- Home
- World News
- International News
- Nepal Floods: বিপর্যস্ত নেপালে কীভাবে উদ্ধারকাজ করছে সরকার? জানালেন প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ
Nepal Floods: বিপর্যস্ত নেপালে কীভাবে উদ্ধারকাজ করছে সরকার? জানালেন প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ
NEPAL: নেপালে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ৪,৪৫১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে নেমেছে ১৫,৪৩১ জন সেনা ও পুলিশকর্মী। মূলত ভোটে কোশী-ত্রিশূলী করিডোর এলাকায় এই ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চলছে।

নেপালি প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
সরকার দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের কাছে পৌঁছাতে বদ্ধপরিকর। এমনটাই আশ্বাস দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ।
একটি ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী শাহ জানিয়েছেন, বন্যায় ভেসে যাওয়া ভোটে কোশী-ত্রিশূলী করিডোর এবং তার আশেপাশের অঞ্চলে বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। তিনি উদ্ধারকাজের সাফল্য এবং জরুরি পরিষেবার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

উদ্ধারকাজে মোতায়েন ১৫ হাজার নিরাপত্তা রক্ষী
নিরাপত্তা সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আন্তর্জাতিক সহযোগীরা একযোগে তল্লাশি, উদ্ধার এবং পুনর্বাসনের কাজ করছে।
উদ্ধারকাজে মোট ১৫,৪৩১ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে নেপাল পুলিশের ৪,৪৭৩ জন, নেপালি সেনার ৬,৭৫৫ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৪,২০৩ জন রয়েছেন। শাহ বলেন, "রাসুওয়া এবং ভোটে কোশী-ত্রিশূলী করিডোর সহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে এই কর্মীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।"
উদ্ধার ৪ হাজারেরও বেশি
উদ্ধারকারী দলগুলি এখনও পর্যন্ত ৪,৪৫১ জনকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে পড়া ১৯১ জন কর্মীও রয়েছেন। এছাড়াও হেলিকপ্টারে করে ৯৯টি শাটল ফ্লাইটের মাধ্যমে ধুঞ্চে, ত্রিশূলী, তিমুরে এবং স্যাব্রুবেসি থেকে ৫১৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকাজে ১৬টি হেলিকপ্টার
শাহ আরও বলেন, "নেপালি সেনা ও বেসরকারি সংস্থার ১৬টি হেলিকপ্টার একটানা এই ফ্লাইটগুলো চালাচ্ছে। আপার ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং রাসুওয়াগধি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ টানেলগুলিতে আটকে পড়া কর্মীদের উদ্ধারে বিশেষ দল কাজ করছে।"
কর্তৃপক্ষ ১২৯ জন বিদেশি পর্যটককে উদ্ধার করে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। বিদেশ মন্ত্রক একটি বিশেষ এমার্জেন্সি কন্ট্রোল রুম চালু করেছে।
বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা
বিকল্প রাস্তা খুলে রাসুওয়া থেকে কাঠমান্ডু পর্যন্ত হালকা যান চলাচল শুরু হয়েছে। কাঠমান্ডু-মুগলিং-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়ে একমুখী যান চলাচলের জন্য খোলা। ভারত ও চিনের কাছে দশটি ৭০-মিটার বেইলি ব্রিজের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, "উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তার জন্য ভারত, চিন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। উড়ানের সুরক্ষা, ভৌগোলিক সুবিধা এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করে হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হচ্ছে।"
বিপর্যস্ত নেপালকে সাহায্য
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টি স্থানীয় স্তরে ৬৭.৫ মিলিয়ন নেপালি রুপি বিতরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিলে গত ৩৬ ঘণ্টায় ১.৯ বিলিয়ন নেপালি রুপির বেশি জমা পড়েছে। মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্য তাঁদের এক মাসের বেতন এই তহবিলে দান করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনী, স্বাস্থ্য সংস্থা, রেড ক্রস, নেপাল স্কাউটস, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বেসরকারি ক্ষেত্র এবং উন্নয়ন সহযোগীরা একযোগে কাজ করছে।
বিদেশি নাগরিকদের উদ্ধার ও শনাক্তকরণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক দূতাবাস এবং পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি এমার্জেন্সি কন্ট্রোল রুম চালাচ্ছে।
আগাম সতর্কতা জারি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। ২ লক্ষের বেশি এসএমএস অ্যালার্ট পাঠানো হয়েছে।" শাহ আরও জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্থানীয় স্তরের সঙ্গে সরাসরি কাজের তদারকি করছেন। রাস্তাঘাট মেরামতির কাজও দ্রুত গতিতে চলছে।
তেল-জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে সরকার
নুওয়াকোট জেলায় পানীয় জল নিশ্চিত করতে চারটি KUKL ওয়াটার ট্যাঙ্কার এবং ৯০০ কেজি ব্লিচিং পাউডার পাঠানো হয়েছে।
ভৈরবী, সূর্যমতী এবং পঞ্চকন্যা তেল ভান্ডারে ৪১,০০০ লিটার ডিজেল এবং ২৪,০০০ লিটার পেট্রোল মজুত রয়েছে। এছাড়াও ১৭,০০০ লিটার অ্যাভিয়েশন ফুয়েল পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তুত হাসপাতাল
হেলথ এমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার সক্রিয় রয়েছে এবং ছয়টি হাসপাতালকে স্ট্যান্ডবাইতে রাখা হয়েছে। বীর হাসপাতাল, ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টার, ধুলিখেল হাসপাতাল এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। কমপক্ষে ৫,০০০ মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্য সরঞ্জাম, তাঁবু এবং অন্যান্য পরিষেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
টেলিকম পরিষেবা চালুতে জোর
টেলিকম পরিষেবা প্রসঙ্গে তিনি জানান, "ক্ষতিগ্রস্ত ১৯৮টি টাওয়ার সাইটের মধ্যে ১৪৫টিতে পরিষেবা পুনরায় চালু হয়েছে। এর মধ্যে NTC-র ১২০টির মধ্যে ৮২টি এবং Ncell-এর ৭৮টির মধ্যে ৬৩টি সাইট রয়েছে। বাকিগুলিতে পরিষেবা ফেরাতে টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে।"
প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, "নুওয়াকোটের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরে এসেছে, এবং ধুঞ্চেতে বিদ্যুৎ ফেরানোর কাজ চলছে।"
রাসুওয়া জেলার ভোটে কোশী নদীতে এই হড়পা বানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু মানুষ মারা গেছেন বা নিখোঁজ, এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

