Parenting Tips: ভাঙা খেলনা ছাড়তে না চাওয়া শিশুর কাছে সেটা শুধু বস্তু নয়, নিরাপত্তার প্রতীক। এটা সাময়িকভাবে মানসিক সান্ত্বনা দেয়, কিন্তু অতিরিক্ত নির্ভরতা হলে শিশু পরিবর্তন মেনে নিতে বা নতুন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে সমস্যা করতে পারে। জোর না করে ধীরে ধীরে বোঝানোই সেরা উপায়। বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…
Parenting Tips: ছোট বাচ্চাদের কাছে খেলনা শুধু খেলার জিনিস নয়, এটা তাদের নিরাপত্তা আর সান্ত্বনার উৎস। তাই ভেঙে গেলেও অনেক শিশু সেই খেলনা ছাড়তে চায় না। এটা দেখে অনেকে বিরক্ত হন বা ভাবেন শিশু জেদি হচ্ছে। আসলে এর পেছনে আছে শিশু মনোবিদ্যার একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক।
কেন এমন হয়
৩ থেকে ৬ বছর বয়সে শিশুদের মধ্যে "ট্রানজিশনাল অবজেক্ট" তৈরি হয়। এটা হতে পারে খেলনা, কম্বল বা বালিশ। এই বস্তুটার সঙ্গে শিশু একটা আবেগের বন্ধন তৈরি করে। মা-বাবা পাশে না থাকলেও খেলনাটা ধরে রাখলে সে নিজেকে নিরাপদ মনে করে। ভেঙে গেলেও সেই বন্ধন সহজে ছিন্ন হয় না। কারণ শিশুর কাছে এটা শুধু প্লাস্টিক নয়, এটা তার স্মৃতি, অভ্যাস আর মানসিক ভরসা।
জীবনে কী প্রভাব পড়তে পারে
স্বল্পমেয়াদে এই অভ্যাস শিশুকে মানসিক স্থিরতা দেয়। নতুন পরিবেশ বা স্কুলে গেলে খেলনাটা তার উদ্বেগ কমায়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে যদি শিশু অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে তাহলে সমস্যা হতে পারে। সে পরিবর্তন মেনে নিতে পারবে না। নতুন পরিস্থিতি, নতুন বন্ধু বা নতুন জিনিসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ভয় পাবে। বড় হয়ে তার মধ্যে বিচ্ছেদের উদ্বেগ, অতিরিক্ত মালিকানাবোধ বা নিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হতে পারে।
বাবা-মায়ের করণীয়
জোর করে খেলনা ফেলে দিলে শিশুর মনে আঘাত লাগে আর বিশ্বাস নষ্ট হয়। বরং ধীরে ধীরে বোঝাও। বলো, "খেলনাটা ভেঙে গেছে, কিন্তু আমরা একসাথে ঠিক করার চেষ্টা করি"। বা তার পছন্দের মতো নতুন খেলনা এনে ধীরে ধীরে পুরনোটার জায়গা নিতে দাও। এতে শিশু ধীরে ধীরে বিচ্ছেদ মেনে নিতে শেখে।
মনে রাখবে, ৫-৬ বছর বয়স পর্যন্ত এটা স্বাভাবিক। এর পরেও যদি শিশু কোনো বস্তুর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল থাকে বা অন্য কিছুতে আগ্রহ না দেখায় তাহলে শিশু মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো। আবেগকে সম্মান দিয়ে ধীরে ধীরে ছেড়ে দেওয়ার অভ্যাসই শিশুর মানসিক বিকাশের আসল চাবিকাঠি।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


