হরিয়ানার জিন্দ জেলায় প্রথমবার মহিলাদের নেতৃত্বে মহাপঞ্চায়েত বসল। নওগামা খাপের এই সভায় লাভ ম্যারেজ, লিভ-ইন সম্পর্ক এবং পণপ্রথার বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ হয়েছে। খাপের অধীন ২১টি গ্রামে এই নিয়ম লাগু করার কথা বলা হয়েছে।

হরিয়ানার জিন্দ জেলায় একটা বড় ঘটনা ঘটেছে। এখানকার নওগামা খাপ রামরাই গ্রামে প্রথমবার মহিলাদের নেতৃত্বে একটি মহাপঞ্চায়েতের আয়োজন করে। এই সভায় লাভ ম্যারেজ, লিভ-ইন সম্পর্ক এবং পণপ্রথার মতো বিষয়ের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ করা হয়েছে। খাপের আওতায় থাকা ২১টি গ্রামে এই নিয়মগুলো চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

খাপ পঞ্চায়েতে মহিলাদের সভা

এই মহাপঞ্চায়েতের সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয় ছিল, পুরো সভাটাই মহিলারা চালিয়েছেন। পুরুষ সদস্যরা পেছনে বসে কেবল সভা পর্যবেক্ষণ করেছেন। বিয়ে সংক্রান্ত রীতিনীতি, পণপ্রথা, বন্দুকের আস্ফালন বা ‘গান কালচার’ এবং আপত্তিকর বিষয়বস্তুর মতো বেশ কিছু সামাজিক সমস্যা নিয়ে এখানে আলোচনা হয়।

প্রেম থেকে লিভ-ইন , সবই নিষিদ্ধ

সভায় পাশ হওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, নওগামা খাপের আওতায় থাকা ২১টি গ্রামে লাভ ম্যারেজ, লিভ-ইন সম্পর্ক এবং পণপ্রথা মেনে নেওয়া হবে না। অংশগ্রহণকারীরা ‘গান কালচার’ এবং আপত্তিকর বলে মনে করা বিষয়বস্তুর বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

এই সিদ্ধান্তগুলো যাতে সবাই মেনে চলে, তার জন্য সচেতনতা বাড়াতে ২১ জনের একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা খাপের অধীন গ্রামগুলিতে যাবেন, সেখানকার পরিবার ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং এই উদ্যোগের জন্য জনসমর্থন চাইবেন।

সর্ব জাতীয় খাপের মহিলা শাখার মহিলা সভাপতি সন্তোষ দাহিয়া সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন, "মহিলারা সমাজের মূল সমস্যাগুলো নিয়ে সরাসরি কথা বলার জন্যই এই মহাপঞ্চায়েতের আয়োজন করেছেন। এর মধ্যে লিভ-ইন সম্পর্ক, লাভ ম্যারেজ, পণপ্রথা এবং বন্দুকবাজির সংস্কৃতির মতো বিষয় রয়েছে।"

খাপ পঞ্চায়েতের মতো একটা ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থায় মহিলাদের এভাবে এগিয়ে এসে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়াকে একটা বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল সম্প্রদায়ের মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়ে দীর্ঘদিনের সামাজিক সমস্যাগুলোর সমাধান করা। তবে, খাপের এই সিদ্ধান্তগুলো তাদের নিজেদের সম্প্রদায়ের জন্য। এগুলি সারা ভারতে প্রযোজ্য আইন বা সাংবিধানিক অধিকারকে অগ্রাহ্য করতে পারে না।