কী মোটা হয়ে গেছি’—এইসব কথাই ঘুরেফিরে আসে।”

রসিকা এও স্বীকার করেছেন যে, অনেক সময় মহিলারাও অজান্তেই এই ধরনের আলোচনায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “এমনকি সামাজিক জীবনে আমরাও হয়তো এটা করে ফেলি। এই বিষয়ে আমাদের নিজেদেরও সতর্ক থাকতে হবে।”

এই প্রবণতাকে পুরুষতান্ত্রিক চিন্তাভাবনার প্রতিফলন বলে মনে করেন রসিকা। তিনি যোগ করেন, “আমার মনে হয়, এটা একটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজেরই লক্ষণ, যেখানে মহিলাদের একটি নির্দিষ্ট ছকে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করা হয়।”

মহিলাদের উপর একটি নির্দিষ্ট চেহারার অধিকারী হওয়ার জন্য যে চাপ তৈরি করা হয়, সে বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা সবাই জানি, মহিলাদের উপর সবসময় একটা চাপ থাকে। তাঁদের সবসময় পরিপাটি থাকতে হবে, চিরযুবতী হয়ে থাকতে হবে।”

রসিকার মতে, এই প্রত্যাশাগুলো সেই সব আলোচনারই অংশ, যা আমরা একটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বড় হতে হতে নিজেদের চারপাশে শুনে এসেছি।

৪১ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর মন্তব্যগুলো এমন এক সময়ে এসেছে, যখন 'মির্জাপুর' সিরিজে তাঁর অভিনীত বীণা ত্রিপাঠী চরিত্রটি তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বীণা এমন এক জগতে বাস করে, যেখানে পুরুষদেরই আধিপত্য। সেখানে ক্ষমতা, সংঘাত এবং মহিলাদের জন্য কঠোর নিয়মকানুনই শেষ কথা। এই পরিবেশে থেকেও বীণার চরিত্রটি শুধুমাত্র একজন নির্যাতিতা বা এক প্রভাবশালী পরিবারের সাধারণ নারী হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়।

বীণা এক দমনমূলক পারিবারিক কাঠামোর মধ্যে আটকে থাকলেও এবং গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হলেও, সে তার চারপাশের মানুষদের সম্পর্কে নিজের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সেই বিপজ্জনক পৃথিবীতে টিকে থাকার চেষ্টা করে। একজন মহিলার কেমন হওয়া উচিত, সেই প্রত্যাশার বেড়াজালে থেকেও বীণা নিজের শর্তে ক্ষমতা দখলের লড়াই চালিয়ে যায়।

রসিকা জানিয়েছেন, বীণা চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তোলার জন্য তাঁর সাজসজ্জা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি সাধারণত এমন চরিত্রে অভিনয় করতে পছন্দ করেন, যেখানে চুল বা মেকআপের জন্য বেশি সময় দিতে হয় না। তিনি বলেন, “আমি এমন চরিত্র পেলে খুব খুশি হই, যেখানে চুল আর মেকআপ নিয়ে বেশি সময় কাটাতে হয় না। কারণ এটা মাথার উপর থেকে একটা বড় চাপ কমায়।”

তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করে দেন যে, সিনেমার জগতে চুল এবং মেকআপ শুধুমাত্র বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য নয়। রসিকার কথায়, “সিনেমায় কাজ করার সময় চুল এবং মেকআপ চরিত্রের একটা অংশ হয়ে ওঠে, যা অনেকেই হয়তো বোঝেন না। একটা চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলার জন্য এগুলোকে খুব ইন্টারেস্টিংভাবে ব্যবহার করা যায়। আমরা শুধু সুন্দর দেখানোর জন্য কিছু করি না। চুল আর মেকআপে ছোট ছোট পরিবর্তন এনে একটা চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা হয়।”

রসিকার জন্য, বীণার বিশেষ ধরনের চুলের স্টাইল সেই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, “যেমন বীণার চুল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ওই উইগটা পরে থাকা খুব কষ্টের। কিন্তু ওটা পরলেই কেমন যেন একটা অন্যরকম অনুভূতি হয়। ওই চুলটা পরার পরেই আমার নিজেকে বীণা ত্রিপাঠী বলে মনে হয়।”

রসিকার বীণা ত্রিপাঠী চরিত্রটি 'মির্জাপুর: দ্য মুভি'-তেও ফিরছে, যা এই ফ্র্যাঞ্চাইজির গল্পকে বড় পর্দায় নিয়ে আসবে। এই ছবিতে কালিন ভাইয়া, মুন্না ভাইয়া এবং গুড্ডু পণ্ডিতের মতো জনপ্রিয় চরিত্ররাও থাকছেন।

ছবির কেন্দ্রে রয়েছে মির্জাপুরের সিংহাসন দখলের লড়াই, যেখানে নতুন প্রতিযোগীরা এসে চরিত্রদের মধ্যেকার সমীকরণ বদলে দেবে।

অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস এবং এক্সেল এন্টারটেইনমেন্ট নিবেদিত 'মির্জাপুর: দ্য মুভি' পরিচালনা করেছেন গুরমিত সিং এবং লিখেছেন পুনিত কৃষ্ণা। এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে ছবিটি প্রযোজনা করেছেন রিতেশ সিধওয়ানি এবং ফারহান আখতার। কাসিম জাগমাগিয়া এবং বিশাল রামচন্দানি সহ-প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন।

'মির্জাপুর: দ্য মুভি' ২০২৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। (এএনআই)