২৬ অগস্টের বিধ্বংসী হড়পা বানে নেপালের মানচিত্র বদলে গেছে, নিশ্চিহ্ন হয়েছে একাধিক গ্রাম। মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে এবং এখনও প্রায় ৪ হাজার মানুষ নিখোঁজ। উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়া হলেও, বহু পরিবার প্রিয়জনের আশা ছেড়ে প্রতীকী শেষকৃত্য সম্পন্ন করছে।
ক্রমে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। ২৬ অগস্টের হড়পা বান পুরোপুরি বদলে দিয়েছে নেপালের মানচিত্র। নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে একাধিক গ্রাম। নেপালে ২৬ অগস্টের হড়পা বানের পর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ১০০৩ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সে দেশের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বলেছে, এখনও প্রায় ৪ হাজার জনের হদিশ নেই। বিপর্যয়ের পর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১২ হাজার জনকে। তবে, আর কোনও ভারতীয় উদ্ধার হয়েছে কিনা, তা জানা যায়নি।
নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার সে দেশের বিপর্যস্ত আটটি জেলা থেকে নতুন করে কিছু দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১,০৫০ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। চিতওয়ান থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩২১টি দেহ, নওয়ালপারাসি পূর্ব থেকে উদ্ধার হয়েছে ২১৬ জনের দেহ। নওয়ালপারাসি পশ্চিম থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৭০ জনের দেহ। নুয়াকোটা থেকে ৯৫, গোর্খা থেকে ৬৫, ধড়িং থেকে ৫৭, রাসুয়া থেকে ৪১, তানাহুন থেকে ৩৮ জনের দেহ মিলেছে। চিনের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের দাবি, তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে ভোটেকোশী নদীতে হড়পা বানের পরে ৬ দিন কেটে গেলেও এখনও নিখোঁজ বহু। বিপর্যস্ত এলাকায় উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নিখোঁজদের পরিজনেরা। অনেক নেপালি পরিবার নিখোঁজ আত্মীয়দের সন্ধান পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। অনেকে প্রতীকী দাহ করেছেন। অনেকে কুশপুতুল তৈরি করে শেষকৃত্য করেছেন। তাদের দাবি এভাবে প্রিয়জনের আত্মা শান্তি পাবে।
প্রসঙ্গত, চিন এবং নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীর তীর থেকে বিশাল আকারের কাদা এবং ধ্বংসস্তূপ খসে পড়ার ফলে এই ভয়ঙ্কর হড়পা বানের সৃষ্টি হয়েছে। তীব্র স্রোত ভোটকোশী এবং ত্রিশূলী নদীর গতিপথের গ্রাম এবং শহরগুলোর ওপর আছড়ে পড়েছে। বহু বাড়ি, রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে গিয়েছে। সেই বানে নিহতের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। তাদের মধ্যে আছেন ভারতীয়, আছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ড, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, আমারেকির নাগরিকও।


