খালি পেটে ব্যায়াম করলে শরীরের সঞ্চিত ফ্যাট দ্রুত ঝরতে পারে, তবে এর কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ায় মাথা ঘোরা, বমি ভাব বা চোট লাগার আশঙ্কা থাকে এবং কর্টিসোল হরমোন বেড়ে গিয়ে ক্লান্তি আসতে পারে।

অনেকেই ভাবেন, সকালে উঠেই খালি পেটে ব্যায়াম করলে নাকি শরীরের চর্বি তাড়াতাড়ি ঝরে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হল, খালি পেটে ব্যায়াম করাটা কি আদৌ নিরাপদ? সাধারণভাবে খালি পেটে ব্যায়াম করা যেতেই পারে। তবে এর ফলে কারও কারও ক্ষেত্রে মাথা ঘোরা, বমি ভাব বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে।

রাতে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার পর আমরা যখন ঘুম থেকে উঠি, তখন লিভারে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন (জমা হওয়া কার্বোহাইড্রেট) অনেকটাই কমে যায়। ইনসুলিনের মাত্রাও থাকে খুব কম। এই অবস্থায় শরীরকে শক্তি জোগাতে মেটাবলিজম (বিপাকক্রিয়া) নিজেকে বদলে নেয় এবং দ্রুত শক্তির জন্য সঞ্চিত ফ্যাটি অ্যাসিডের ওপর বেশি নির্ভর করতে শুরু করে।

সাকেতের ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের আর্থ্রোস্কোপি অ্যান্ড স্পোর্টস মেডিসিনের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডঃ পুষ্পীন্দর সিং বাজাজ বলছেন, খালি পেটে খুব বেশি ইনটেনসিটির ব্যায়াম করলে সেরা পারফরম্যান্স দেওয়া কঠিন হতে পারে। এতে পেশিতে দ্রুত ক্লান্তি আসে এবং চোট লাগার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

খালি পেটে ব্যায়াম করলে কর্টিসোল, অর্থাৎ শরীরের প্রধান স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যায়। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব বা থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত চাপ দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির কারণ হতে পারে।

আরেকটা বিষয় হল, রক্তে শর্করার মাত্রা কম থাকলে ব্যায়াম করার সময় মাথা ঘুরতে পারে, বমি ভাব হতে পারে বা জ্ঞানও হারাতে পারেন। যদি সকালেই ব্যায়াম করতে পছন্দ করেন, তাহলে খুব হালকা ব্যায়াম করাই ভালো। ব্যায়ামের ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট আগে কার্বোহাইড্রেট-যুক্ত কোনও হালকা খাবার খেয়ে নিলে শক্তি বাড়বে।