কলকাতার রাস্তায়  জনৈক কেসি পাল যেমন অহরহ প্রমাণ করার চেষ্টা করেন, পৃথিবী সূর্যকে নয়, বরং সূর্য পৃথিবীকে ঘুরছে, আমেরিকার রাস্তায় তেমন মাইকেল হিউজ। এই শখের মহাকাশচারীর ধারণা, পৃথিবী গোল নয় বরং চ্য়াপ্টা। আর তা প্রমাণ করতে গিয়েই বেঘোরে প্রাণ হারালেন তিনি।

ছোটবেলায় ভূগোল বইতে পড়তে হয়েছে, পৃথিবীর আকৃতি কীরকম? কেউ বলে গোল, কেউ  বলে চ্য়াপ্টা, কেউ বলে কমলা লেবুর মতো। অনেক তর্কের পর সবাই একমত হয়, পৃথিবীর আকৃতি পৃথিবীর মতো। না পুরো গোল, না পুরো চ্য়াপ্টা। কিন্তু যে তর্কের মীমাংশা একরকম হয়েই গিয়েছে, সেই তর্কই নতুন করে তুললেন ৬৪ বছরের শখের মহাকাশচারী  মাইকেল হিউজ বা ম্য়াড মাইক। কেন জানি না তাঁর মনে হয়েছিল, পৃথিবীর আকৃতি গোল নয়, বরং চ্য়াপ্টা। আর যেমন ভাবা তেমন কাজ।  কলকাতার রাস্তায় কেসি পালকে দেখা যায়, রাস্তায় রাস্তায় বাতিস্তম্ভের তলায় দিবারাত্রি লিখে চলেছেন-- সূর্য পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। এমনকি বইমেলার টয়লেটে অবধি পৌঁছে যায় কেসি পালের হাতে লেখা পোস্টার। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ভদ্রলোকের প্রয়াস ওই অবধি থেমে থাকেনি। তাঁর ধারণা যে সঠিক তা প্রমাণ করতে গিয়ে তিনি ক্য়ালিফোর্নিয়ার এক জনবিহীন অঞ্চলে এক বাষ্পচালিত রকেট ওড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর দুর্ভাগ্য়, রকেটটি ওড়ার সঙ্গেসঙ্গেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। একেবারে মাটিতে আছড়ে পড়ে। তারপর বিস্ফোরণে আগুন ধরে যায়। আর ঘটনাস্থলেই মৃত্য়ু হয় তাঁর।

জানা গিয়েছে, ক্য়ালিফোর্নিয়ার বারসটোর বাসিন্দা মাইকেল কিন্তু পেশায় ছিলেন একজন স্টান্টম্য়ান। পৃথিবী যে গোল নয়, বরং চ্য়াপ্টা, সেই বিশ্বাস তাঁর দীর্ঘদিনের।  আর তাঁর ধারণা যে সঠিক তা প্রমাণ করতে তিনি উঠেপড়ে লেগেছিলেন। কিন্তু শুধুই কি আর বিশ্বাসে চিঁড়ে ভেজে? তাই একসময়ে তিনি ঠিক করে ফেললেন, প্রমাণ করেই ছাড়বেন। যেমন ভাবনা, তেমন কাজ।  সায়েন্স চ্য়ানেলের সঙ্গে একটি চুক্তি করে ফেললেন। ঠিক করা হল, তাঁর বাড়িতে তৈরি রকেটের সাহায্য়ে তিনি দেড় হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করবেন আর প্রমাণ করে ছাড়বেন যে,  পৃথিবীর আকৃতি গোল নয়, বরং চ্য়াপ্টা। সায়েন্স চ্য়ানেল তা লাইভ সম্প্রচার করবে। অনেক চেষ্টার পর শেষ অবধি শনিবার সেই রকেট যখন উড়তে শুরু করল, তখনই দুর্ঘটনা ঘটল। ঘটনাস্থলেই মৃত্য়ু হল মাইকেলের হিউজের।

পৃথিবী চ্য়াপ্টা কিনা, তা আর জানা গেল না।