Ganga Water: পুজোর ঘটে বা বাড়িতে বোতলে রাখা গঙ্গাজল বছরের পর বছর থাকলেও পচে না, গন্ধ হয় না। অথচ সাধারণ জল ২-৩ দিনেই নষ্ট হয়ে যায়। ধর্মীয় বিশ্বাসে একে 'অমৃত' বলা হলেও, এর পিছনে রয়েছে ৩টি বৈজ্ঞানিক কারণ যা শুনলে অবাক হবেন।
Ganga Water: সনাতন ধর্মে গঙ্গাজল ছাড়া কোনও শুভ কাজ হয় না। জন্ম থেকে মৃত্যু, পুজো থেকে আত্মশুদ্ধি— সর্বত্র গঙ্গাজল। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন, কলের জল বা পুকুরের জল বোতলে কয়েকদিন রাখলেই দুর্গন্ধ বেরোয়, শ্যাওলা পড়ে, পচে যায়, অথচ গঙ্গাজল বছরের পর বছর বোতলবন্দি থাকলেও একই রকম থাকে?
এটা শুধু বিশ্বাস নয়, এর পিছনে রয়েছে বিজ্ঞান।
১৮৯০-এর দশকে ভারতে যখন কলেরার মড়ক দেখা যায়, তখন প্রয়াগরাজের মাঘ মেলায় বহু মানুষের মৃত্যু হয় এবং গঙ্গার জলে মৃতদেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সত্ত্বেও দেখা যায় গঙ্গার জল ব্যবহারকারীদের অনেকে নিরাপদ ছিলেন।
১৮৯৬ সালে প্রকাশিত তাঁর গবেষণাপত্রে হানকিন জানান, কুয়োর জলে কলেরার মারাত্মক জীবাণু Vibrio cholerae দ্রুত বংশবৃদ্ধি করলেও, গঙ্গার জলে সেই জীবাণু ঢাললে মাত্র তিন ঘণ্টারও কম সময়ে তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়!
পরবর্তীকালে ফরাসি বিজ্ঞানী ফেলিক্স ডেল ডেরেল (Félix d’Hérelle) আবিষ্কার করেন এমন এক বিশেষ ধরনের ‘বান্ধব ভাইরাস’, যা মানুষকে ক্ষতি না করে কেবল ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ভক্ষণ করে মেরে ফেলে। তিনি নাম দেন ‘ব্যাকটেরিওফেজ’ (Bacteriophage)। নিজের বিখ্যাত বইয়ে ডেরেল স্পষ্ট উল্লেখ করেন, হানকিন গঙ্গাজলে যে অজানা ব্যাকটেরিয়ায় সন্ধান পেয়েছিলেন, তা আসলে এই ব্যাকটেরিওফেজ। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গঙ্গাজলে প্রায় ১,০০০ প্রজাতির ব্যাকটেরিওফেজ রয়েছে।
১. ব্যাকটেরিওফাজ - গঙ্গার রক্ষাকবচ
বিজ্ঞানীরা গঙ্গার জলে এক বিশেষ ভাইরাসের সন্ধান পেয়েছেন, যার নাম ব্যাকটেরিওফাজ (Bacteriophage)। এই ভাইরাস মানুষের ক্ষতি করে না, বরং জলের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। সাধারণ জলে ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করে জল পচিয়ে দেয়, কিন্তু গঙ্গাজলে ব্যাকটেরিওফাজ সেই ব্যাকটেরিয়াকে খেয়ে ফেলে। তাই জল পচে না। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী আর্নেস্ট হ্যাঙ্কিন ১৮৯৬ সালেই প্রথম এই গুণ লক্ষ্য করেন।
২. অতিরিক্ত অক্সিজেন ধরে রাখার ক্ষমতা
গবেষণায় দেখা গেছে, গঙ্গার জল সাধারণ জলের তুলনায় অনেক বেশি সময় ধরে দ্রবীভূত অক্সিজেন (Dissolved Oxygen) ধরে রাখতে পারে। অক্সিজেন বেশি থাকলে জলে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না। হিমালয় থেকে বয়ে আসার সময় বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদ ও খনিজের সংস্পর্শে এই গুণ পায় গঙ্গা।
৩. সালফার ও খনিজের উপস্থিতি
গঙ্গোত্রী থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত যাত্রাপথে গঙ্গা বহু খনিজ, বিশেষ করে সালফার সমৃদ্ধ শিলার ওপর দিয়ে বয়ে আসে। সালফার প্রাকৃতিকভাবে জীবাণুনাশক। এছাড়াও গঙ্গার জলে প্রচুর পরিমাণে জ্যান্থোমোনাস, সিউডোমোনাস-এর মতো উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে যা জলকে বিশুদ্ধ রাখে।
তাহলে কি গঙ্গাজল এখনও ১০০% বিশুদ্ধ?
এখানেই দুঃখের কথা। হিমালয়ের কাছাকাছি গঙ্গোত্রী, হরিদ্বারের জল এখনও অনেকটাই বিশুদ্ধ এবং দীর্ঘদিন ভালো থাকে। কিন্তু কলকারখানার বর্জ্য ও দূষণের কারণে কলকাতা বা তার আশেপাশের গঙ্গার জলে সেই গুণ অনেকটাই কমে গেছে। তাই পুজোর জন্য গঙ্গাজল সংগ্রহ করলে হরিদ্বার বা গঙ্গোত্রীর জলই সবচেয়ে ভালো বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।
বিশ্বাস ও বিজ্ঞান— দুই দিক থেকেই গঙ্গা তাই আজও অমৃত।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


