কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা শ্বাসকষ্টের সমস্যার কারণে দিল্লির এইমস-এ ভর্তি হয়েছেন। তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং আপাতত অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।

নয়াদিল্লি (১৪ আগস্ট): হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়লেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা। শ্বাসকষ্টের সমস্যা হওয়ায় তাঁকে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS)-এ ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে কার্ডিওলজি বিভাগে রেখে চিকিৎসা চলছে।

জেপি নাড্ডার অবস্থা স্থিতিশীল

দিল্লির এইমস-এর কার্ডিওলজি বিভাগে নাড্ডার বেশ কিছু পরীক্ষা করা হয়েছে। হাসপাতাল একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, "কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে এইমস-এ ভর্তি হয়েছেন। তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থা খতিয়ে দেখে করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাফি করা হয়েছে। ওনার অবস্থা এখন স্থিতিশীল।" আপাতত তাঁর চিকিৎসা চলছে। সব পরীক্ষার রিপোর্ট আসার পর চিকিৎসকরা একটি হেলথ বুলেটিন প্রকাশ করতে পারেন।

জানা গেছে, ১৩ আগস্ট সন্ধ্যায় জেপি নাড্ডার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। সমস্যা বাড়তে থাকায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এইমস-এর একটি বিশেষ চিকিৎসক দল তাঁর স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখছে।

রাজনৈতিক জীবন

মূলত হিমাচল প্রদেশের বাসিন্দা হলেও ১৯৬০ সালের ২ ডিসেম্বর বিহারের পাটনায় জন্ম জেপি নাড্ডার। তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন এবং পরবর্তীকালে হিমাচল প্রদেশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। নিজের তরুণ বয়সে জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে চালিত একাধিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন নাড্ডা। তিনি অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৮৯ সালে সংগঠনটির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৯১ সালে নাড্ডাকে ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার সভাপতি করা হয়। এরপর ১৯৯৩ সালে তিনি প্রথমবারের জন্য হিমাচল প্রদেশ বিধানসভার বিধায়ক নির্বাচিত হন এবং বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব সামলান। ১৯৯৮ সালে তিনি পুনরায় বিধায়ক নির্বাচিত হন এবং রাজ্য বিজেপি সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হন।

২০১০ সালে নাড্ডাকে ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এরপর ২০১২ সালে তিনি প্রথমবারের জন্য রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলেছেন। ২০১৯ সালের জুন মাসে তাঁকে ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় কার্যকরী সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় সভাপতি হন।