কংগ্রেস নেতাদের দাবি, শ্রীরাম কলেজ অফ কমার্সের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদীর মন্তব্য প্রমাণ করে যে বিজেপি রাহুল গান্ধীকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই তারা এখন 'জেন-জি'-র মন জয়ের চেষ্টা করছে। কংগ্রেসের মতে, মোদীর ভাষণ ছিল বিভ্রান্তিকর এবং প্রধানমন্ত্রীর পদের সঙ্গে তাঁর ভাষা বেমানান।
শনিবার শ্রীরাম কলেজ অফ কমার্সের (SRCC) এক অনুষ্ঠানে কংগ্রেসকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্তব্যের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন কংগ্রেস নেতারা। তাঁদের দাবি, জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছানোর জন্য বিজেপির সাম্প্রতিক তৎপরতা আসলে রাহুল গান্ধীকে নিয়ে তাদের উদ্বেগেরই প্রকাশ।
'রাহুল গান্ধীকে ভয় পেয়েছে'
পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অভিযোগ করেন, বিজেপি জেন-জি-র মতামত এবং তাদের তোলা প্রশ্নগুলো নিয়ে চিন্তিত। তিনি বলেন, "ওরা রাহুল গান্ধীকে কতটা ভয় পেয়েছে, তা দেখে ভালো লাগছে। এমন অবস্থা যে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত 'জেন-জি'-র পিছনে ছুটতে হচ্ছে। আর কত দৌড়াবেন? উনি যে আতঙ্কিত, তা স্পষ্ট। শিক্ষক দিবসে সাধারণত স্কুলের বন্ধুত্ব বা একই বেঞ্চে বসা বন্ধুর সঙ্গে একটা সম্পর্ক তৈরি হয়, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর তেমন কোনও যোগসূত্র নেই। তাই যখন আসল কোনও যোগসূত্রই নেই, তখন সত্যিকারের বন্ধন তৈরি হবে কী করে?"
কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভি সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভাষণে কোনও সারবত্তা ছিল না। শনিবার তিনি অভিযোগ করেন, "উনি ভালো কিছু বলেননি... উনি বুঝতে পারছেন যে দেশের মেজাজ তাঁর বিরুদ্ধে চলে গিয়েছে, জনমত হিন্দু-মুসলিম বিতর্কের বিপক্ষে... তাই উনি এমন একটা ভাষণ দিয়েছেন যেখানে দাবি করা হয়েছে যে আগের সরকার কিছুই করেনি, আর মোদীজি সব করে ফেলেছেন। এটা মানুষকে বিভ্রান্ত করার ভাষণ।" তিনি আরও যোগ করেন, "উনি সবসময় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কথা বলেন। কিন্তু যে ভাষা উনি ব্যবহার করেন, তা প্রধানমন্ত্রীর পদের সঙ্গে মানায় না।"
কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ বলেন, রাম মন্দির অনুদান বিতর্ক নিয়েও প্রধানমন্ত্রী মোদীর জবাব দেওয়া উচিত। তাঁর কথায়, "আপনি যদি কৃতিত্ব নেন, তাহলে আপনাকে দোষও নিতে হবে। রাম মন্দিরের অনুদান চুরির বিষয়টি ব্যাখ্যা করুন; সেই টাকা কোথায় গেল? মানুষের বিশ্বাসে আঘাত লাগছে, তাই এর জবাবও আপনার দেওয়া উচিত।"
SRCC-তে কী বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী?
শনিবার শ্রীরাম কলেজ অফ কমার্সের শতবার্ষিকী উদযাপনে যোগ দিয়ে কংগ্রেসকে একাধিকবার কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি প্রসঙ্গে
তিনি বলেন, "একসময় বিশ্ব ভারতকে 'ফ্র্যাজাইল ফাইভ' (বিশ্বের পাঁচটি দুর্বল অর্থনীতির একটি) বলত। আজ সেই ভারতকেই বিশ্ব দ্রুততম ক্রমবর্ধমান প্রধান অর্থনীতি হিসেবে দেখছে। গত সপ্তাহেই ভারতের অর্থনীতি নিয়ে বেশ কিছু ইতিবাচক খবর এসেছে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ এবং বিভিন্ন বাণিজ্য সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এমন বৃদ্ধি ভারতের শক্তি এবং সম্ভাবনারই প্রমাণ।"
মোদী আরও বলেন, "ভারত শুধু উন্নতিই করছে না, নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি করছে। তা সত্ত্বেও, ২০১৩ সালে যাদের কাছে গ্লাস অর্ধেক খালি ছিল, তারা আজও একই রকম ভাবছে। তাদের জন্য গ্লাস সবসময় অর্ধেক খালিই থাকবে। আমি গ্লাসের কথা বলছি, অন্য কিছু খালি থাকার কথা বলছি না।"
'দিমাগি নকশাল' খোঁচা
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে দেওয়া 'দিমাগি নকশাল' (মানসিক নকশাল) খোঁচাও ফের উল্লেখ করেন মোদী। তিনি বলেন, “আমি লালকেল্লা থেকে একটি হোমিওপ্যাথিক বড়ি দিয়েছিলাম - 'দিমাগি নকশাল'। হোমিওপ্যাথির নিয়ম অনুযায়ী, যখন আপনি চিকিৎসা শুরু করেন, তখন রোগ প্রথমে আরও বাড়ে। এটাই হোমিওপ্যাথির প্রকৃতি। ঠিক সেভাবেই, আমি 'দিমাগি নকশাল' হোমিওপ্যাথিক বড়ি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত 'দিমাগি নকশাল' একে একে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। আর এখন জনতাও দেখছে, যারা এই অসুস্থতা ছড়াচ্ছে তাদের আসল রূপ।”


