- Home
- India News
- Maharashtra iPhone Case: ৩ জনের মৃত্যুর পিছনে শুধু EMI সমস্যা? সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে নয়া জল্পনা
Maharashtra iPhone Case: ৩ জনের মৃত্যুর পিছনে শুধু EMI সমস্যা? সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে নয়া জল্পনা
মহারাষ্ট্রে আইফোনের ইএমআই নিয়ে বচসার জেরে পাহাড় থেকে পড়ে মৃত্যু বাবা-মা ও ছেলের। মৃত্যুর ঠিক আগের দিনই ইউটিউবে সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়ে ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন মা সঙ্গীতা, যা ঘিরে উঠছে নতুন প্রশ্ন।

সম্ভাজিতে i-Phone কাণ্ডের মর্মান্তিক পরিণতি
মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজি এলাকার ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা দেশ। যার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। একটা মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে ঝগড়া, আর তার জেরে শেষ হয়ে গেল গোটা একটা পরিবার। শুক্রবার মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজি জেলার খবদা হিল (Khavda Hill) থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে এক ১৮ বছরের তরুণ। তাকে বাঁচাতে গিয়ে বাবাও টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যান। চোখের সামনে স্বামী ও ছেলের মর্মান্তিক পরিণতি দেখে পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেন মা। এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে পরিবারের তিন সদস্যেরই।

আইফোনের ইএমআই নিয়ে বচসাই কাল হল
মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগর জেলায় সম্প্রতি একটি আইফোন কিনেছিলেন ১৮ বছরের কুণাল। ইএমআই মেটাতে বাড়িতে টাকা চাইলে বাবা-মা রাজি না হওয়ায় শুরু হয় বচসা। রাগে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি।
তিন ঘণ্টার ব্যার্থ চেষ্টা
রাগারাগির পরই তিসগাঁও এলাকার কোঢ্যা পাহাড়ে উঠে খাদের ধারে গিয়ে দাঁড়ান কুণাল। খবর পেয়ে ছুটে আসেন মা সঙ্গীতা ও বাবা মুরলীধরও। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেকে ফেরানোর চেষ্টা করেন বাবা-মা। কাছে গেলেই ঝাঁপ দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন কুণাল। জড়ো হন গ্রামবাসীরাও।
ছেলেকে টেনে আনতে এগিয়ে যান বাবা মুরলীধর। এরপরই দু’জনে একসঙ্গে ২০০ ফুট গভীর খাদে গড়িয়ে পড়েন। চোখের সামনে এই দৃশ্য দেখে ঝাঁপ দেন সঙ্গীতাও। মাত্র কয়েক মূহুর্তের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় গোটা পরিবার। তেমনই জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পুলিশের বয়ান
সিনিয়র পুলিশ অফিসার রামেশ্বর গাডে জানিয়েছেন, পাহাড়টি প্রায় ৪০০-৫০০ ফুট উঁচু ছিল। পুলিশ ও দমকল কর্মীরা অনেক চেষ্টা করেও ওই তরুণকে বাঁচাতে পারেননি। তিনি বলেন, "একটা ফোনের জন্য পুরো পরিবারটা শেষ হয়ে গেল। বাবার সঙ্গে মোবাইল নিয়ে ঝগড়া করে ছেলেটি বাবাকে সঙ্গে নিয়েই ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। পুলিশ এবং দমকল বাহিনী তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল। ছেলেটির বাবা পেশায় একজন ড্রাইভার ছিলেন।"
শুধুই কি আইফোন নিয়ে সমস্যায়?
ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত। তাতেই সামনে এসেছে একাধিক তথ্য। তাতে তদন্তকারীদের অনুমান শুধুই আইফোনের জন্যই এই ঘটনা ঘটেছে। সম্পর্কের টানা পোড়েনও ছিল এই মর্মান্তিক ঘটনার পিছনে। কুণালের
মৃত্যুর ঠিক আগের দিন, বৃহস্পতিবার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন মা সঙ্গীতা। সেখানে সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়ে মরাঠীতে বার্তা দেন তিনি, যা প্রকাশ্যে আসার পর নতুন প্রশ্ন উঠছে। সঙ্গীতা বলেছিলেন, '‘যে তোমাকে আর তোমার ভালবাসাকে গুরুত্ব দেয়, তার জন্য জীবন দিয়ে দিতে প্রস্তুত হও। যদি কেউ তোমাকে গুরুত্ব না দেয়, তার জন্য কিছু করার মানে নেই।' তিনি বলেছিলেন, সম্পর্ক দুই দিক থেকেই সামান হওয়া উচিৎ। উদাহরণ হিসেবে তিনি দুই দিকে রুটি সেঁকার কথাও বলেন।
পারিবারিক অশান্তি
সূত্রের খবর, বছর ছয়েক আগে অসুখে সঙ্গীতা-মুরলীধরের বড় ছেলের মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই আলাদা থাকতেন সঙ্গীতা। ২৯ হাজার অনুগামীর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে মাঝেমধ্যেই ভিডিয়ো পোস্ট করতেন তিনি, কখনও কখনও ছেলে কুণালকেও নিয়ে আসতেন সেখানে। অন্য একটি ভিডিয়োয় স্বামীর সংসারে ননদদের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তিনি, যদিও নির্দিষ্ট করে কারও নাম নেননি। তাঁর একের পর এক ভিডিয়োতেই পরিবারের অন্দরে অশান্তির আঁচ ধরা পড়েছে।
আগেও আত্মহত্যার চেষ্টা!
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বছরখানেক আগে একবার আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে একই জায়গায় গিয়েছিলেন কুণাল, তখন পুলিশ তাঁকে বুঝিয়ে নিরাপদে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল। তবে এ যাত্রায় তা সম্ভব হয়নি।

