জাপানে তৈরি হয়েছে ‘হিউম্যান ফ্রিজ’। নাম Do Hiemon Box। প্রচন্ড গরমে মাত্র ৫ মিনিট দাঁড়ালেই শরীর ঠান্ডা। হিটস্ট্রোক আটকাতেই এই আবিষ্কার। তবে দাম জানলে অবাক হবেন।
এই গরমে বাইরে বেরোলেই মনে হয় শরীরে আগুন লেগেছে। এসি, কুলার, ফ্যান সব ফেল। জাপান এবার তার সমাধান বের করেছে একদম অন্যরকম ভাবে। তারা বানিয়ে ফেলেছে *‘হিউম্যান ফ্রিজ’*।
নাম শুনেই বুঝতে পারছেন এটা কী জিনিস। হ্যাঁ, একদম ফ্রিজের মতো দেখতে একটা বুথ। কিন্তু এর মধ্যে রাখা হয় না জল বা সবজি। এর মধ্যে ঢোকানো হয় মানুষকে। আর মাত্র কয়েক মিনিটেই মানুষকে ঠান্ডা করে বের করে দেয়।
*এটা আসলে কী? Do Hiemon Box*:
জাপানের SDRS নামের একটি কোম্পানি, যারা ফ্রিজ আর ভেন্ডিং মেশিন বানায়, তারাই এই বুথ তৈরি করেছে। বিক্রি করছে Trusco Nakayama নামের আরেকটি কোম্পানি। দেখতে হুবহু রাস্তার ধারের কোল্ড ড্রিংসের ভেন্ডিং মেশিনের মতো।
উচ্চতা প্রায় ২ মিটার, চওড়ায় ৯৩১ মিমি। ওজন ২৯৩ কেজি। তবে চিন্তা নেই, নিচে চাকা লাগানো আছে। তাই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গড়িয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। ইন্সটলেশনের কোনো ঝামেলাই নেই।
*ভেতরে গেলে কী হবে? কীভাবে কাজ করে?*
ধরুন আপনি রোদে কাজ করে এসেছেন। শরীর ঘেমে নেয়ে একদম শেষ। তখন এই বুথের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে চেয়ারে বসবেন।
বসার সাথে সাথেই খেলা শুরু। বুথের ভেতরের তাপমাত্রা আগে থেকেই ১৫°C তে সেট করা থাকে। আর আপনার মাথা, ঘাড়, কাঁধ আর পিঠ বরাবর ৫°C এর ঠান্ডা হাওয়া ছুটে আসবে।
কোম্পানির দাবি, *মাত্র ৫ মিনিটেই* আপনি অনেক আরাম বোধ করবেন। আর যদি ১০ মিনিট থাকেন, তাহলে হিটস্ট্রোক বা হিট এক্সহশনের যে প্রাথমিক লক্ষণগুলো থাকে সেগুলোও কমে যাবে। কারণ এটা শরীরের তাপমাত্রা খুব দ্রুত কমিয়ে দেয়।
ওভার-কুলিং আটকাতে ৩টি আলাদা কুলিং মোড দেওয়া আছে। আর ২০ মিনিট হয়ে গেলেই বুথ নিজে থেকে বন্ধ হয়ে যাবে। বিদ্যুতের খরচও নাকি সাধারণ স্পট এসির অর্ধেক।
*তাহলে দাম কত?*
এবার আসল কথায় আসি। এই আরামের দাম কিন্তু একদমই সাধারণ নয়।
*Do Hiemon Box-এর দাম: 1.5 মিলিয়ন + ট্যাক্স*
ভারতীয় টাকায় হিসাব করলে দাঁড়ায় প্রায় *₹55 লাখ থেকে ₹58 লাখ*।
ডলারে প্রায় *$9,230*।
তাই এটা এখনই আপনার-আমার বাড়ির জন্য নয়। জাপানে এটা মূলত কনস্ট্রাকশন সাইট, বড় ফ্যাক্টরি, ওয়্যারহাউস, স্কুল, শপিং মল আর আউটডোর ইভেন্টের জন্য বানানো হয়েছে। যেখানে লোকজনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে কাজ করতে হয়। জাপানের Maebashi City Hall-এ সরকারি ব্যবহারের জন্য একটি ইউনিট ডোনেটও করা হয়েছে।
*এত দাম দিয়ে কেন কিনবে মানুষ?*
কারণ জাপানে গরম এখন ভয়াবহ আকার নিয়েছে। তাপমাত্রা ৪০°C পেরোলেই সরকার নতুন করে সতর্কতা জারি করছে। শুধু ১৫ জুলাই একদিনেই টোকিওতে ৪৮ জন মানুষ হিটস্ট্রোক নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কর্মীদের বাঁচাতে, প্রোডাক্টিভিটি ধরে রাখতে কোম্পানিগুলোর কাছে এটাই এখন ভরসা।
প্রযুক্তি কতদূর এগিয়েছে ভাবুন। ৫ মিনিটে মানুষ ঠান্ডা করার মেশিনও বাজারে চলে এসেছে। কিন্তু সমস্যা একটাই - দাম। দাম শুনে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের গরম কমার বদলে আরও বেড়ে যাবে। তবে আশা করা যায়, ভবিষ্যতে এর ছোট ও সস্তা ভার্সন বাজারে আসবে। তখন হয়তো আমরাও ৫ মিনিটে গরমকে টাটা বলতে পারব।


