শনিবার লালকেল্লা থেকে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ভারত সশস্ত্র নকশালবাদ ও মাওবাদী হিংসা নির্মূল করতে সফল হয়েছে, তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে এই মতাদর্শটি এখনও টিকে আছে। তিনি তথাকথিত "দিমাগি নকশাল" বা বুদ্ধিবৃত্তিক নকশালদের বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানান, যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবিত করার এবং অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়।

শনিবার লালকেল্লা থেকে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ভারত সশস্ত্র নকশালবাদ ও মাওবাদী হিংসা নির্মূল করতে সফল হয়েছে, তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে এই মতাদর্শটি এখনও টিকে আছে। তিনি তথাকথিত "দিমাগি নকশাল" বা বুদ্ধিবৃত্তিক নকশালদের—অর্থাৎ মাওবাদী মানসিকতাসম্পন্ন সেই সব ব্যক্তিদের—বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানান, যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবিত করার এবং অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা বনাঞ্চল থেকে সশস্ত্র নকশালদের নির্মূল করতে এবং দেশকে সেই সঙ্কট থেকে মুক্ত করতে সফল হয়েছি। তবে সশস্ত্র নকশালরা বিদায় নিলেও 'দিমাগি নকশাল' বা বুদ্ধিবৃত্তিক নকশালরা রয়ে গেছে এবং এই মানসিকতা পোষণকারীরা সুযোগের অপেক্ষায় আছে।"

‘দিমাগি নকশাল’দের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার বার্তা

তিনি আরও বলেন, "তারা হিংসা ও বিভেদের পথ প্রশস্ত করছে। সমাজকে ভুল পথে চালিত করতে তারা নানা কৌশল অবলম্বন করছে। আমাদের এই 'দিমাগি নকশাল'দের চিহ্নিত করতে হবে। তাদের বিচ্ছিন্ন করতে হবে এবং দেশের যুবসমাজকে একটি উন্নত দেশ গঠনের মূলধারার প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।" প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০১৪ সালেই তাঁর সরকার ভারতকে নকশালবাদ থেকে মুক্ত করার সংকল্প নিয়েছিল এবং দাবি করেন যে সেই অভিযানের ফলে সশস্ত্র বিদ্রোহ এখন নির্মূলের পথে।

২০১৪ সাল থেকেই নকশালমুক্ত ভারতের সংকল্প

২০১৪ সালে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্ষমতায় আসার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, "নকশালবাদ একসময় মাটিকে রক্তে রঞ্জিত করেছিল। সরকার তখন দেশকে নকশালবাদ থেকে মুক্ত করার অঙ্গীকার করেছিল। যেসব এলাকা একসময় নকশাল হিংসার জন্য পরিচিত ছিল, সেখানে এখন উন্নয়ন ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ গড়ে উঠেছে। যেখানে একসময় নকশালদের গুলি চলত, যেখানে মাটি রক্তে ভিজে যেত, আজ সেই নকশাল-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেই উন্নয়ন, আস্থা ও প্রচেষ্টার ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা উড়ছে।"

‘মাওবাদী মানসিকতা’ নিয়ে বড় অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বছরের পর বছর ধরে মাওবাদী মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা দেশের ক্ষমতার অলিন্দে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছিল। এমনকি সরকারি কমিটির উপদেষ্টা হিসেবেও এই মাওবাদী মানসিকতা নীতি-নির্ধারণকে প্রভাবিত করেছে।" তরুণ প্রজন্ম, পরিবার এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপর নকশালবাদ ও মাওবাদের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে মোদী বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে কয়েক দশকের পুরনো এই চ্যালেঞ্জগুলো নির্মূল করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, প্রায় চার দশক ধরে নকশালবাদ দেশের বিশাল অংশ ও সেখানকার জনগণকে বন্দুকের নলের মুখে বন্দি করে রেখেছিল এবং মাওবাদীরা সাংবিধানিক ব্যবস্থার উপর আঘাত হেনেছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি আরও যোগ করেন, "২০১৪ সালে আপনারা যখন আমাদের সুযোগ দিয়েছিলেন, সেদিনই আমরা সংকল্প নিয়েছিলাম যে দেশকে নকশালবাদ থেকে মুক্ত করব। আজ আমি গর্বিত যে নকশাল ও মাওবাদী হিংসা তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে। টিকে থাকার মতো শক্তি আর তাদের নেই এবং আমরা দ্রুতই এদের সম্পূর্ণ নির্মূলের পথে এগিয়ে চলেছি।"

তাঁর এই মন্তব্য সরকারের ‘নকশালবাদ’ বিষয়ক বয়ানের পরিধি সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়—যা কেবল মধ্য ও পূর্ব ভারতের কিছু অংশে সক্রিয় সশস্ত্র বিদ্রোহের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং প্রধানমন্ত্রী মোদী যাকে ‘মতাদর্শগত বা বুদ্ধিবৃত্তিক বাস্তুতন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, তার বিরুদ্ধে এক বৃহত্তর সতর্কবার্তাও বটে। কারণ এই ব্যবস্থা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জননীতিকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে।