জীবনতলা শ্যুটআউটে বিজেপি-র দিকে অভিযোগের আঙুল তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার অভিযোগ, এলাকায় খুনের রাজনীতি করতে ভাড়াটে খুনি নিয়ে এসেছিল বিজেপি। যদিও, শওকত মোল্লার এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিজেপি নেতৃত্ব। তারা এই গুলি চালনার ঘটনার জন্য পাল্টা তৃণমূলের ঘাড়েই দায় চাপিয়েছে। বিজেপি-র অভিযোগ, 'শওকত মোল্লা নিজেকে একবার দেখুন। খুনের রাজনীতি করা বিজেপি-র সংস্কার নয়। সকলেই জানে, এই এলাকায় ভেড়ি দখল থেকে শুরু করে তোলাবাজি নিয়ে সারাক্ষণ নিজেদের মধ্যে খুনোখুনি করে তৃণমূল কংগ্রেস। একে অপরকে গুলি করা এদের কাছে জলভাত। আর শওকত মোল্লা যেখানে বারবার দাবি করে এসেছেন, তাঁর এলাকায় বিরোধীদের কোনও অস্তিত্ব নেই। বিজেপি-র কিছুই করার ক্ষমতা নেই। সেখানে বিজেপি কোথায় থেকে এই ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস দেখাবে। এটা পুরোপুরি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তদ্বন্দ্বের ফল।' 

আরও পড়ুন, আজ নবান্নে মমতা- বিনয় তামাংদের বৈঠক, জট কাটিয়ে হবে কি জোট

 

 

এফোঁড়ওফোঁড় হয়ে গিয়েছে গুলিতে

রাজনৈতিক এই চাপান উতোর-এর মধ্যে উত্তেজনার মাত্রা এখন চরমে জীবনতবার কুড়িভাঙা এলাকায়। গুলিবিদ্ধ তিন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তিন জনের শরীর থেকে গুলি বের করা হলেও ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এঁদের নাম মাজেদ গাজি মোসলেম আলি মোল্লা এবং আলমগীর গাজি। একজনের ফুঁসফুঁস-এর পাশ ঘেঁষে এফোঁড়ওফোঁড় হয়ে গিয়েছে গুলি। আর অন্যজনের পেটে গুলি লেগেছে। অপর একজনের উরুতে গুলির আঘাত লেগেছে। 

আরও পড়ুন, কলকাতার বাতাসে হিমেশ পরশ, জাঁকিয়ে শীত পড়বে কবে, কী বলল হাওয়া অফিস

 

নয়ানজুলিতে ছুড়ে ফেলে দেয়

 

এদিকে, অভিযুক্ত তিন দুষ্কৃতীকে মঙ্গলবার সকালে জীবনতলার গোবিন্দপুর মোড় থেকে ধরা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা এবং তৃণমূলকর্মীরা এলাকা ঘিরে রেখেছিলেন। সেই ব্যারিকেডে ধরা পড়ে যায় এই তিন দুষ্কৃতী। জানা গিয়েছে, এদিন সকালে তৃণমূলকর্মীরা খবর পান তিন দুষ্কৃতী একটি মোটরভ্যানে করে গোবিন্দপুর এলাকা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছে। এরপর সেখানে ব্যারিকেড তৈরি করে স্থানীয় মানুষ। প্রথমে একটি অটোকে আটকানো হয়। কিন্তু, সেখানে তিন জনকে পাওয়া যায়নি। এরপরই পিছনে মোটর ভ্যানে অভিযুক্ত তিনজনকে দেখতে পান স্থানীয়রা। লাঠিসোটা নিয়ে অভিযুক্তদের উপর চড়াও হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তিন জনকে বেঁধে ফেলা হয়। উদ্ধার করা হয় একটি ওয়ান শাটার বন্দুক এবং নাইন এমএম ম্যাগাজিন। এছাড়াও উদ্ধার হয় প্রচুর কার্তুজ। স্থানীয়রা জানিয়েছে, এক অভিযুক্তের কাছে আরও দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। কিন্তু, ধস্তাধস্তির সময় সে ওই আগ্নেয়াস্ত্রগুলি পাশের নয়ানজুলিতে ছুড়ে ফেলে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ওই আগ্নেয়াস্ত্রগুলি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন, 'রাজ্য সরকারের আসল রূপ সামনে আনব', বিমানবন্দরে নেমেই বিস্ফোরক কৈলাশ বিজয় বর্গীয়


কীভাবে ঘটল গুলি চালানোর ঘটনা

জীবনতলার কুড়িভাঙার স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সোমবার সকালেই এলাকার দুই প্রভাবশালী তৃণমূলকর্মী মাজেদ গাজি মোসলেম আলি মোল্লা এবং আলমগীর গাজি-র ফোনে আসছিল। এই ফোনগুলিতে সংবাদপ্রেরক জানায় এলাকার একটি বাড়িতে তিন সন্দেহভাজনকে দেখা গিয়েছে। এদের আচার-আচরণ এবং গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এমনকী এদের কাছে আগ্নয়াস্ত্র রয়েছে বলেও বিকেলে একটি ফোনকলে দাবি করা হয়। এরপরই মাজেদ গাজি মোসলেম আলি মোল্লা এবং আলমগীর গাজি এলাকার মানুষকে জড়ো করে তিন বহিরাগতের  আশ্রয়দাতার খোঁজে বের হন। রাত সাতটা নাগাদ ওই বাড়িটি খুঁজে বের করা হয়। বাড়িওয়ালা তিন জন বহিরাগত আসার খবর স্বীকার করে নিলেও, তারা কোথা এসেছে সে সম্পর্কে কোন তথ্য দিতে পারেনি। 

 

 

 ছুটে আসতে থাকে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি

বাড়ির মালিক এও জানায় যে রাতের খাবার নিয়ে ওই তিনজন পিছনের ভেড়ের উপরে থাকা মাচার একটি ঘরে গিয়েছে। এরপর মাজেদ গাজি মোসলেম আলি মোল্লা এবং আলমগীর গাজি লোকজন নিয়ে ভেড়ের দিকে অগ্রসর হন। ভেড়ির সেই ঘরের দিকে এগোতে এগোতেই জিজ্ঞেস করা হয় সেখানে কারা রয়েছে, তারা বাইরে বেরিয়ে আসুক। কিন্তু এর বদলে ছুটে আসতে থাকে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি। মুহূর্তে ছত্রখার হয়ে যায় দলটি। গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুঠোতে থাকে মাজেদ গাজি মোসলেম আলি মোল্লা, আলমগীর গাজি এবং আরও একজন। এই হইচই-এর সুযোগ নিয়েই ভেড়ি জলের মধ্যে দিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। রাতেই গুলিবিদ্ধ তিন জনকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।