
Nepal Flood Rescue Story: ক্লাসরুমে ঢুকল হড়পা বান! তারপর যা করলেন শিক্ষকেরা...কীভাবে রক্ষা পেল ৪০০ জন পড়ুয়া?
Nepal Flood Rescue Story: নেপালের ধাদিংয়ে ভয়াবহ হড়পা বানের কবলে শ্রী বাগেশ্বরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। শিক্ষকদের উপস্থিত বুদ্ধিতে কীভাবে নিরাপদে উদ্ধার হলো পড়ুয়ারা? দেখুন গ্রাউন্ড রিপোর্ট।
Nepal Flood Rescue Story: শিক্ষকদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় রক্ষা পেল শত শত প্রাণ, হড়পা বানের হাত থেকে অলৌকিকভাবে বাঁচল নেপালের স্কুল পড়ুয়ারা
প্রকৃতির তাণ্ডবে মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল চেনা ছবিটা। চোখের পলকে নেমে এল বিধ্বংসী হড়পা বান। চারপাশ যখন জলের তোড়ে ভাসছে, তখনই নিজেদের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতার পরিচয় দিলেন শিক্ষকেরা। তাঁদের তৎপরতায় নেপালের ধাদিং জেলার ‘শ্রী বাঘেশ্বরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়’-এর শত শত পড়ুয়া মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এল। হড়পা বানে স্কুলের ব্যাপক পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হলেও, শিক্ষক ও স্থানীয়দের দ্রুত সিদ্ধান্তে একজন পড়ুয়াও হতাহত হয়নি।
স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, প্রবল বৃষ্টির জেরে হঠাৎই পাহাড়ি নদী ফুলে-ফেঁপে ওঠে এবং ধাদিংয়ের ওই স্কুল চত্বরে জল ঢুকতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে এক মুহূর্তও দেরি করেননি শিক্ষকরা। ক্লাসরুম ছেড়ে তৎক্ষণাৎ সমস্ত ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যান তাঁরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই তীব্র বেগে জল ঢুকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় স্কুলের নীচের তলার শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র।
মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এসে এখনও আতঙ্ক কাটেনি পড়ুয়া ও অভিভাবকদের চোখেমুখে। এক ছাত্র জানায়, ‘হঠাৎ চারদিক থেকে জল ঢুকে পড়ায় আমরা খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু স্যারেরা আমাদের সাহস জোগান এবং হাত ধরে উঁচু জায়গায় নিয়ে যান।’
অভিভাবকদের কথায়, ‘শিক্ষকরা যদি সঠিক সময়ে এই সিদ্ধান্ত না নিতেন, তবে কী পরিণতি হতো তা ভাবলেই শিউরে উঠতে হচ্ছে। তাঁরাই আজ আমাদের সন্তানদের নতুন জীবন দিলেন।’
এক শিক্ষক বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্যই ছিল প্রতিটি পড়ুয়াকে অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে বের করে আনা। স্কুল ভবনের ক্ষতি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সব পড়ুয়া নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পেরেছে, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় স্বস্তি।’
বর্তমানে এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চলছে। তবে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে শিক্ষকদের এই দায়িত্বশীল ও সাহসী ভূমিকা এখন গোটা এলাকায় প্রশংসিত হচ্ছে।