Russia Launches Massive Attack on Ukraine:ইউক্রেনজুড়ে ফের ভয়াবহ ও বিধ্বংসী আকাশপথে হামলা চালাল রাশিয়া। গতকাল, সোমবার গভীর রাত থেকে যৌথ হামলায় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, অ্যান্টি-শিপ মিছাইল এবং শত শত ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

Russia Launches Massive Attack on Ukraine: ইউক্রেনজুড়ে ফের ভয়াবহ ও বিধ্বংসী আকাশপথে হামলা চালাল রাশিয়া। গতকাল, সোমবার গভীর রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত চালানো এই যৌথ হামলায় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, অ্যান্টি-শিপ মিছাইল এবং শত শত ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। রাজধানী কিয়েভ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা ছিল এই আক্রমণের প্রধান লক্ষ্যবস্তু। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের মতে, সর্বাধিক ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করতেই অত্যন্ত জটিল কৌশলে এই হামলা পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছিল।

কীভাবে হামলা হল

রাশিয়া ওনিক্স অ্যান্টি-শিপ, ইস্কান্দার-এম, এস-৪০০, কেএন-২৩ ব্যালাস্টিক এবং খ-১০১ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি প্রায় ১৬৬টি শাহেদ (যার অর্ধেকের বেশি জেট-চালিত) ও ডিকয় ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালায়। ইউক্রেনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী যৌথভাবে ১৭৫টি আকাশ লক্ষ্যবস্তু (১৪২টি ড্রোন, ৩১টি ক্রুজ এবং ২টি ব্যালাস্টিক/অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র) ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করে। তবে তা সত্ত্বেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সরাসরি আঘাতে ২৯টি স্থান মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আরও ৯টি স্থানে ধ্বংসাবশেষ এসে পড়ে।

দেখুন ভিডিও

Scroll to load tweet…

হামলার মূল বিবরণ ও অস্ত্রের ধরন:

অস্ত্রের ব্যবহার: রাশিয়া এই হামলায় ওনিক্স (Oniks) অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র, ইস্কান্দার-এম, এস-৪০০, এবং কেএন-২৩ ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও খ-১০১ (Kh-101) এয়ার-লঞ্চড ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে।

জেট-চালিত ড্রোন:প্রায় ১৬৬টি শাহেদ-টাইপ (Shahed) অ্যাটাক ড্রোনের পাশাপাশি একাধিক ভুয়া বা ডিকয় (Decoy) ড্রোন মোতায়েন করে রুশ বাহিনী। এসব ড্রোনের অর্ধেকেরও বেশি ছিল গতিশীল জেট-চালিত।

আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিরোধ: ইউক্রেনের বিমান বাহিনী, অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট মিসাইল ইউনিট, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এবং মোবাইল ফায়ার গ্রুপ একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তারা মোট ১৭৫টি শূন্য লক্ষ্যবস্তু ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়। এর মধ্যে ১৪২টি ড্রোন, ৩১টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২টি ব্যালাস্টিক/অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি: ইউক্রেনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের প্রতিরোধ গড়লেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে দেশজুড়ে ২৯টি স্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আরও ৯টি স্থানে গিয়ে পড়ে।

কিয়েভের পরিস্থিতি: রাজধানীতে অন্তত ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১০ জন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিয়েভের অন্তত ৫টি ডিস্ট্রিক্ট ও ১৬টি এলাকায় বেসামরিক পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত ও অগ্নিদগ্ধ হয়। একাধিক আবাসিক ভবন, একটি স্কুল, গুদামঘর এবং বহু যানবাহন পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত আবাসনগুলোতে বহু মানুষ আটকা পড়েছিলেন, যাদের পরে জরুরি উদ্ধারকারী দল উদ্ধার করে। অন্যান্য অঞ্চল- ওডেসা: ড্রোনের আঘাতে একটি সাধারণ বাজারে আগুন ধরে যায় ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। খারকিভ: বহু তলা বিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ২ জন আহত হন। সুমি অঞ্চল: কিয়েভ-সুমি রুটের একটি চলন্ত ট্রেনের লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিনে রেল স্টেশনে থাকা অবস্থায় হামলা চালানো হয়। অন্যান্য এলাকা: জাপোরিজিয়া, দ্নিপ্রোপেত্রোভস্ক সহ অন্যান্য অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।

কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক প্রভাব: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ সম্প্রতি শান্তি আলোচনার নতুন উদ্যোগ নিয়ে কিয়েভ সফর করেছিলেন। তাঁদের সফরের সময় তিন দিন কিয়েভে আক্রমণ বন্ধ রাখা হয়েছিল, তবে এই হামলার মাধ্যমে সেই সাময়িক বিরতির অবসান ঘটাতে চাইল মস্কো। ভয়াবহ এই আক্রমণের প্রভাব সীমান্ত ছাড়িয়ে প্রতিবেশী পোল্যান্ডেও গিয়ে পড়ে। পোল্যান্ড নিজ দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় জরুরিভিত্তিতে সামরিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে।

কী বললেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি মিত্র দেশগুলোর কাছে জরুরি ভিত্তিতে আরও ইন্টারসেপ্টর মিসাইল সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। জরুরি উদ্ধারকারী কর্মীরা সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার ও আগুন নেভানোর কাজ চালিয়েছেন।