মন খারাপ আর মানসিক অবসাদ এক নয়। অনেক সময় আমরা বাইরে থেকে হাসিখুশি থাকলেও ভিতরে ভিতরে অবসাদে ভুগি। কিন্তু কীভাবে বুঝবেন এটা সাধারণ মন খারাপ নাকি ডিপ্রেশন? ইসকনের জনপ্রিয় বক্তা ও লেখক গৌরাঙ্গ দাস মহারাজ অবসাদের ৭টি সূক্ষ্ম লক্ষণ ও তা থেকে বেরিয়ে আসার সহজ আধ্যাত্মিক উপায় জানিয়েছেন।

আজকাল ডিপ্রেশন শব্দটা খুব সহজেই ব্যবহার করা হয়। পরীক্ষায় খারাপ ফল বা ব্রেকআপ হলেই আমরা বলি ডিপ্রেশনে আছি। কিন্তু ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন অনেক গভীর। গৌরাঙ্গ দাস প্রভু বলেন, মন হলো গাড়ির মতো, আর বুদ্ধি হলো ড্রাইভার। ড্রাইভার যদি ঘুমিয়ে পড়ে, গাড়ি খাদে পড়বেই। অবসাদ তখনই হয় যখন আমাদের বুদ্ধি মনের দাস হয়ে যায়।

অবসাদে ভুগছেন কীভাবে বুঝবেন? ৭টি লক্ষণ:

১. সবকিছুতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা:

আগে যে গান শুনতে, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে বা খেতে ভালোবাসতেন, এখন আর কিছুই ভালো লাগে না। কোনও কাজেই আনন্দ পান না। এটাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে Anhedonia বলে।

২. ঘুমের প্যাটার্ন বদলে যাওয়া:

হয় সারাদিন ঘুমাচ্ছেন, বিছানা থেকে উঠতেই ইচ্ছে করছে না, অথবা রাতের পর রাত ঘুমই আসছে না। দুটোই ডিপ্রেশনের বড় লক্ষণ।

৩. সবসময় ক্লান্ত লাগা ও এনার্জি না থাকা:

সারারাত ঘুমিয়েও মনে হচ্ছে শরীরে কোনও শক্তি নেই। ছোট কাজ করতেও হাঁপিয়ে যাচ্ছেন। গৌরাঙ্গ দাস বলেন, এটা শরীরের ক্লান্তি নয়, আত্মার ক্লান্তি।

৪. নিজেকে দোষী ভাবা ও আত্মসম্মান কমে যাওয়া:

"আমি কোনও কাজের নই", "সব দোষ আমার" - সারাক্ষণ নিজেকে ছোট মনে করা। ছোট ভুলকেও বড় করে দেখা।

৫. মনোযোগ দিতে না পারা:

বই পড়তে, কাজ করতে বা কারও কথা শুনতে মন বসাতে পারছেন না। একটা কথা ভাবতে ভাবতে কোথায় হারিয়ে যাচ্ছেন।

৬. খাওয়ার অভ্যাসে বড় পরিবর্তন:

হঠাৎ করে খুব বেশি খাওয়া শুরু করা বা একদম খেতে ইচ্ছে না করা। এর ফলে ওজন দ্রুত বাড়া বা কমা।

৭. ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও আশা না থাকা:

মনে হওয়া, "আমার দ্বারা কিছু হবে না, ভবিষ্যৎ অন্ধকার"। গৌরাঙ্গ দাস বলেন, যখন মানুষ ভবিষ্যতে আলো দেখতে পায় না, তখনই সে অন্ধকারে ডুবে যায়।

গৌরাঙ্গ দাসের পরামর্শ - কীভাবে বের হবেন?

তিনি ৩টি S ফর্মুলা দেন:

১. Sadhana (সাধনা): প্রতিদিন সকালে ১০ মিনিট জপ, ধ্যান বা প্রার্থনা। মনকে খালি রাখবেন না।

২. Sangha (সঙ্গ): পজিটিভ মানুষের সঙ্গে থাকুন। যারা আপনাকে বিচার না করে শোনে। একা থাকবেন না।

৩. Seva (সেবা): অন্যের জন্য কিছু করুন। একটা গাছে জল দিন, কাউকে সাহায্য করুন। যখন আপনি অন্যের মুখে হাসি ফোটান, আপনার ভিতরের অন্ধকার কাটে।

যদি এই লক্ষণগুলোর মধ্যে ৫টির বেশি ২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন মনোবিদের সাহায্য নিন। আধ্যাত্মিকতা ও চিকিৎসা - দুটোই একসাথে প্রয়োজন।