আমরা ফলটি খেয়ে খোসাটা সাধারণত ফেলেই দিই। জানলে অবাক হবেন, কমলালেবুর খোসায় ফলের চেয়েও বেশি পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং পুষ্টিগুণ থাকে, যা আপনার ত্বকের ভোল বদলে দিতে পারে।
কমলালেবুর খোসা ত্বকের যত্নে দারুণ উপকারী, কারণ এতে আছে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান; এটি ত্বক উজ্জ্বল করতে, ব্রণ কমাতে ও মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে—এর জন্য খোসা শুকিয়ে গুঁড়ো করে মধু, দই বা গোলাপজল মিশিয়ে ফেসপ্যাক, টোনার বা স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
কমলালেবুর খোসা গুঁড়ো করার পদ্ধতি:
১. কমলালেবুর খোসা ছাড়িয়ে ভেতরের সাদা অংশটুকু যতটা সম্ভব চেঁছে ফেলে দিন।
২. খোসাগুলো পরিষ্কার করে রোদে বা ছায়ায় ভালোভাবে শুকিয়ে নিন, যতক্ষণ না শক্ত ও ভঙ্গুর হয় (৪-৫ দিন লাগতে পারে)।
৩. শুকনো খোসা মিহি গুঁড়ো করে একটি এয়ারটাইট কৌটায় সংরক্ষণ করুন।
ত্বকের যত্নে ব্যবহারের উপায়:
* ফেসপ্যাক: ২ চামচ খোসার গুঁড়োর সাথে ১ চামচ মধু ও ১ চামচ টক দই মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি কালো ছোপ দূর করে উজ্জ্বলতা আনে।
* ব্রণর জন্য: তাজা কমলার খোসা মসুর ডালের সাথে বেটে লাগান অথবা খোসার গুঁড়ো গোলাপজল ও একটু হলুদ মিশিয়ে ব্যবহার করুন। এটি ব্রণ ও ব্রণের দাগ কমাতে সাহায্য করে।
* স্ক্রাব: খোসার গুঁড়ো সামান্য জল বা গোলাপজল মিশিয়ে আলতো করে মুখে ম্যাসাজ করুন। এটি মৃত কোষ দূর করে ত্বক মসৃণ করে।
* টোনার: এক কাপ জলে কমলার খোসা সেদ্ধ করে সেই জল ঠান্ডা করে ছেঁকে টোনার হিসেবে ব্যবহার করুন। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করে।
* উজ্জ্বলতা বাড়ানোর প্যাক: খোসার গুঁড়োর সাথে মুলতানি মাটি, সামান্য হলুদ ও দুধ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
* সর্বদা জৈব (organic) কমলালেবু ব্যবহার করার চেষ্টা করুন, যাতে কীটনাশকের প্রভাব কম থাকে।
* প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য তাজা খোসা ব্যবহার করতে পারেন অথবা শুকনো গুঁড়ো সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।
* প্রথমবার ব্যবহারের আগে কানের পেছনে বা কনুইতে সামান্য লাগিয়ে দেখে নিন অ্যালার্জি হয় কিনা।


