অসমীয়া সঙ্গীতের আইকন জুবিন গার্গের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে সোনাপুরের 'জুবিন ক্ষেত্র'-এ ভক্ত ও আসু সদস্যরা তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। এই স্মরণসভায় তাঁর অসামান্য অবদানকে স্মরণ করার পাশাপাশি তাঁর মৃত্যুর সুবিচার দাবি করা হয়।

শনিবার ছিল অসমীয়া সঙ্গীতের আইকন জুবিন গার্গের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। প্রিয় শিল্পীকে স্মরণ করতে তাঁর শত শত ভক্ত এদিন সোনাপুরের 'জুবিন ক্ষেত্র'-এ ভিড় জমান। অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু)-এর সদস্য, শিল্পীর পরিবার এবং অন্যান্য শিল্পীরাও গুয়াহাটির উপকণ্ঠে তৈরি এই অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকলে এদিন জুবিনের গাওয়া জনপ্রিয় সব গান গেয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধাঞ্জলি ও সুবিচারের দাবি

আসু-র প্রধান উপদেষ্টা ডঃ সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য সংবাদসংস্থা এএনআই-কে জানান, জুবিনকে স্মরণ করার পাশাপাশি তাঁর মৃত্যুর সুবিচার চাইতেই এই জমায়েত। তিনি বলেন, "আজ আমরা জুবিন গার্গকে শ্রদ্ধা জানাতে এখানে এসেছি। সেই অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর এক বছর কেটে গেছে... জুবিন গার্গের সুবিচার পাওয়া উচিত।"

আসু সভাপতি উৎপল শর্মা বলেন, "আজকের দিনেই জুবিন গার্গ আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন... গোটা আসাম জুড়ে তাঁর সৃষ্টিকে উদযাপন করা হবে। আগামী প্রজন্মকে জানতে হবে যে জুবিন গার্গ নামে একজন শিল্পী ছিলেন, যিনি আসামে গন্ডার শিকারের প্রতিবাদে বিহু মঞ্চকে প্রতিবাদের জায়গা বানিয়েছিলেন।"

তিনি আরও বলেন, "কোভিডের সময় যখন মানুষ ভয়ে ঘর থেকে বেরোচ্ছিল না, তখন জুবিন গার্গ তাঁর একটি বাড়ি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করার জন্য ছেড়ে দিয়েছিলেন। জুবিনের সেই মানবিক চিন্তাভাবনা ও ঐতিহ্যকে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, আসামের মানুষ এবং তরুণ প্রজন্ম যুগ যুগ ধরে তাঁর শিল্প ও সৃষ্টিকে উদযাপন করবে।"

রাজ্য সরকারের উদ্যোগ

আসাম সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক দফতরও শিল্পীর স্মরণে তিন দিনের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানটি শনিবার শেষ হবে।

জুবিন গার্গের ফেলে যাওয়া স্মৃতি

জুবিন গার্গ ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালে তাঁর পারফর্ম করার কথা ছিল, ঠিক তার আগের দিনই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।