বর্ষার বিরতির পর কেদারনাথ যাত্রার দ্বিতীয় পর্বের প্রস্তুতি তুঙ্গে। DGCA-র ছাড়পত্র পেলেই আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে তীর্থযাত্রীদের জন্য হেলিকপ্টার পরিষেবা আবার চালু করা হবে। হিমালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে।

কেদারনাথ যাত্রার দ্বিতীয় পর্বের প্রস্তুতি

বর্ষার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর কেদারনাথ যাত্রার দ্বিতীয় পর্বের জন্য প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কেদারনাথ উপত্যকায় হেলিকপ্টার পরিষেবা আবার চালু করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সব ঠিক থাকলে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে হেলিকপ্টার চলাচল শুরু হবে। তবে টিকিট বুকিং কবে থেকে শুরু হবে, তা খুব তাড়াতাড়ি জানিয়ে দেওয়া হবে।

রুদ্রপ্রয়াগের জেলাশাসক বিশাল মিশ্র সংবাদসংস্থা ANI-কে জানিয়েছেন, "বর্ষার জন্য তীর্থযাত্রীদের হেলিকপ্টার পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ডিজিসিএ-র একটি দল সব কিছু খতিয়ে দেখতে আসবে। তাদের ছাড়পত্র পেলেই পরিষেবা আবার চালু করে দেওয়া হবে।" তিনি আরও বলেন, "আমি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছি। যাত্রাপথে কোনও ক্ষতি হয়ে থাকলে তা দ্রুত সারিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীও সময়মতো সব প্রস্তুতি শেষ করার কথা বলেছেন। নজরদারি ব্যবস্থা ১০০ শতাংশ সতর্ক থাকবে।" যাত্রার দ্বিতীয় পর্ব সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। কেদারনাথ মন্দির হল দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম এবং চারধামের একটি, যা উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় অবস্থিত।

বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা

শুক্রবার জেলাশাসক বিশাল মিশ্র জানান, হিমালয়ের ভঙ্গুর এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি প্রতিবেশী পাহাড়ি রাজ্যগুলিতে আবহাওয়ার অবনতি এবং নেপালে আকস্মিক বন্যার কারণে প্রশাসন আরও বেশি সতর্ক। তিনি বলেন, "২০১৩ সালের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর থেকেই রুদ্রপ্রয়াগ জেলার কেদারনাথ অঞ্চলকে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে মনে করা হয়। তখন থেকেই প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে সর্বক্ষণ নজরদারি চালায়।"

এ বছর রেকর্ড সংখ্যক তীর্থযাত্রী

এ বছর উত্তরাখণ্ডে বর্ষা বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও, গত বছরের তুলনায় চারধাম যাত্রায় তীর্থযাত্রীর সংখ্যা ৫ লক্ষ ২২ হাজার ৬৩৪ জন বেশি। এখনও পর্যন্ত চারটি ধামে মোট যতজন তীর্থযাত্রী এসেছেন, তার হিসাব অনুযায়ী বদ্রীনাথে ১৬,৫৪,২৬৩ জন, কেদারনাথে ১৪,৬৫,৩৭০ জন, গঙ্গোত্রীতে ৭,৪৭,৬৭১ জন এবং যমুনোত্রীতে ৬,৬৮,১৬৩ জন দর্শন করেছেন। এছাড়া ২,৬৯,৪৩০ জন ভক্ত হেমকুণ্ড সাহিবে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

ভগবান বদ্রী বিশালকে দর্শনের জন্য ভক্তদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ দেখা গেছে। শুধুমাত্র বদ্রীনাথেই গত বছরের তুলনায় ৩,৬২,৩০৪ জন বেশি তীর্থযাত্রী এসেছেন।