হালকা আর আরামদায়ক বলে রোজ ক্রকস পরছেন? সাবধান। ডাক্তাররা বলছেন টানা ব্যবহারে পায়ের আর্চ থেকে শুরু করে হাঁটু-কোমর পর্যন্ত সমস্যা হতে পারে। শিশুদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।
সকালে ঘুম থেকে উঠে অফিস, বাজার, স্কুল সব জায়গায় এখন একটাই জুতো - ক্রকস। হালকা, জল লাগে না, পায়ে চাপ দেয় না। তাই আরামও আছে প্রচুর। কিন্তু এই আরামের আড়ালেই লুকিয়ে আছে বড় বিপদ। ডাক্তাররা সাফ বলছেন, রোজ টানা ক্রকস পরলে আপনি নিজের অজান্তেই পায়ের স্থায়ী ক্ষতি করে ফেলছেন। আর শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টা আরও গুরুতর।
রোজ ক্রকস পরলে কী হয়?
ক্রকসের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এটার তলায় কোনও সাপোর্ট নেই। পুরো ফ্ল্যাট সোল। টানা এই ধরনের জুতো পরলে পায়ের স্বাভাবিক খিল বা আর্চ ধীরে ধীরে বসে যেতে থাকে। তার ফলে শুরু হয় গোড়ালি ব্যথা আর প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিসের মতো সমস্যা। শুধু তাই নয়, ক্রকস পায়ের সাথে ঠিক করে আটকায় না। হাঁটার সময় পা ভিতরে স্লিপ করে যায়। এতে গোড়ালি মোচড়ানো আর হোঁচট খাওয়ার ভয় থাকে সবসময়। আর প্রপার সাপোর্ট না থাকায় শরীরের ওজন ঠিক মতো পরে না। সেই চাপ গিয়ে পড়ে সোজা হাঁটু আর কোমরে। যারা লম্বা সময় দাঁড়িয়ে কাজ করেন তাদের ব্যথা আরও বাড়ে। খোলা ডিজাইনের জন্য ধুলো-ময়লা আর ঘামে নখে ফাঙ্গাস বা ফোস্কার সমস্যাও দেখা দেয়।
শিশুদের জন্য কেন আরও ডেঞ্জা
রাস?
বাচ্চাদের পায়ের হাড় এখনও তৈরি হচ্ছে। এই বয়সে ভুল জুতো পরলে পায়ের গঠনই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ক্রকস পরে দৌড়াদৌড়ি করলে ব্যালেন্স রাখতে পারে না ওরা। ফলে পড়ে গিয়ে চোট পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই স্কুল বা খেলার মাঠের জন্য ক্রকস একদমই নয়।
তাহলে কি ক্রকস বাদ?
একদম না। ক্রকস খারাপ নয়, ব্যবহারের নিয়মটা জানতে হবে। বাড়িতে ১-২ ঘণ্টা, বাথরুম বা পুলের ধারে পরার জন্য এটা পারফেক্ট। কিন্তু ৮ ঘণ্টা অফিস, লম্বা রাস্তা হাঁটা বা জিমের জন্য নয়। আর পরলে অবশ্যই পিছনের স্ট্র্যাপটা লাগাবেন। এতে পা স্লিপ করবে না।
ডাক্তার কী বলছেন?
ডাক্তারদের মতে ক্রকস হল একটা স্লিপার। রোজকার জুতো নয়। কাজ বা স্কুলের জন্য অবশ্যই আর্চ সাপোর্ট যুক্ত জুতো বেছে নিন। আরাম মানেই সবসময় ভালো নয়। মাঝে মাঝে ক্রকস ঠিক আছে। কিন্তু রোজকার সঙ্গী বানিয়ে ফেললে পরে পায়ের ডাক্তারের কাছেই দৌড়াতে হবে। নিজের আর শিশুর পায়ের যত্ন নিন।


