বৃষ্টির সময়ে কাকভেজা ভিজে এসে আদা-চায়ের স্বাদ স্মৃতি কার না রয়েছে? কিন্তু শুধুই  বৃষ্টি-বাদলার দিনে নয়,  প্রতিদিনই একটুখানি আদা আমাদের প্রত্য়েকেরই খাওয়া উচিত। কারণ এতে রয়েছে অনেক গুণ।

১০০ গ্রাম আদা থেকে পাওয়া যায় ৮০ ক্য়ালোরি। ১০০ গ্রাম আদায় টোট্য়াল ফ্য়াট থাকে ০.৮ গ্রাম, যার মধ্য়ে স্য়াচুরেটেড ফ্য়াট ০.২ গ্রাম, পলিআনস্য়াচুরেটেড ফ্য়াট ০.২ গ্রাম, মনোআনস্য়াচুরেটেড ফ্য়াট ০.২ গ্রাম। সোডিয়াম থাকে ১৩ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৪১৫ মিলিগ্রাম, টোটাল কার্বোহাইড্রেট ১৮ গ্রাম। প্রোটিন ১.৮ গ্রাম থাকে আদায়। এছাড়াও থাকে ক্য়ালশিয়াম, আয়রন, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-বি৬ ও ম্য়াগনেশিয়াম।

আদাতে থাকে বায়োঅ্য়াকটিভ কমপাউন্ড জিনজেরল। যার রীতিমতো ঔষধী গুণ আছে। অ্য়ান্টি ইনফ্লেমেটরি ও অ্য়ান্টি অক্সিডেন্ট গুণাবলী থাকে এই জিনজেরলে। বমিবমি ভাবে খুব উপকার দেয় আদা। সি-সিকনেসে ভাল কাজ দেয় আদা। সার্জারি বা কেমোথেরাপির পর রোগী যদি বমি করেন, তাহলে বমি বন্ধ করার একটি প্রাকৃতিক উপাদান হল আদা। গর্ভবতী মহিলাদের মর্নিং সিকনেসেও কাজে দেয় আদা। ১ থেকে ১.৫ গ্রাম আদা বিভিন্ন ধরনের বমি কমাতে সাহায্য় করে। ব্য়ায়াম করার ফলে যে পেশিতে ব্য়থা হয়, তা কমাতেও সাহায্য় করে আদা। দেখা গিয়েছে, ব্য়ায়াম করার ফলে যাঁদের পেশির ব্য়থা হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে কয়েকগ্রাম আদা ভীষণ ভাল কাজে দেয়।

অস্টিও আর্থারাইটিস একটি সাধারণ সমস্য়া। এর ফলে যে গাঁটে ব্যথা হয়, সেই ব্যথা ও জড়তা কমাতে কাজে দেয় আদা। ব্লাড সুগার কমাতে খুব ভাল কাজে দেয় আদা।  ২০১৫ সালের এক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, টাইপ-টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ৪১ জন রোগীকে রোজ ২ গ্রাম করে আদার গুঁড়ো দেওয়ার ফলে তাদের ফাস্টিং ব্লাড সুগার কমেছে ১২ শতাংশ। টাইপ-টু ডায়াবেটিকে যাঁরা আক্রান্ত তাঁদের হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি কমায়। পেটে ব্য়থা ও অস্বস্তি কমাতে ভাল কাজে দেয় আদা। মহিলাদের মাসিক থেকে ব্য়থা হয়, তা কমাতে সাহায্য় করে আদা। রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড ও এলডিএল কোলেস্টেরল কমাতে বিশেষ ভূমিকা নেয় আদা। ক্য়ানসার প্রতিরোধে কাজ করে আদায় থাকা ' সিক্স জিনজেরল'। বয়স্কদের বার্ধক্য়জনিত যে মস্তিষ্কের ক্ষয় হয় তার থেকে রক্ষা করতেও কাজে দেয় আদা। জিনজিভাইটিস, পেরিঅডনটাইটিসের মতো মাড়ির অসুখে, রেসপিরেটরি ইনফেনের মতো নানান সংক্রমণে কাজ দেয় আদা।