নেপালে এই সপ্তাহে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যার পর উদ্ধার হওয়া যেসব মৃতদেহ শনাক্ত করা যায়নি বা কোনও দাবিদার পাওয়া যায়নি, সেগুলো মাটিচাপা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সংক্রমণের ঝুঁকি এবং মৃতদেহগুলোর অবস্থার অবনতির কথা বিবেচনা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

নেপালে এই সপ্তাহে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যার পর উদ্ধার হওয়া যেসব মৃতদেহ শনাক্ত করা যায়নি বা কোনও দাবিদার পাওয়া যায়নি, সেগুলো মাটিচাপা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সংক্রমণের ঝুঁকি এবং মৃতদেহগুলোর অবস্থার অবনতির কথা বিবেচনা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বুধবার সকালে সুনামির মতো ধেয়ে আসা জল ও কাদার স্রোত যখন বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে আঘাত হানে, তখন থেকে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৭৩৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভারতের সীমান্তবর্তী দক্ষিণের জেলা চিতওয়ানে সবচেয়ে বেশি—২৩৩টি—মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত জায়গা ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে মৃতদেহগুলোর পচন রোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অস্থায়ী ব্যবস্থায় রাখা মৃতদেহগুলোর পচন ও দুর্গন্ধ বাড়ার ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এমন সতর্কতার পর শনিবার জেলা কর্তৃপক্ষ মৃতদেহগুলো মাটিচাপা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একজন কর্মকর্তা বলেন, "মৃতদেহের সংখ্যা বাড়তে থাকায় আমরা একটি বাড়িকে 'কুলিং সেন্টার' বা শীতল রাখার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছিলাম।" ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, "সেই বাড়িতেও জায়গা ফুরিয়ে যাওয়ায় সেগুলোকে মাটিচাপা দেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনও বিকল্প ছিল না।"

মৃতদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

মাটিচাপা দেওয়ার আগে মৃতদেহগুলো থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে শনাক্তকরণের সুবিধার্থে শনাক্তকরণ বা রেফারেন্স নম্বর ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় নথিপত্রও সংরক্ষণ করছেন। প্রতিটি মৃতদেহের জন্য একটি স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর ও অবস্থানসূচক ট্যাগ (লোকেশন ট্যাগ) রাখা হচ্ছে, যাতে ডিএনএ মিলে যাওয়ার পর স্বজনরা সেগুলো পুনরায় তুলতে করতে পারেন। শনিবার বিকেল নাগাদ ১০০টিরও বেশি মৃতদেহের ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন হয়েছে এবং সেগুলো মাটি চাপা দেওয়ার প্রস্তুত করা হয়েছে।

১.৫ মিটার গভীর গর্তে কবর

পরবর্তীতে মৃতদেহগুলো যাতে সহজে তোলা যায়, তা নিশ্চিত করতে মাত্র ১.৫ মিটার গভীর গর্ত খোঁড়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুটি গর্তের মধ্যে ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্ব রাখা হচ্ছে, যাতে ডিএনএ মিলের মাধ্যমে শনাক্ত করা নির্দিষ্ট মৃতদেহটিই কেবল উদ্ধার করা সম্ভব হয়। মৃতদেহগুলোকে শনাক্তকরণ নম্বর-সহ ব্যাগে ভরা হচ্ছে। প্রতিটি জায়গায় সাইনবোর্ড-সহ একটি কংক্রিটের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে মৃতদেহের শনাক্তকরণ নম্বরটি উল্লেখ থাকবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ভিডিওর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া নথিবদ্ধ করা এবং জিও-ট্যাগিং করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে থাকা ব্যক্তিদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে ডিএনএ নমুনা জমা দিতে হবে। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেলে নেপালের স্বাস্থ্য বিভাগ মৃতদেহগুলোর ডিএনএ-র সঙ্গে তা মিলিয়ে নির্দিষ্ট মৃতদেহটি শনাক্ত করবে। সেই নম্বরের ভিত্তিতে পুলিশ নথিপত্র যাচাই করে মৃতদেহটি ঠিক কোথায় সমাহিত করা হয়েছিল, তা নির্ধারণ করবে।

এরপর মৃতদেহগুলো কবর থেকে তুলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে

পুলিশ একটি ওয়েবসাইটে শনাক্তহীন ও দাবিদারহীন মৃতদেহগুলোর বিস্তারিত তথ্যও আপলোড করেছে। কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, অনেক বিদেশি নাগরিক-সহ প্রায় ৩০০০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।