সুইমিং পুলের ক্লোরিন জল আর রোদের কারণে বাচ্চাদের ত্বকে যে ট্যান পড়ে, তা দূর করতে কেমিক্যালযুক্ত পণ্য ব্যবহার করা উচিত নয়। এর পরিবর্তে দই-ওটস, কাঁচা দুধ বা বেসনের প্যাকের মতো নিরাপদ ও সহজ ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করে ত্বকের স্বাভাবিক রঙ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
গরমের ছুটিতে আপনার বাচ্চাও কি সুইমিং পুলে খুব মজা করেছে? কিন্তু তারপরই খেয়াল করলেন যে রোদে আর পুলের ক্লোরিন জলে ওর ত্বক আগের চেয়ে ২-৩ শেড কালো লাগছে? বাচ্চাদের ত্বক খুব নরম আর সংবেদনশীল হয়, তাই ট্যান তোলার জন্য ব্লিচ বা কেমিক্যালযুক্ত কোনও জিনিস ব্যবহার করা একদমই উচিত নয়। বরং কিছু সহজ আর নিরাপদ ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করে ধীরে ধীরে ওর ত্বককে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যেতে পারে।

কীভাবে বাচ্চাদের সুইমিংয়ের ট্যান দূর করবেন?
১. দই আর ওটসের প্যাক
বাচ্চাদের স্কিনের জন্য দই আর ওটস খুব হালকা আর নিরাপদ। প্যাকটা বানানোর জন্য ২ চামচ টক দই নিন। তাতে ১ চামচ ওটস গুঁড়ো মিশিয়ে একটা পেস্ট তৈরি করুন। ট্যান হওয়া জায়গায় ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর হালকা হাতে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এটা ত্বককে নরম রাখে আর ধীরে ধীরে ট্যান কমাতে সাহায্য করে।
২. কাঁচা দুধ আর তুলো ব্যবহার করুন
কাঁচা দুধ ত্বককে ঠান্ডা করে আর পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এর জন্য ঠান্ডা কাঁচা দুধে তুলো ভিজিয়ে নিন। সুইমিংয়ের ফলে ট্যান হওয়া জায়গায় ১০-১৫ মিনিট ধরে রাখুন। শুকিয়ে গেলে সাধারণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
৩. টমেটো আর কফি পাউডারের প্যাক
টমেটোতে ভিটামিন সি থাকে, যা স্কিনের রঙ সমান করতে সাহায্য করে। এটা বানানোর জন্য ২ চামচ টমেটোর রস নিন। তাতে আধা চামচ কফি পাউডার মেশান। ট্যান হওয়া অংশে ১০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর হালকা হাতে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ বার এটা ব্যবহার করতে পারেন।
৪. বেসন, দই আর হলুদের প্যাক
এই ঘরোয়া টোটকাটা বহু পুরনো আর খুব জনপ্রিয়। এটা বানানোর জন্য ১ চামচ বেসন, ১ চামচ দই আর এক চিমটে হলুদ মিশিয়ে একটা পেস্ট তৈরি করুন। ত্বকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর হালকা হাতে স্ক্রাব করে ধুয়ে ফেলুন।
৫. ডায়েটে ভিটামিন সি যোগ করুন
বাচ্চাদের রোজকার খাবারে ভিটামিন সি-ভরপুর ফল আর সবজি রাখুন। যেমন কমলালেবু, মুসাম্বি, কিউই, পেঁপে, শসা আর টমেটো। এর সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল আর ডাবের জলও খাওয়ান, যাতে ত্বক ভেতর থেকে হাইড্রেটেড থাকে।
এই জিনিসগুলো ব্যবহার করবেন না
বাচ্চাদের নরম ত্বকে কখনও সরাসরি লেবু, বেকিং সোডা, ব্লিচ, বা খুব কড়া স্ক্রাব ব্যবহার করবেন না। এই ধরনের জিনিস থেকে ত্বকে জ্বালা, অ্যালার্জি বা ক্ষতি হতে পারে।

