সকালে উঠে চা-বিস্কুট না, 1 গ্লাস ছাতুর শরবত খান। গরমে পেট ঠান্ডা, গ্যাস-অম্বল গায়েব, পেট ভরা, এনার্জি ফুল। ছাতু হল ‘গরিবের প্রোটিন’। লোহা, ক্যালসিয়াম, ফাইবারে ঠাসা। সুগার পেশেন্ট, ডায়েটে থাকা মানুষ, জিম করা ছেলে—সবার জন্য বেস্ট।
সকালে উঠেই শরীর ম্যাজম্যাজ। পেট ফাঁপা, গ্যাস, পায়খানা ক্লিয়ার না। অফিসে গিয়েই ঘুম পায়। ব্রেকফাস্টে পরোটা-তরকারি খেলে ভাতঘুম। আবার না খেলে 11টায় মাথা ঘোরে। এই গরমে সলিউশন একটাই: ছাতুর শরবত। বিহার-UP-এর লোকেরা এটা খেয়েই 45 ডিগ্রিতে মাঠে কাজ করে। আমরা ভাবি ছাতু মানে গরিবের খাবার। ভুল। এটা ন্যাচারাল প্রোটিন শেক। দামে কম, মানে সেরা। শুধু বানাতে জানতে হবে। নাহলে গলা দিয়ে নামবে না। আজ টেস্টি বানানোর সিক্রেট দিলাম।

*রোজ সকালে ছাতু খেলে শরীরে কী কী ম্যাজিক হয়*
*১. পেট ঠান্ডা, গ্যাসের যম:* ছাতু শরীরের ভিতর ঠান্ডা রাখে। গরমে পেট গরম, টক ঢেকুর, অম্বল? ছাতু হজম শক্তি বাড়ায়। ফাইবার বেশি, তাই পেট পরিষ্কার হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য পালায়।
*২. ইনস্ট্যান্ট এনার্জি + পেট ভরা:* 100 গ্রাম ছাতুতে 20 গ্রাম প্রোটিন। ডিমের ডাবল। সাথে কমপ্লেক্স কার্ব। তাই আস্তে আস্তে এনার্জি রিলিজ হয়। 1 গ্লাস খেলে 3-4 ঘণ্টা খিদে পাবে না। ভাত-রুটি কম খাবেন। ওজন কমবে।
*৩. সুগার কন্ট্রোল:* ছাতুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। মানে সুগার হুট করে বাড়ায় না। ডায়াবেটিস রোগী চিনি ছাড়া নুন-লেবু দিয়ে খান। ইনসুলিন স্পাইক হবে না। ডাক্তারও মানা করে না।
*৪. লু থেকে বাঁচায়:* গরমে ঘাম হয়ে শরীর থেকে নুন-জল বেরিয়ে যায়। ছাতু শরীরে জল ধরে রাখে। ডিহাইড্রেশন, হিট স্ট্রোক, মাথা ঘোরা হবে না। লেবার, ডেলিভারি বয়, ট্রাফিক পুলিশ—সবার জন্য মাস্ট।
*৫. ত্বক-চুলের জন্য ভালো:* আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম আছে। রক্ত বাড়ে, হাড় শক্ত হয়। রোজ খেলে চুল পড়া কমে, স্কিন গ্লো করে।
*রাস্তার দোকানের মতো টেস্টি ঝাল ছাতুর শরবত: 2 মিনিটের রেসিপি*:
ছাতু 3 চামচ, ঠান্ডা জল 1 গ্লাস, পাতি লেবুর রস হাফটা, পেঁয়াজ কুচি 1 চামচ, কাঁচা লঙ্কা কুচি হাফটা, ধনে পাতা কুচি 1 চামচ, ভাজা জিরে গুঁড়ো হাফ চামচ, বিট নুন হাফ চামচ, সাধারণ নুন স্বাদমতো, সরষের তেল 4-5 ফোঁটা সিক্রেট।
*বানানোর পদ্ধতি:*
*স্টেপ ১:* একটা গ্লাসে 3 চামচ ছাতু নিন। প্রথমে 4 চামচ জল দিয়ে ভালো করে গুলে নিন। দলা যেন না থাকে। স্মুদ পেস্ট বানান। একসাথে সব জল দিলে দলা পাকাবে, টেস্টি হবে না।
*স্টেপ ২:* এবার বাকি জল ঢেলে দিন। পাতলা বা ঘন আপনার পছন্দ। লেবুর রস, বিট নুন, সাধারণ নুন, ভাজা জিরে গুঁড়ো দিন।
*স্টেপ ৩:* পেঁয়াজ কুচি, কাঁচালঙ্কা কুচি, ধনে পাতা দিন। শেষে 4-5 ফোঁটা সরষের তেল দিন। এটাই রাস্তার দোকানের সিক্রেট টেস্ট। চামচে গুলে নিন।
*স্টেপ ৪:* উপরে বরফ দিয়ে খান। আহা! টক-ঝাল-নোনতা। একবার খেলে রোজ খেতে চাইবেন।
*মিষ্টি ছাতুর শরবত: বাচ্চারা চেটেপুটে খাবে:*
ঝাল খেতে না পারলে মিষ্টি বানান। 3 চামচ ছাতু, 1 গ্লাস ঠান্ডা জল বা দুধ, 2 চামচ গুড় বা চিনি, এক চিমটে এলাচ গুঁড়ো। সব গুলে নিন। উপরে কাজু-কিসমিস দিন। প্রোটিন শেক রেডি। জিমের পর খান। সুগার পেশেন্ট গুড়-চিনি বাদ দিয়ে সুগার ফ্রি দিন।
*কখন খাবেন, কতটা খাবেন, কারা খাবেন না*:
*বেস্ট টাইম:* সকালে খালি পেটে। ব্রেকফাস্টের বদলে খান। বা সকাল 11টায়। ভরা পেটে বা রাতে খাবেন না। হজম হতে টাইম নেয়। রাতে খেলে গ্যাস হবে।
*কতটা খাবেন:* দিনে 1 গ্লাস। 3-4 চামচ ছাতু এনাফ। বেশি খেলে পেট ভার, কনস্টিপেশন হতে পারে।
*কারা খাবেন না:* কিডনিতে স্টোন থাকলে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে খান। ছাতুতে ক্যালসিয়াম বেশি। যাদের কোল্ড-কাফের ধাত, তারা রাতে খাবেন না। ঠান্ডা লেগে যাবে।
*কোন ছাতু কিনবেন:* বাজারে বার্লি, ছোলা, যবের ছাতু পাওয়া যায়। ছোলার ছাতু সবচেয়ে ভালো। প্রোটিন বেশি। নিজে ভেজে গুঁড়ো করলে বেস্ট। না হলে ভালো ব্র্যান্ডের প্যাকেট কিনুন।
চা-কফি-কোল্ড ড্রিংকস ছাড়ুন। রোজ সকালে ছাতুর শরবত ধরুন। 20 টাকা কেজি ছাতু। 1 মাসের এনার্জি। পেটের রোগ, গরমের ক্লান্তি, ওজন—সব কন্ট্রোল হবে।


