প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স (GRSE)-এর অনুষ্ঠানে বাংলার শিল্পে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে বলে জানালেন। তিনি বলেন, রাজ্য এখন বিনিয়োগ ও উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে। জাতীয় সুরক্ষার জন্য জমি দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী অধিকারীর ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং রবিবার বললেন, পশ্চিমবঙ্গে একটা বড়সড় পরিবর্তন আসছে। তাঁর মতে, একসময় যেখানে শিল্প বন্ধ হয়ে যেত, এখন সেখানে বিনিয়োগ আর নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অর্থাৎ রাজ্য জুড়ে উন্নয়নের নতুন হাওয়া বইছে।
গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) লিমিটেডের ভূমিপুজো অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজনাথ সংবাদমাধ্যমকে এ কথা বলেন। সীমান্তের সুরক্ষার জন্য দ্রুত প্রশাসনিক সমন্বয়ের কথাও তিনি তুলে ধরেন। রাজনাথ জানান, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা জমি হস্তান্তরের কাজ আঞ্চলিক নেতৃত্ব খুব তাড়াতাড়ি করে দিয়েছে।
উন্নয়নের নতুন গন্ধ
রাজ্যের এই ইতিবাচক পরিবর্তন এবং শিল্পের গতি দেখে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, "বাংলার বাতাসে এখন একটা নতুন গন্ধ পাচ্ছি। এটা শুধু পরিবর্তনের গন্ধ নয়, এটা উন্নয়নের গন্ধ। বিনিয়োগ আর নতুন সুযোগের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত। এই পাঁচটি প্রকল্পই প্রমাণ করে যে উদ্দেশ্য সৎ হলে উন্নয়নের গতি কেউ আটকাতে পারে না। একটা সময় বাংলা থেকে শুধু শিল্প বন্ধের খবর আসত, আর এখন নতুন শিল্প তৈরির খবর আসছে। শুভেন্দু অধিকারী আসার পর থেকে এখানে সবকিছুই শুভ হচ্ছে।"
যে ৫টি মেগা প্রকল্পের সূচনা হল আজ-
রবিবার ৩,৪০০ কোটি টাকার মোট ৫টি মেগা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ভূমিপুজোর সূচনা করেন রাজনাথ সিং। প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে—
রায়চক শিপইয়ার্ড
টিম্বার পন্ড শিপ বিল্ডিং ফ্যাসিলিটি
দামোদর শিপ বিল্ডিং ফ্যাসিলিটি
রেডিয়াল ফোর্জিং প্ল্যান্ট
৩০০০ টন ওপেন ডাই ফোর্জিং প্রেস
জাতীয় সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য দ্রুত জমি বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে রাজনাথ সিং বলেন, শুভেন্দু অধিকারী জাতীয় সুরক্ষার বিষয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছেন। কথা অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী মাত্র ১০৬ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে ১১ একর জমি দিয়েছেন। রাজনাথ আরও যোগ করেন, "বাংলাই দেশকে নতুন দিশা দেখিয়েছে, 'বন্দেমাতরম' উপহার দিয়েছে।"
প্রতিরক্ষায় আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, উন্নত দেশ হওয়ার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আত্মনির্ভর হতে চায়। এই লক্ষ্যেই তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির একাধিক বড় পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
এই কৌশলগত বিনিয়োগের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক দিক এবং রাজ্যের ঐতিহাসিক অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, "এই বিনিয়োগ শুধু আজকের জন্য নয়, ভবিষ্যতের জন্যও। প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকার পাঁচটি প্রকল্পের শিলান্যাস করা হল। নবরত্ন সংস্থা GRSE-এর এই প্রকল্পগুলি উন্নত ভারত গড়ার পথে একটা বড় পদক্ষেপ।"
তিনি আরও বলেন, "এই মাটি একসময় শিল্পবিপ্লবের কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত ছিল। আমরা আবার সেই পথেই এগোচ্ছি। এখানে যে প্রকল্পগুলি চালু হচ্ছে, তাতে শুধু প্রতিরক্ষা উৎপাদনই বাড়বে না, নতুন চাকরির সুযোগও তৈরি হবে।"
জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে সংযোগ
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গে বর্তমান উৎপাদনের মাইলফলকগুলিকে যুক্ত করে রাজনাথ সিং বলেন, "প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লা থেকে 'সপ্তধারা'-র (সাতটি উন্নয়নের ধারা) কথা বলেছিলেন। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র তার মধ্যে একটি। প্রধানমন্ত্রী এই ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার ওপর জোর দিয়েছিলেন। আজকের এই প্রকল্পগুলো সেই পথেই এক-একটা পদক্ষেপ।"
GRSE-এর 'নবরত্ন' সাফল্যের প্রশংসা
দেশীয় জাহাজ নির্মাতা সংস্থাগুলির কাজের প্রশংসা করে রাজনাথ সিং বলেন, গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) শত শত আধুনিক জাহাজ তৈরি করে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে।
দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের কৌশলগত গুরুত্ব এবং এই অঞ্চলের নৌ-নির্মাণের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের কথা বলতে গিয়ে তিনি যোগ করেন, "GRSE শিপইয়ার্ড সবসময় চ্যালেঞ্জ নিতে এগিয়ে এসেছে। আইএনএস দ্রোণগিরিও এখানেই তৈরি হয়েছিল। আপনারা ৮০০-র বেশি জাহাজ বানিয়েছেন এবং আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে কাজ করছেন। আমরা দ্রুত বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছি। 'নবরত্ন' তকমা পাওয়ায় GRSE-কে অভিনন্দন।"
রাজনাথ আরও বলেন, “YEL-ও আমাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের একটা বড় স্তম্ভ। ২০২১ সালের অক্টোবরে কাজ শুরু করেও এই সংস্থা আর্থিক এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রীও জানান, বাংলায় এই বিনিয়োগের ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। রাজ্যের অর্থনীতিরও উন্নতি হবে। শুভেন্দুর কথায়, ‘এখানে প্রশিক্ষিত শ্রমিক আছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো। অনেকেই কাজ পেতে পারেন।’


