পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে শতাব্দী-প্রাচীন হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলার প্রায় দুই সপ্তাহ পর বিবৃতি দিল দেশটির বিদেশ মন্ত্রক। তারা এই অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে খারিজ করেছে। তারা আরও জানিয়েছে যে, প্রবল বৃষ্টির কারণেই কাঠামোটি ধসে পড়েছিল। মন্দিরটি ভাঙার খবর আসার প্রায় এক মাস আগে ২১ জুলাই ভারী বৃষ্টিপাতে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে একটি শতাব্দী-প্রাচীন হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলার প্রায় দুই সপ্তাহ পর বিবৃতি দিল দেশটির বিদেশ মন্ত্রক। তারা এই অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে খারিজ করেছে। তারা আরও জানিয়েছে যে, প্রবল বৃষ্টির কারণেই কাঠামোটি ধসে পড়েছিল। মন্দিরটি ভাঙার খবর আসার প্রায় এক মাস আগে ২১ জুলাই ভারী বৃষ্টিপাতে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আলোচ্য মন্দিরটি পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লাহোর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে নারোওয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে অবস্থিত ছিল এবং এর বয়স আনুমানিক ১০০ থেকে ১২৫ বছর বলে মনে করা হয়। তবে ১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সংবাদসংস্থা পিটিআই (PTI)-এর প্রতিবেদনে জানানো হয় যে ২১ আগস্ট কাঠামোটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
ভারতের উদ্বেগ
পাকিস্তান মসিহা মিল্লাত পার্টি (PMMP)-র সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা পরবর্তীতে অভিযোগ করেন যে নিষিদ্ধ কট্টরপন্থী ইসলামি দল 'তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান' (TLP)-এর সদস্যরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল। তারা কাছের একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (মাদ্রাসা) প্রয়োজনে ওই জমিটি ব্যবহারের লক্ষ্যেই মন্দিরটি ধ্বংস করেছিল। এরপর ২ সেপ্টেম্বর (বুধবার) ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে এই ঘটনাকে "সংখ্যালঘুদের শতাব্দী-প্রাচীন উপাসনালয়ের উপর এক নিন্দনীয় ভাঙচুরের ঘটনা" হিসেবে অভিহিত করা হয়। মন্ত্রক কাঠামোটি রক্ষায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে উদ্বেগজনক এবং পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অব্যাহত অরক্ষিত অবস্থার এক স্পষ্ট নিদর্শন বলে উল্লেখ করে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক তখন ইসলামাবাদকে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং মন্দিরটি পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানায়।
শতাব্দী-প্রাচীন হিন্দু মন্দির ধ্বংসের খবর অস্বীকার
এর জবাবে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক 'এক্স' (X)-এ নিজস্ব বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে শতাব্দী-প্রাচীন মন্দিরটি ইচ্ছাকৃতভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সব খবর প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিকে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবির সমষ্টি বলে অভিহিত করা হয়। মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান স্থানীয় ‘ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড’-এর (১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর ভারতে চলে যাওয়া হিন্দু ও শিখদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা) কর্তাদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন যে ভারী বৃষ্টির কারণেই মন্দিরটি ধসে পড়েছে। খান দাবি করেন, "ভারত যে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে তার বিপরীতে সত্য হল ভারী বৃষ্টির কারণে ২১ জুলাই মন্দিরটির কাঠামোর ক্ষতি হয়েছিল।"
খান আরও দাবি করেন যে, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে হিন্দু মন্দিরটি পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, "স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বৃষ্টির কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখেছে এবং ভবনটি পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।" তিনি যোগ করেন, "তাই এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক যে ভারত তথ্য বিকৃত করছে এবং সস্তা কৌশল অবলম্বন করছে।"


