দিল্লিতে নিহতের সংখ্য়া ২০ ছুঁয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিল্লিবাসীর কাছে শান্তি বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন। আসরে নেমেছেন  অমিত শাহ থেকে শুরু করে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল পর্যন্ত। উত্তর-পূর্ব দিল্লির কিছু জায়গায় জমায়েত দেখা মাত্র গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  সেনা না-নামলেও সিআরপিতে কার্যত ছেয়ে গিয়েছে উত্তেজনাপ্রবণ অঞ্চল। ঠিক এই অবস্থায়, যখন দেশের মধ্য়ে সংখ্য়ালঘুদের প্রতি আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে, তখন যেন প্রত্য়াশিতভাবেই কটাক্ষ ধেয়ে এল দেশের বাইরে থেকে।

পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এদিন টুইট করে যা বললেন, তার নির্যাস হল, 'বোতল থেকে দৈত্য় বেরিয়ে পড়েছে'। ইমরান খান তাঁর টুইট বার্তায় লিখেছেন,  "ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের ঘটনার পরেই আমি রাষ্ট্রপুঞ্জে বলেছিলাম, বোতল থেকে দৈত্য় বেরিয়ে পড়েছে। রক্তপাত আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলাম। কাশ্মীর দিয়ে যার শুরু হয়েছিল। এবার ভারতে থাকা ২০ কোটি মুসলিম এখন ওদের লক্ষ্য়বস্তুতে পরিণত হয়েছেন। একে রুখতে এগিয়ে আসতে হবে গোটা বিশ্বকে। "

টুইটবার্তায় একইসঙ্গে কৌশলী চাল চেলেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, "পাকিস্তানে অমুসলিম  ও তাঁদের ধর্মস্থানের ওপর কেউ হামলা করতে এলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্য়বস্থা নেওয়া হবে। মনে রাখতে হবে, এদেশে(পাকিস্তানে) সংখ্য়ালঘুরা কিন্তু সমান অধিকারই পান।"

যদিও এই টুইট বার্তার পর কেউ কেউ ইমরান খানকে মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন, পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গা থেকে কেন এত ঘনঘন সংখ্য়ালঘু হিন্দু যুবতী বা কিশোরীদের অপহরণের খবর আসছে। কেনই-বা তাদের ধর্মান্তরিত করে ধরে ধরে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্য়দিকে কেউ কেউ বলতে চেয়েছেন, সিএএ-বিরোধী আন্দোলনে এদেশে সংখ্য়ালঘুদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ে যাচ্ছেন হিন্দু ও শিখরা। এমনকি যে শাসকদেলর বিরুদ্ধে সংখ্য়ালঘুদের প্রতি আক্রমণের অভিযোগ উঠছে বারেবারে, সেই দলের কাউন্সিলরও নিজের প্রাণ বিপন্ন করে বাঁচিয়েছেন মুসলিম দোকানির পরিবারকে। আর এটাই এদেশের সংস্কৃতি। এখানে বাইরে থেকে কাউর কোনও পরামর্শ বা উপদেশের প্রয়োজন নেই।