ইরানের বিভিন্ন জায়গায় সারারাত ধরে হামলা চালাল আমেরিকা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সাম্প্রতিক হামলার চেষ্টার জবাবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন—যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে—এবং আরও প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন।

ইরানের বিভিন্ন জায়গায় সারারাত ধরে হামলা চালাল আমেরিকা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সাম্প্রতিক হামলার চেষ্টার জবাবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন—যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে—এবং আরও প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকেই দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন। সেখানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সৃষ্ট ধাতব টুকরো বা শার্পনেল গিয়ে পড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এই সপ্তাহে সরাসরি বোমাবর্ষণ পুনরায় শুরুর পর নিজের প্রথম বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই বলেন, ওয়াশিংটনের জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে অবিস্মরণীয় শিক্ষা অপেক্ষা করছে। আইআরজিসি-র মুখপাত্র হোসেইন মোহেবিও 'এক্স' (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেন যে, তারা তাদের নতুন হামলার জন্য অনুতপ্ত হবে এবং আক্রমণকারীদের জন্য কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা

সংঘাতের এই সর্বশেষ ধাপটি শুরু হয় রবিবার, যখন ওয়াশিংটন ইরানের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত হানে। এর জবাবে তেহরানের বাহিনী জর্ডন ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এছাড়া অজ্ঞাতপক্ষের হামলায় দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। মঙ্গলবার আরও হামলা চালায় আমেরিকা। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, দেশটির দক্ষিণে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী ও উপসাগরের একটি দ্বীপে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং মার্কিন বাহিনী দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কেরমানের একটি বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা (IRNA)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিরিক শহরের কুহেস্তাক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আঘাত হানার পাশাপাশি 'চারটি প্রজেক্টাইল' বা ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তু চাবাহার ও কোনারাক কাউন্টির বিভিন্ন এলাকাতেও আঘাত হেনেছে। তবে এতে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা উল্লেখ করা হয়নি।

তবে মার্কিন সেনাবাহিনী অসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার খবর অস্বীকার করেছে। সাম্প্রতিক হামলায় অসামরিক হতাহতের বিষয়ে কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, "আইআরজিসি (IRGC)-র বিপরীতে মার্কিন সেনাবাহিনী কখনই অসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না।" এর আগে সেন্টকম 'এক্স' (X)-এ জানিয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ওই অঞ্চলে মোতায়েনকৃত মার্কিন সেনাদের উপর রেভল্যুশনারি গার্ডসের সাম্প্রতিক হামলার চেষ্টার জবাবেই এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সতর্ক করে বলেছিলেন যে, বিশাল ও শক্তিশালী এই হামলাগুলো ছিল হরমুজ প্রণালীতে সমুদ্র-মাইন পাতার ইরানিদের ব্যর্থ প্রচেষ্টার প্রতিশোধ। নিজের 'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, "যদি ব্যর্থ রাষ্ট্র ইরান এই অত্যন্ত যৌক্তিক হামলার প্রতিশোধ নেয়, তবে তাদের উপর আরও কঠোর ও বড় মাত্রায় আঘাত হানা হবে। তবে সেটিই হবে না তাদের উপর চালানো সবচেয়ে বড় হামলা; আসল বড় হামলাটি এখনও অপেক্ষমাণ—আর সেটি সম্পন্ন হলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের খুব সামান্যই অবশিষ্ট থাকবে!"

ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ

ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে আইআরজিসি জানায় যে তারা জর্ডনে অবস্থিত মার্কিন মেরিন কোরের ঘাঁটি 'ক্যাম্প টিটিন'-এ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। জর্ডনের সেনাবাহিনীও জানিয়েছে যে, তারা ইরান থেকে ছোড়া অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। ইজরায়েল ও সৌদি আরবের সীমান্তের কাছে আকাবা উপসাগরের তীরে অবস্থিত মার্কিন প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে কোনও আঘাত বা হতাহতের ঘটনা তারা নিশ্চিত করেনি। সেনাবাহিনী আরও জানায়, অন্য তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে পড়েছে।

কুয়েত ও বাহরাইনেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে এবং নাগরিকদের শান্ত থেকে নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে ইরান সতর্ক করে বলেছে যে, মার্কিন বাহিনীর উপর তাদের হামলা অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না তারা তাদের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়। ইরানের ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ কেন্দ্রীয় সদর দফতরের মুখপাত্র কর্নেল ইব্রাহিম জুলফাগারি ‘এক্স’ (X)-এ পোস্টে জানিয়েছেন যে, তেহরানের বাহিনী ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আমেরিকানদের বিরুদ্ধে এই আক্রমণাত্মক অভিযান ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, যতক্ষণ না তারা তাদের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়।